তিন বছর অতিক্রান্ত হলেও এখনো রহস্যের জট খুলেনি জনপ্রিয় অভিনেত্রী হোমায়রা হিমুর মৃত্যুর। ২০২৩ সালের ২ নভেম্বর উত্তরার একটি হাসপাতালে তাঁর মরদেহ নেওয়ার পর থেকেই এই মর্মান্তিক ঘটনা শোবিজ অঙ্গনে গভীর শোক ও নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। মৃত্যুর কারণ নিয়ে শুরু থেকেই ধোঁয়াশা তৈরি হলেও দীর্ঘ তিন বছরেও সেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর মেলেনি।
ঘটনার দিন উত্তরার একটি হাসপাতালে হিমুর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রাথমিক অবস্থায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ চিকিৎসকদের নিকট স্পষ্ট ছিল না। পরবর্তীতে এ নিয়ে বিভিন্ন মহলে সন্দেহ ও আলোচনার সৃষ্টি হয়। মৃত্যুর পর দিনই অভিনেত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহের ভিত্তিতে একজনকে আইনের আওতায় আনা হয়।
১৯৮৫ সালের ২৩ নভেম্বর লক্ষ্মীপুরে জন্মগ্রহণ করেন হোমায়রা হিমু। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ ছিল। মাত্র দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি মঞ্চে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারের সূচনা করেন। স্থানীয় হাইফাই কৌতুক শিল্পগোষ্ঠী ও ফ্রেন্ডস নাট্যগোষ্ঠীর সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি।
নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষায় সাবলীল অভিনয় করে দর্শকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী। ‘সোনাঘাট’, ‘চেয়ারম্যান বাড়ি’, ‘বাটিঘর’, ‘শোনে না সে শোনে না’, ‘কমেডি-৪২০’, ‘চাপাবাজ’ ও ‘ছায়াবিবি’র মতো অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে অভিনয় করে তিনি প্রশংসিত হন।
২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আমার বন্ধু রাশেদ’ চলচ্চিত্রে ‘তরু’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড় পর্দায় তাঁর অভিষেক ঘটে।
তবে কর্মজীবনের শেষভাগে এসে কাজের সুযোগ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছিল। নাটকে ভিউ কম পাওয়ার অজুহাতে নির্মাতা ও প্রযোজকেরা তাঁকে আগের মতো কাস্টিং করছিলেন না, যা নিয়ে তাঁর মনেও আক্ষেপ ছিল।
অন্যদিকে, মা-বাবাকে হারিয়ে এই অভিনেত্রী তীব্র একাকিত্বে ভুগতেন বলে জানান তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরা।
হিমুর মৃত্যুর পর প্রাথমিকভাবে এটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবে সহকর্মীরা পাশে দাঁড়ালেও পরবর্তীতে নানা সংশয় দানা বাঁধে। অভিনয়শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকেও তখন ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের জোরালো দাবি জানানো হয়েছিল।
দীর্ঘ তিন বছর পরও হোমায়রা হিমুর আকস্মিক মৃত্যু নিয়ে সেই রহস্যের জাল কাটেনি। এই প্রতিভাবান অভিনেত্রীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আজও অপেক্ষা করে আছেন তাঁর অগণিত ভক্ত ও সহকর্মী।
























