সিন্ডারেলা বিড়াল পুষতে চায় জেনে ওর বোনেরা হেসে লুটোপুটি খায়। ওদের বাড়িভর্তি ইঁদুর এখন। সেলফে গোঁজা বই, খাটের নিচে গুঁজে রাখা রাজ্যের কেজো-অকেজো জিনিসপত্র সব কেটেকুটে কুটি কুটি করছে ইঁদুরের দল। একটা পুঁচকে ইঁদুর কী করে যেন মায়ের শাড়ির আলমারির ভেতরে ঢুকে গিয়েছিল। সিন্ডারেলা আলমারির নিচে ঝাড়ু দিতে গিয়ে খুটখাট শব্দ শুনতে পেয়েছিল বলে মায়ের বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। শেষ পর্যন্ত তাই সিন্ডারেলার ইচ্ছেপূরণে নিমরাজি হয়েছিলেন মা। ওদিকে বাড়িতে বিড়াল ঢোকানোর বদলে বাড়ির কর্তা কিনা একদিন একজন হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা ডেকে নিয়ে এলেন!
এই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার পরনে কিম্ভূত জোব্বা না থাকলেও কাঁধে ঝুলানো ঝোলায় ইঁদুর মারার কল ছিল, যেই কলে ধরা পড়ল সিন্ডারেলা। ওকে উদ্ধার করতে কোনো সাহায্যকারী বা রাজপুত্র কেউই এলো না। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার পিছু পিছু সিন্ডারেলাকে এমন এক শহরে আসতে হলো যেই শহরে মা নেই, বাবা নেই, বোনদের খুনসুটি নেই, এমনকি ইঁদুরের উৎপাতও নেই। শুধু হাতের কাছে ফোনটা ছিল বলে রক্ষে। একদিন ফোনে মেয়েদের গল্প শেষে মা জানায়, ওর ফেলে আসা শহরে ইঁদুরের উৎপাত কমেছে। তবে শেষদিন ওরা সিন্ডারেলার পড়ার টেবিলের ড্রয়ারে ফাইলের ভেতরে থাকা সার্টিফিকেটগুলোকে কেটে ঝুরঝুরে করে গেছে।
ওসব নিয়ে দুঃখ হয় না সিন্ডারেলার। বাগদা চিংড়িগুলোর ধড় আলাদা করে সিংকের ওপরে চুড়ো করে রাখতে রাখতে ওর মনে পড়ে যায়, চিংড়ি মাছে হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার অ্যালার্জি। একবার ভুল করে পুঁইশাক আর চিংড়ির চচ্চড়ি করেছিল। হ্যামিলন বাঁশিওয়ালা শাকের বাটিটা মেঝেতে ফেলে মাছ-শাকের উপরে সিন্ডারেলার মাথাটা ঠেসে ধরেছিল। তপ্ত শ্বাস ফেলতে ফেলতে গনগনে কণ্ঠে বলেছিল, ‘মেঝে থেকে বিড়ালের মতো সবটা চেটেপুটে খাবি।’
আজ কী করে খাবে কেজিখানেক চিংড়ি? নাকি ভ্যানওয়ালাকে ডাকবে আবার, বলবে এগুলো পাল্টে একটা তেলওয়ালা রুই মাছ দাও। কিন্তু অমন ধড়বিহীন মাছগুলোকে কেন ফেরত নেবে ভ্যানওয়ালা। নাকি এখনই মাছগুলোকে ও খেয়ে নেবে? মাছের উপরে নিমগ্ন মাছিগুলোকে দেখে আর খাওয়া হয় না সিন্ডারেলার। কালো পলিথিনে চিংড়িগুলো ভরে ঢাউস ফ্রিজের গভীরে ঢুকিয়ে দেয়। হঠাৎ ঘড়িতে চোখ পড়তেই সতর্ক হয়ে যায়, হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা ফেরার সময় হয়ে গেছে। ঘরে ফিরে সে কী করবে আজ? ঝোলা থেকেই বা কী বের করবে? ভেবে ভেবে মাছের তরকারিতে শেষ জ্বাল দিতে গিয়ে কড়াইয়ে তলায় ধরে যায়। ঠিক তখনই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা ছুটে আসে এবং ওর চুলের মুঠি ধরে ফেলে। পিঠ পেতে মার খেতে খেতে চমকে ওঠে সিন্ডারেলা, এ কি পায়ের কাছ দিয়ে একটা ধেড়ে ইঁদুর দৌড়ে গেল দেখি! এই বাড়িতেও তবে ইঁদুর আছে!


























