মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০২:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

হাসান মাহমুদের তাণ্ডবে দুইশ’র নিচে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশের পেসারদের দাপট

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুতেই উইকেট পতনের সূচনা করেছিলেন হাসান মাহমুদ, আর শেষটাও সারলেন নিখুঁতভাবে। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে ডারউইন টেস্টে দুইশ’র আগেই গুটিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের সাথে যোগ দেন দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। হাসানের ৬টি উইকেট এবং অন্য দুই পেসারের ৪টি উইকেট মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া ৫৩ ওভারে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়।

ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে বাংলাদেশের তরুণ পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। ৫৩ ওভার ব্যাট করে তারা মাত্র ১৯৮ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রানের ইনিংস খেলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভেন স্মিথ। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ৫৫ রান খরচায় ৬টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন।

নতুন বলে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের ধারালো বোলিংয়ে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়া চাপে পড়ে। প্রথম উইকেট আসে ইনিংসের ১২তম ওভারে। অফ স্টাম্পের বাইরে করা হাসানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড। ২৩ রান করা এই ওপেনারের বিদায়ে অস্ট্রেলিয়ার ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। এরপর নিজের পরের ওভারেই আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডকে ফেরান হাসান। ইনসুইং করা বলে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। আউট হওয়ার আগে হেড করেন ২২ রান।

এরপর এবাদত হোসেনের বোলিংয়ে আরও একটি উইকেট যোগ হয়। মার্নাস ল্যাবুশেন মাত্র ১ রানে ফিরে যান। অফ স্টাম্পের বাইরে গুড লেংথের বলে ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে স্লিপে ক্যাচ দেন এই ব্যাটার। তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে পাল্টা আক্রমণে ফেরানোর চেষ্টা করেন ক্যামেরন গ্রিন। তবে তার আগ্রাসী ব্যাটিং বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তাসকিন আহমেদের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১৩ রানেই ফিরে যান তিনি। লাঞ্চ বিরতির আগে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৪ রান।

লাঞ্চের পর স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তাদের ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন এবাদত হোসেন। ১৯ রান করা ক্যারি ব্যাটের ভেতরের কানায় বল লাগিয়ে বোল্ড হন। এরপর তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ে ফিরে যান বো ওয়েবস্টার। ১২ রান করা এই ব্যাটারকে সরাসরি বোল্ড করেন তাসকিন। পরে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও দ্রুত ফিরিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। চা বিরতির পর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে ভুল করেন স্টিভেন স্মিথ। হাসান মাহমুদের খাটো লেংথের বলে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে ক্যাচ দেন তিনি। ৭১ রানের এই ইনিংসটি স্মিথের জন্য যথেষ্ট ছিল না দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে ইতিহাস গড়লেন হাসান মাহমুদ: ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা

হাসান মাহমুদের তাণ্ডবে দুইশ’র নিচে অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশের পেসারদের দাপট

আপডেট সময় : ১২:৫৩:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের শুরুতেই উইকেট পতনের সূচনা করেছিলেন হাসান মাহমুদ, আর শেষটাও সারলেন নিখুঁতভাবে। তার বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে ডারউইন টেস্টে দুইশ’র আগেই গুটিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। হাসান মাহমুদের সাথে যোগ দেন দুই পেসার তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেন। হাসানের ৬টি উইকেট এবং অন্য দুই পেসারের ৪টি উইকেট মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়া ৫৩ ওভারে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়।

ডারউইনের বাউন্সি উইকেটে বাংলাদেশের তরুণ পেস আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা। ৫৩ ওভার ব্যাট করে তারা মাত্র ১৯৮ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রানের ইনিংস খেলেন অভিজ্ঞ ব্যাটার স্টিভেন স্মিথ। বাংলাদেশের হয়ে হাসান মাহমুদ ৫৫ রান খরচায় ৬টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করেন।

নতুন বলে তাসকিন আহমেদ ও হাসান মাহমুদের ধারালো বোলিংয়ে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়া চাপে পড়ে। প্রথম উইকেট আসে ইনিংসের ১২তম ওভারে। অফ স্টাম্পের বাইরে করা হাসানের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ওপেনার জ্যাক ওয়েদারাল্ড। ২৩ রান করা এই ওপেনারের বিদায়ে অস্ট্রেলিয়ার ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে। এরপর নিজের পরের ওভারেই আরেক ওপেনার ট্রাভিস হেডকে ফেরান হাসান। ইনসুইং করা বলে ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে স্টাম্পে আঘাত হানে। আউট হওয়ার আগে হেড করেন ২২ রান।

এরপর এবাদত হোসেনের বোলিংয়ে আরও একটি উইকেট যোগ হয়। মার্নাস ল্যাবুশেন মাত্র ১ রানে ফিরে যান। অফ স্টাম্পের বাইরে গুড লেংথের বলে ব্যাটের বাইরের কানায় লেগে স্লিপে ক্যাচ দেন এই ব্যাটার। তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে পাল্টা আক্রমণে ফেরানোর চেষ্টা করেন ক্যামেরন গ্রিন। তবে তার আগ্রাসী ব্যাটিং বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তাসকিন আহমেদের বলে মুশফিকুর রহিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১৩ রানেই ফিরে যান তিনি। লাঞ্চ বিরতির আগে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৪ রান।

লাঞ্চের পর স্টিভেন স্মিথ ও অ্যালেক্স ক্যারি মিলে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তাদের ৫৫ রানের জুটি ভাঙেন এবাদত হোসেন। ১৯ রান করা ক্যারি ব্যাটের ভেতরের কানায় বল লাগিয়ে বোল্ড হন। এরপর তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ে ফিরে যান বো ওয়েবস্টার। ১২ রান করা এই ব্যাটারকে সরাসরি বোল্ড করেন তাসকিন। পরে প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ককেও দ্রুত ফিরিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ফলে চা বিরতির আগেই ৮ উইকেট হারিয়ে চরম বিপাকে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। চা বিরতির পর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করতে গিয়ে ভুল করেন স্টিভেন স্মিথ। হাসান মাহমুদের খাটো লেংথের বলে পুল করতে গিয়ে টপ এজ হয়ে ক্যাচ দেন তিনি। ৭১ রানের এই ইনিংসটি স্মিথের জন্য যথেষ্ট ছিল না দলকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে।