মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

৫ আগস্ট ২০২৪: ক্ষমতার দম্ভ ও পতন, এক মহাকাব্যের বার্ষিকী

আজ, ২০২৬ সালের এই দিনে কলম হাতে নিতেই লাতিন ভাষার মহান কবি ওভিডের ‘মেটামরফোসিস’ মহাকাব্যের রাজা মিডাসের গল্পটি মনে পড়ে গেল। মিডাস দেবতার কাছে বর চেয়েছিলেন, যা স্পর্শ করবেন, তা-ই সোনা হয়ে যাবে। বর পেয়ে তিনি আনন্দিত হয়েছিলেন। কিন্তু যখন তার আদরের মেয়ে এসে জড়িয়ে ধরল, সে মুহূর্তেই সে পরিণত হলো নিষ্প্রাণ সোনার মূর্তিতে। যে আশীর্বাদ চেয়েছিলেন, তা-ই হয়ে গেল তার সবচেয়ে বড় অভিশাপ—রাজা রইলেন অভুক্ত, নিঃসঙ্গ, নিজের লোভের কারাগারে বন্দি।

সীমাহীন প্রাপ্তির লোভ শেষ পর্যন্ত মানুষকে সবচেয়ে দরিদ্র করে তোলে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে এই পৌরাণিক উপাখ্যান যেন অস্বাভাবিক রকমের প্রাসঙ্গিক মনে হয়। ক্ষমতাও একধরনের পরশপাথর—যিনি দীর্ঘদিন এর অধিকারী থাকেন, তার কাছে মনে হয় তিনি যা স্পর্শ করছেন তা-ই যেন ন্যায্য, যা তিনি বলছেন তা-ই যেন সত্য। সব প্রতিষ্ঠান তার সুহবতে ‘সোনা’ হয়ে ওঠে বটে, কিন্তু সেই সোনা আসলে নিষ্প্রাণ। মিডাসের সেই চরম মুহূর্তের মতোই, যেদিন রাষ্ট্রের নিজের সন্তান—তার তরুণ প্রজন্ম—বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার নিষ্ঠুর স্পর্শে পরিণত হলো রক্তাক্ত শহীদে, সেদিনই প্রমাণ হয়ে গেল, সীমাহীন ক্ষমতার লোভ শাসককে করে তোলে সবচেয়ে দরিদ্র, সবচেয়ে নিঃসঙ্গ।

ইতিহাস কখনো কখনো কল্পনাকেও হার মানায়, নাটকীয়তাকেও ছাপিয়ে যায় নিজস্ব নির্মমতায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এমনই এক ভয়াবহ, রক্তাক্ত অথচ মহিমান্বিত দিন—যেদিন দীর্ঘ পঞ্চদশ বর্ষব্যাপী ক্ষমতার মসনদে সমাসীন বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার প্রধান, যাকে একদা রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বশক্তিমান, অপরাজেয় কর্ত্রী মনে করা হতো, এক লজ্জাকর, প্রায় বিভীষিকাময় পলায়নের মধ্য দিয়ে ধুলায় লুটিয়ে পড়লেন। কী নির্মম পরিহাস! যে সিংহাসন রক্তে-অশ্রুতে, ভয়ে-ভীতিতে গাঁথা হয়েছিল পনেরোটি বছর ধরে, তা এক মুহূর্তেই চূর্ণ হয়ে গেল হাজারো ক্ষুব্ধ কণ্ঠস্বরের প্রবল আঘাতে। এটি কোনো নিছক ক্ষমতা হস্তান্তরের রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এ যেন গ্রিক ট্র্যাজেডির সেই চিরন্তন, রক্তচক্ষু আখ্যান, যেখানে অহংকার নিজেই ডেকে আনে নিজস্ব নেমেসিসকে, যেখানে ক্ষমতার দম্ভ শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় ধুলায় লুণ্ঠিত এক ভাঙা রাজমুকুটে।

আজ, এই রক্তস্নাত, অশ্রুসিক্ত বার্ষিকীর প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে, ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সময়ে প্রশ্ন জাগে অন্তরাত্মার গভীরতম প্রকোষ্ঠে—কোন অমোঘ বিধান, কোন নির্মম ঐতিহাসিক নিয়তি একটি রাষ্ট্রকে তার সর্বময় কর্তার বিরুদ্ধে আছড়ে-পড়া জনসমুদ্রে রূপান্তরিত করে? কোন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ?

