মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬

ইসরাইলের আঞ্চলিক আধিপত্য: সামরিক শক্তি বনাম নেতৃত্বের সংকট

সামরিক শক্তিতে ইসরাইল আঞ্চলিকভাবে প্রভাবশালী হলেও, প্রতিবেশী দেশগুলোর আস্থা ও সহযোগিতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশটির আঞ্চলিক আধিপত্যের ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে। গ্রামশির ‘ডমিনেশন’ (বাধ্যতামূলক আধিপত্য) এবং ‘হেজিমনি’ (সম্মতিভিত্তিক নেতৃত্ব) ধারণার আলোকে দেখলে, ইসরাইল কেবল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু জনগণের আস্থা অর্জন করে স্বেচ্ছায় নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ‘হেজিমনি’ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

২০২৩ সাল থেকে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরাইল হামাসের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস, হিজবুল্লাহর নেতাদের হত্যা এবং গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিতেও আঘাত হেনেছে। কৌশলগত এই সাফল্যগুলো ইসরাইলের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করলেও, তা আঞ্চলিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রমাণ নয়। বরং এগুলোর মাধ্যমে ইসরাইলের শক্তি মূলত অন্যদের বাধ্য করার ক্ষমতা হিসেবে কাজ করছে, স্বেচ্ছায় তাদের সংগঠিত করার ক্ষমতা হিসেবে নয়।

প্রযুক্তি খাতে ইসরাইলের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি রয়েছে; দেশটির অর্থনীতির প্রায় ১৭ শতাংশ আসে এই খাত থেকে এবং জিডিপির তুলনায় গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয়ও বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়। তবে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্যবস্থার মূল নিয়মগুলো নির্ধারণে ইসরাইলের ভূমিকা সীমিত। সাইবার নিরাপত্তা খাতে তাদের বিশেষ পারদর্শিতা থাকলেও, সামগ্রিকভাবে বৃহত্তর শক্তিগুলোর দ্বারা নির্ধারিত নিয়মনীতির মধ্যেই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে বিগত সরকারের নৃশংসতার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস সংরক্ষণের দাবি

ইসরাইলের আঞ্চলিক আধিপত্য: সামরিক শক্তি বনাম নেতৃত্বের সংকট

আপডেট সময় : ০৬:০৭:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

সামরিক শক্তিতে ইসরাইল আঞ্চলিকভাবে প্রভাবশালী হলেও, প্রতিবেশী দেশগুলোর আস্থা ও সহযোগিতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক সমালোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা দেশটির আঞ্চলিক আধিপত্যের ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে। গ্রামশির ‘ডমিনেশন’ (বাধ্যতামূলক আধিপত্য) এবং ‘হেজিমনি’ (সম্মতিভিত্তিক নেতৃত্ব) ধারণার আলোকে দেখলে, ইসরাইল কেবল শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে, কিন্তু জনগণের আস্থা অর্জন করে স্বেচ্ছায় নেতৃত্ব দেওয়ার মতো ‘হেজিমনি’ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি।

২০২৩ সাল থেকে চলমান সংঘাতের মধ্যে ইসরাইল হামাসের সামরিক সক্ষমতা হ্রাস, হিজবুল্লাহর নেতাদের হত্যা এবং গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচিতেও আঘাত হেনেছে। কৌশলগত এই সাফল্যগুলো ইসরাইলের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করলেও, তা আঞ্চলিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রমাণ নয়। বরং এগুলোর মাধ্যমে ইসরাইলের শক্তি মূলত অন্যদের বাধ্য করার ক্ষমতা হিসেবে কাজ করছে, স্বেচ্ছায় তাদের সংগঠিত করার ক্ষমতা হিসেবে নয়।

প্রযুক্তি খাতে ইসরাইলের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি রয়েছে; দেশটির অর্থনীতির প্রায় ১৭ শতাংশ আসে এই খাত থেকে এবং জিডিপির তুলনায় গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয়ও বিশ্বে শীর্ষস্থানীয়। তবে, প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও বৈশ্বিক প্রযুক্তি ব্যবস্থার মূল নিয়মগুলো নির্ধারণে ইসরাইলের ভূমিকা সীমিত। সাইবার নিরাপত্তা খাতে তাদের বিশেষ পারদর্শিতা থাকলেও, সামগ্রিকভাবে বৃহত্তর শক্তিগুলোর দ্বারা নির্ধারিত নিয়মনীতির মধ্যেই তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।