ঢাকা ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

হংকংয়ের মাঠে ভুল নয়, জয়ে চোখ বাংলাদেশের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩২:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

এএফসি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার কঠিন সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। চার দলের ‘সি’ গ্রুপে তিন ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ মাত্র এক পয়েন্ট। অন্যদিকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে হংকং টেবিলের শীর্ষে, সিঙ্গাপুর ৫ এবং ভারতের ঝুলিতে আছে ২ পয়েন্ট। বাছাইপর্বে বাংলাদেশের আর তিনটি ম্যাচ বাকি – হংকং ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ এবং ভারতের বিপক্ষে হোম ম্যাচ। চূড়ান্ত পর্বে টিকে থাকতে এই তিন ম্যাচেই জয় নিশ্চিত করতে হবে হামজা-জামালদের। তবে দলপতি জামাল ভূঁইয়া আশা ছাড়ছেন না, তার বিশ্বাস, টানা তিন ম্যাচে জয় পাওয়া অসম্ভব নয়।

আগামীকাল, ১৪ অক্টোবর, বাংলাদেশ তাদের পরবর্তী ম্যাচে স্বাগতিক হংকংয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে। এই ম্যাচ সামনে রেখে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়তি মাত্রা পেয়েছে গত ৯ অক্টোবর জাতীয় স্টেডিয়ামে হংকংয়ের বিপক্ষে করা পারফরম্যান্স থেকে। সেই ম্যাচে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও বাংলাদেশ যেভাবে দারুণ প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছিল, তা ছিল এককথায় অসাধারণ। শেষ মুহূর্তে গোল হজম না করলে ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকত। শেষ দিকে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, গোলরক্ষকের ভুল এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা দলকে ভুগিয়েছিল। তবে কোচ হাভিয়ের কাবরেরার দল এখন হংকংয়ের মাঠে ফিরতি ম্যাচে সেই ভুলগুলো আর করতে চায় না; তাদের লক্ষ্য হলো নির্ভুল ফুটবল খেলা।

হংকংয়ে খেলতে এসে অবশ্য বাজে অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হচ্ছে ফুটবলারদের। স্বাগতিক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দলকে টিম হোটেল থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বের মাঠে অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। মাঠের অবস্থাও খুবই নাজুক। শনিবার প্রথম দিনের মতো গতকালও অনুশীলনের জন্য ভালো মাঠ পায়নি বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে বাফুফের পাঠানো অডিও বার্তায় মিডফিল্ডার সোহেল রানা জানান, “আমরা এখানে এসেছি, এই ধরনের প্রতিকূলতা ফেস করতে হবে, সেই মানসিকতা নিয়েই আমরা এসেছি। অনুশীলনের জন্য যে মাঠ দিয়েছিল, সেটা আমাদের হোটেল থেকে এক ঘণ্টারও বেশি দূরে। আর মাঠের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম যে ওরা আমাদের সঙ্গে এমন করবে। আজও (গতকাল) একই অবস্থা। আমরা এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই নিচ্ছি। আমরা খেলার সঙ্গে এই বিষয়গুলো মেশাতে চাইছি না এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।”

কোচ কাবরেরা গত ম্যাচের ভুল-ত্রুটিগুলো নিয়েই অনুশীলনে কাজ করেছেন। গত দুদিনই মূলত খেলোয়াড়দের রিকভারি সেশন হয়েছে। খেলোয়াড়রা দ্রুত হংকংয়ের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে তারা হংকংয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে কোনো প্রকার ভুল করতে চান না। সোহেল রানা আরও বলেন, “পরবর্তী ম্যাচ আমরা কীভাবে খেলব বা আমাদের কী পরিকল্পনা থাকবে, আমাদের যে ভুলগুলো ছিল, সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। এই ভুলগুলো যেন পরবর্তী ম্যাচে আর না করি, সেদিকেই আমরা ফোকাস দিচ্ছি। আমাদের সামর্থ্য আছে তাদের হারানোর। ইনশাআল্লাহ আমরা ম্যাচটি জিততে চাইব।”

অন্যদিকে, বাংলাদেশ কোচ কাবরেরা জানান, দলে হামজা, জামাল, তপু এবং সোহেলের মতো মাঠে নেতৃত্ব দিতে পারা খেলোয়াড় পাওয়ায় তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। তিনি গত ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণ করেছেন এবং খেলোয়াড়রা পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলেও ভুলের কারণেই চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ডিফেন্সিভ এবং অফেন্সিভ—দুই দিকের পরিকল্পনাই ভালো ছিল, তবে সামনে আর কোনো ভুল করতে চান না তারা। কাবরেরা বলেন, “আমরা আবার প্রস্তুত। জয়ের জন্যই আমরা লড়ব।” তিনি আরও জানান, “শমিত সোম ভালো করছে। সে প্রস্তুত আছে।” গত ম্যাচে শমিত, জায়ান, ফাহামিদ ও জামালকে ছাড়া একাদশ নির্বাচন করেছিলেন কোচ কাবরেরা। হংকংয়ের মাঠে এই কঠিন পরীক্ষায় স্প্যানিশ কোচ কেমন একাদশ গড়েন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ড. ইউনূস সরকারের বিদায়: স্বস্তিতে দিল্লি, নতুন সমীকরণের প্রত্যাশা

হংকংয়ের মাঠে ভুল নয়, জয়ে চোখ বাংলাদেশের

আপডেট সময় : ১০:৩২:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

এএফসি এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার কঠিন সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। চার দলের ‘সি’ গ্রুপে তিন ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ মাত্র এক পয়েন্ট। অন্যদিকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে হংকং টেবিলের শীর্ষে, সিঙ্গাপুর ৫ এবং ভারতের ঝুলিতে আছে ২ পয়েন্ট। বাছাইপর্বে বাংলাদেশের আর তিনটি ম্যাচ বাকি – হংকং ও সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ম্যাচ এবং ভারতের বিপক্ষে হোম ম্যাচ। চূড়ান্ত পর্বে টিকে থাকতে এই তিন ম্যাচেই জয় নিশ্চিত করতে হবে হামজা-জামালদের। তবে দলপতি জামাল ভূঁইয়া আশা ছাড়ছেন না, তার বিশ্বাস, টানা তিন ম্যাচে জয় পাওয়া অসম্ভব নয়।

আগামীকাল, ১৪ অক্টোবর, বাংলাদেশ তাদের পরবর্তী ম্যাচে স্বাগতিক হংকংয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে। এই ম্যাচ সামনে রেখে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়তি মাত্রা পেয়েছে গত ৯ অক্টোবর জাতীয় স্টেডিয়ামে হংকংয়ের বিপক্ষে করা পারফরম্যান্স থেকে। সেই ম্যাচে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও বাংলাদেশ যেভাবে দারুণ প্রত্যাবর্তন ঘটিয়েছিল, তা ছিল এককথায় অসাধারণ। শেষ মুহূর্তে গোল হজম না করলে ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকত। শেষ দিকে মনোযোগ ধরে রাখতে না পারা, গোলরক্ষকের ভুল এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা দলকে ভুগিয়েছিল। তবে কোচ হাভিয়ের কাবরেরার দল এখন হংকংয়ের মাঠে ফিরতি ম্যাচে সেই ভুলগুলো আর করতে চায় না; তাদের লক্ষ্য হলো নির্ভুল ফুটবল খেলা।

হংকংয়ে খেলতে এসে অবশ্য বাজে অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হচ্ছে ফুটবলারদের। স্বাগতিক কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দলকে টিম হোটেল থেকে প্রায় এক ঘণ্টার দূরত্বের মাঠে অনুশীলনের ব্যবস্থা করে দিয়েছে। মাঠের অবস্থাও খুবই নাজুক। শনিবার প্রথম দিনের মতো গতকালও অনুশীলনের জন্য ভালো মাঠ পায়নি বাংলাদেশ। এ প্রসঙ্গে বাফুফের পাঠানো অডিও বার্তায় মিডফিল্ডার সোহেল রানা জানান, “আমরা এখানে এসেছি, এই ধরনের প্রতিকূলতা ফেস করতে হবে, সেই মানসিকতা নিয়েই আমরা এসেছি। অনুশীলনের জন্য যে মাঠ দিয়েছিল, সেটা আমাদের হোটেল থেকে এক ঘণ্টারও বেশি দূরে। আর মাঠের অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত ছিলাম যে ওরা আমাদের সঙ্গে এমন করবে। আজও (গতকাল) একই অবস্থা। আমরা এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই নিচ্ছি। আমরা খেলার সঙ্গে এই বিষয়গুলো মেশাতে চাইছি না এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি।”

কোচ কাবরেরা গত ম্যাচের ভুল-ত্রুটিগুলো নিয়েই অনুশীলনে কাজ করেছেন। গত দুদিনই মূলত খেলোয়াড়দের রিকভারি সেশন হয়েছে। খেলোয়াড়রা দ্রুত হংকংয়ের আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সব মিলিয়ে তারা হংকংয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে কোনো প্রকার ভুল করতে চান না। সোহেল রানা আরও বলেন, “পরবর্তী ম্যাচ আমরা কীভাবে খেলব বা আমাদের কী পরিকল্পনা থাকবে, আমাদের যে ভুলগুলো ছিল, সেগুলো নিয়ে আমরা কাজ করছি। এই ভুলগুলো যেন পরবর্তী ম্যাচে আর না করি, সেদিকেই আমরা ফোকাস দিচ্ছি। আমাদের সামর্থ্য আছে তাদের হারানোর। ইনশাআল্লাহ আমরা ম্যাচটি জিততে চাইব।”

অন্যদিকে, বাংলাদেশ কোচ কাবরেরা জানান, দলে হামজা, জামাল, তপু এবং সোহেলের মতো মাঠে নেতৃত্ব দিতে পারা খেলোয়াড় পাওয়ায় তিনি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেন। তিনি গত ম্যাচের ভিডিও বিশ্লেষণ করেছেন এবং খেলোয়াড়রা পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলেও ভুলের কারণেই চরম মূল্য দিতে হয়েছে। ডিফেন্সিভ এবং অফেন্সিভ—দুই দিকের পরিকল্পনাই ভালো ছিল, তবে সামনে আর কোনো ভুল করতে চান না তারা। কাবরেরা বলেন, “আমরা আবার প্রস্তুত। জয়ের জন্যই আমরা লড়ব।” তিনি আরও জানান, “শমিত সোম ভালো করছে। সে প্রস্তুত আছে।” গত ম্যাচে শমিত, জায়ান, ফাহামিদ ও জামালকে ছাড়া একাদশ নির্বাচন করেছিলেন কোচ কাবরেরা। হংকংয়ের মাঠে এই কঠিন পরীক্ষায় স্প্যানিশ কোচ কেমন একাদশ গড়েন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।