মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণভোট ও সংবিধানে সংস্কারের দাবি: ক্ষমতার রাজনীতিতে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা

জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ‘গণভোট’ অনুষ্ঠানের দাবি আদায়ের পর আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিশ্চিত করা। এই দাবির পেছনে যৌক্তিক সন্দেহ কাজ করছিল যে, যদি জুলাই সনদের আলোকে এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি জয়লাভ করে, তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়বে।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কেন এই ঐতিহাসিক সনদ বাতিল করতে চাইবে, তার প্রধান দুটি মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক কারণ পূর্বেই বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমনভাবে বিএনপি গোপালগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তন করতে চায়, তেমনি আওয়ামী লীগ জুলাইয়ের নাম সহ্য করতে পারে না। সুযোগ পেলে তারা হয়তো বারো মাসের নাম থেকে জুলাইকে মুছে ফেলতে চাইবে।

সুতরাং, রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ যেমন তাদের ক্ষমতাচ্যুতির ক্ষোভ থেকে জুলাইয়ের নাম সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে চাইবে, ঠিক তেমনই ক্ষমতার নতুন সমীকরণে দাঁড়িয়ে বিএনপিও চাইবে না যে, জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আরেকটি শক্তির উত্থান ঘটুক।

কারণ, জুলাই বিপ্লবের এই মৌলিক আকাঙ্ক্ষাগুলো যদি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তবে ইতিহাসের পাতায় এই বিপ্লবের প্রকৃত ত্যাগী নেতৃত্ব, আলেম সমাজের অবদান এবং বীরত্বগাথা বারবার মানুষের সামনে চলে আসবে। সাধারণ মানুষ যখন জুলাইয়ের সেই বৈষম্যহীন চেতনার আলোকে নিজেদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাইবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের চোখের সামনে একটি নতুন নেতৃত্বের ছবি ভেসে উঠবে। ক্ষমতার রাজনীতিতে নিজেদের এই সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে রুখে দেওয়ার জন্যই মূলত বিএনপি জুলাই বিপ্লবের অর্জন ও জুলাই সনদকে ধামাচাপা দিয়ে রাখতে চাইবে।

বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকলেই বিএনপির ক্ষমতার রাজনীতি বেশি সুবিধাজনক। কিন্তু এর বিপরীতে জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা হলো বৈষম্যের বিলোপ ও ফ্যাসিবাদের অবসান।

সেই সাথে ইসলামপন্থীদের অভিপ্রায় হচ্ছে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের দলীল বাহাত্তরের বন্দোবস্ত উৎখাত করা এবং সাতচল্লিশের চেতনায় বাংলাদেশকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং দ্বিজাতিতত্ত্বের মূলধারায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে শক্তিশালী করা।

গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, জুলাই ইসলামপন্থীদের জন্য বেশি প্রয়োজন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খুবিতে ‘খবরের পাতায় গণঅভ্যুত্থান ২৪’ : নতুন প্রজন্মের কাছে ইতিহাস তুলে ধরতে ফটো এক্সিবিশন

জুলাই গণভোট ও সংবিধানে সংস্কারের দাবি: ক্ষমতার রাজনীতিতে সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে ‘গণভোট’ অনুষ্ঠানের দাবি আদায়ের পর আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছিল, যার মূল লক্ষ্য ছিল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন নিশ্চিত করা। এই দাবির পেছনে যৌক্তিক সন্দেহ কাজ করছিল যে, যদি জুলাই সনদের আলোকে এই সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং বিএনপি জয়লাভ করে, তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংস্কার প্রক্রিয়া হুমকির মুখে পড়বে।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কেন এই ঐতিহাসিক সনদ বাতিল করতে চাইবে, তার প্রধান দুটি মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক কারণ পূর্বেই বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমনভাবে বিএনপি গোপালগঞ্জ জেলার নাম পরিবর্তন করতে চায়, তেমনি আওয়ামী লীগ জুলাইয়ের নাম সহ্য করতে পারে না। সুযোগ পেলে তারা হয়তো বারো মাসের নাম থেকে জুলাইকে মুছে ফেলতে চাইবে।

সুতরাং, রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ যেমন তাদের ক্ষমতাচ্যুতির ক্ষোভ থেকে জুলাইয়ের নাম সম্পূর্ণ মুছে ফেলতে চাইবে, ঠিক তেমনই ক্ষমতার নতুন সমীকরণে দাঁড়িয়ে বিএনপিও চাইবে না যে, জুলাই বিপ্লবকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আরেকটি শক্তির উত্থান ঘটুক।

কারণ, জুলাই বিপ্লবের এই মৌলিক আকাঙ্ক্ষাগুলো যদি রাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়, তবে ইতিহাসের পাতায় এই বিপ্লবের প্রকৃত ত্যাগী নেতৃত্ব, আলেম সমাজের অবদান এবং বীরত্বগাথা বারবার মানুষের সামনে চলে আসবে। সাধারণ মানুষ যখন জুলাইয়ের সেই বৈষম্যহীন চেতনার আলোকে নিজেদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে চাইবে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের চোখের সামনে একটি নতুন নেতৃত্বের ছবি ভেসে উঠবে। ক্ষমতার রাজনীতিতে নিজেদের এই সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীকে রুখে দেওয়ার জন্যই মূলত বিএনপি জুলাই বিপ্লবের অর্জন ও জুলাই সনদকে ধামাচাপা দিয়ে রাখতে চাইবে।

বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকলেই বিএনপির ক্ষমতার রাজনীতি বেশি সুবিধাজনক। কিন্তু এর বিপরীতে জুলাই বিপ্লবের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা হলো বৈষম্যের বিলোপ ও ফ্যাসিবাদের অবসান।

সেই সাথে ইসলামপন্থীদের অভিপ্রায় হচ্ছে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের দলীল বাহাত্তরের বন্দোবস্ত উৎখাত করা এবং সাতচল্লিশের চেতনায় বাংলাদেশকে ফিরিয়ে নেওয়া এবং দ্বিজাতিতত্ত্বের মূলধারায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে শক্তিশালী করা।

গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, জুলাই ইসলামপন্থীদের জন্য বেশি প্রয়োজন।