চট্টগ্রামে বিএনপির সংসদ সদস্য প্রার্থীর নির্বাচনী গণসংযোগের উপচে পড়া ভিড়ের মধ্যে প্রকাশ্য দিবালোকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে ঘাড় ঠেকিয়ে গুলি করে সন্ত্রাসী সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলাকে হত্যার আলোচিত ঘটনার এক বছর পূর্ণ হতে চললেও সেই পেশাদার ‘বাঁহাতি শুটার’ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার এবং বেশ কয়েকজনকে রিমান্ডে নিলেও মূল শুটারকে শনাক্ত কিংবা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি উদ্ধার করতে পারেনি তদন্তকারী সংস্থা।
ঘটনাটি ঘটেছিল গত বছরের ৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায়। চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপি প্রার্থী (বর্তমানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক) এরশাদ উল্লাহর সমর্থনে স্লোগান ও প্রচারপত্র বিতরণের সময় তাঁর পাশেই অবস্থান করছিলেন পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী সরোয়ার ওরফে বাবলা। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত তরুণ পেছন থেকে বাঁ হাতে পিস্তল বের করে বাবলার ঘাড়ে ঠেকিয়ে পরপর তিনটি গুলি চালায়। ভিডিও ফুটেজে এই বর্বরোচিত দৃশ্য ধরা পড়লেও শুটারের মুখ স্পষ্ট ছিল না।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং ঠান্ডা মাথার পেশাদার কাউকে দিয়ে ঘটানো হয়েছে। ঘটনাস্থল ও তার আশপাশের এলাকায় কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না; পরিকল্পিতভাবেই এমন এলাকা বেছে নেওয়া হয়েছিল যাতে শুটার নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পারে এবং তাকে শনাক্ত করা অসম্ভব হয়। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন আগেই বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর সহযোগী মো. রায়হান সরোয়ারকে ফোন করে হুমকি দিয়ে বলেছিল, “তোর সময় শেষ, যা খাওয়ার খেয়ে নে।”
বাবলার বাবা আবদুল কাদের বাদী হয়ে বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন। এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে সাজ্জাদ, রায়হান ও বোরহান এখনো পলাতক থাকলেও গত ২৯ আগস্ট ভারতে পালানোর সময় ডেভিড ইমন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ পর্যন্ত মোট ৩৯ জন গ্রেপ্তার হলেও তাদের ১০ জন বর্তমানে কারাগারে এবং বাকিরা জামিনে রয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত বাবলা একসময় বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। ২০১৬ সাল থেকে দুজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হলে বাবলা নিজের আলাদা বলয় গড়ে তোলেন এবং বায়েজিদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গুরু-শিষ্যের সংঘাত চরমে পৌঁছায়। এর আগে বাকলিয়া এক্সেস রোডে তাঁর গাড়িতে গুলি চালিয়ে দুই সহযোগীকে হত্যা করা হলেও বাবলা বেঁচে গিয়েছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দলীয় কোন্দলের অভিযোগ তোলা হলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে, দীর্ঘদিনের এলাকা দখল, পূর্ববিরোধ ও আধিপত্যের লড়াই থেকেই এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
























