রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আবাসিক হলগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হল ছাড়তে বাধ্য হওয়া এবং সিট বঞ্চনার ঘটনা তাদের শিক্ষাজীবনে এক নতুন ও তিক্ত অভিজ্ঞতার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো বা শান্তিতে পড়াশোনা করতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায়শই হল ছাড়তে বাধ্য করা হতো।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (MSE) বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার কারণে তৎকালীন এক ছাত্রলীগ নেতার রোষানলে পড়েন। গালিগালাজ, অপমান ও ধাক্কাধাক্কির শিকার হওয়ার পর ওই শিক্ষার্থীকে পরদিন ভোরেই হল ছাড়তে হয়। প্রথমে বন্ধুর বাসা এবং পরে ভাড়া বাসায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তিনি। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সে সময় রুয়েটের অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীর বাস্তবতা ছিল এমনই।
একাধিক অভিযোগ অনুযায়ী, সে সময় রুয়েটের আবাসিক হলগুলো প্রায় ৯০ শতাংশই ক্ষমতাসীন ছাত্ররাজনীতির নিয়ন্ত্রণে ছিল। নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া অনেক শিক্ষার্থীও নিজেদের বৈধ সিটে উঠতে পারতেন না। সিট পেতে হলে রাজনৈতিক নেতাদের আনুগত্য, মিছিল-মিটিংয়ে উপস্থিতি, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ এবং ‘বড় ভাইদের’ নির্দেশ মেনে চলা যেন অলিখিত শর্তে পরিণত হয়েছিল। যারা এই শর্ত মানতে চাইতেন না, তাদের অনেকেই হলে থাকার অধিকার হারাতেন, অপমানিত হতেন অথবা হল ছাড়তে বাধ্য হতেন। অন্যদিকে, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী অনেকেই বছরের পর বছর বিনা খরচে হলে অবস্থান করলেও প্রকৃত বরাদ্দপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদেরই হলের ফি পরিশোধ করতে হতো।
শুধু সিট নয়, তখন শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিস্বাধীনতাও ছিল সীমাবদ্ধ। কী বলা যাবে, কোথায় যাওয়া যাবে, কার সঙ্গে মিশতে হবে বা কোনো বিষয়ে মতপ্রকাশ করা যাবে কি না—এসব ক্ষেত্রেও রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করত বলে অভিযোগ করেছেন অনেক সাবেক শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাসে পেশিশক্তির উপস্থিতি, ভয়ভীতি এবং ক্ষমতার প্রদর্শন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের নীরব অসহায়ত্ব তৈরি করেছিল। অনেকেই পড়াশোনার স্বার্থে প্রতিবাদ না করে পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকেই নিরাপদ মনে করতেন। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগও ছিল সে সময়ের একটি বড় বাস্তবতা।
রিপোর্টারের নাম 



