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না: মামুনুল হক

৫ আগস্ট ২০২৪: ক্ষমতার দম্ভ ও পতন, এক মহাকাব্যের বার্ষিকী

আপডেট সময় : ০২:২৩:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

আজ, ২০২৬ সালের এই দিনে কলম হাতে নিতেই লাতিন ভাষার মহান কবি ওভিডের ‘মেটামরফোসিস’ মহাকাব্যের রাজা মিডাসের গল্পটি মনে পড়ে গেল। মিডাস দেবতার কাছে বর চেয়েছিলেন, যা স্পর্শ করবেন, তা-ই সোনা হয়ে যাবে। বর পেয়ে তিনি আনন্দিত হয়েছিলেন। কিন্তু যখন তার আদরের মেয়ে এসে জড়িয়ে ধরল, সে মুহূর্তেই সে পরিণত হলো নিষ্প্রাণ সোনার মূর্তিতে। যে আশীর্বাদ চেয়েছিলেন, তা-ই হয়ে গেল তার সবচেয়ে বড় অভিশাপ—রাজা রইলেন অভুক্ত, নিঃসঙ্গ, নিজের লোভের কারাগারে বন্দি।

সীমাহীন প্রাপ্তির লোভ শেষ পর্যন্ত মানুষকে সবচেয়ে দরিদ্র করে তোলে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের দিকে তাকালে এই পৌরাণিক উপাখ্যান যেন অস্বাভাবিক রকমের প্রাসঙ্গিক মনে হয়। ক্ষমতাও একধরনের পরশপাথর—যিনি দীর্ঘদিন এর অধিকারী থাকেন, তার কাছে মনে হয় তিনি যা স্পর্শ করছেন তা-ই যেন ন্যায্য, যা তিনি বলছেন তা-ই যেন সত্য। সব প্রতিষ্ঠান তার সুহবতে ‘সোনা’ হয়ে ওঠে বটে, কিন্তু সেই সোনা আসলে নিষ্প্রাণ। মিডাসের সেই চরম মুহূর্তের মতোই, যেদিন রাষ্ট্রের নিজের সন্তান—তার তরুণ প্রজন্ম—বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার নিষ্ঠুর স্পর্শে পরিণত হলো রক্তাক্ত শহীদে, সেদিনই প্রমাণ হয়ে গেল, সীমাহীন ক্ষমতার লোভ শাসককে করে তোলে সবচেয়ে দরিদ্র, সবচেয়ে নিঃসঙ্গ।

ইতিহাস কখনো কখনো কল্পনাকেও হার মানায়, নাটকীয়তাকেও ছাপিয়ে যায় নিজস্ব নির্মমতায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট এমনই এক ভয়াবহ, রক্তাক্ত অথচ মহিমান্বিত দিন—যেদিন দীর্ঘ পঞ্চদশ বর্ষব্যাপী ক্ষমতার মসনদে সমাসীন বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার প্রধান, যাকে একদা রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বশক্তিমান, অপরাজেয় কর্ত্রী মনে করা হতো, এক লজ্জাকর, প্রায় বিভীষিকাময় পলায়নের মধ্য দিয়ে ধুলায় লুটিয়ে পড়লেন। কী নির্মম পরিহাস! যে সিংহাসন রক্তে-অশ্রুতে, ভয়ে-ভীতিতে গাঁথা হয়েছিল পনেরোটি বছর ধরে, তা এক মুহূর্তেই চূর্ণ হয়ে গেল হাজারো ক্ষুব্ধ কণ্ঠস্বরের প্রবল আঘাতে। এটি কোনো নিছক ক্ষমতা হস্তান্তরের রাজনৈতিক ঘটনা নয়; এ যেন গ্রিক ট্র্যাজেডির সেই চিরন্তন, রক্তচক্ষু আখ্যান, যেখানে অহংকার নিজেই ডেকে আনে নিজস্ব নেমেসিসকে, যেখানে ক্ষমতার দম্ভ শেষ পর্যন্ত পরিণত হয় ধুলায় লুণ্ঠিত এক ভাঙা রাজমুকুটে।

আজ, এই রক্তস্নাত, অশ্রুসিক্ত বার্ষিকীর প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে, ২০২৬ সালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের সময়ে প্রশ্ন জাগে অন্তরাত্মার গভীরতম প্রকোষ্ঠে—কোন অমোঘ বিধান, কোন নির্মম ঐতিহাসিক নিয়তি একটি রাষ্ট্রকে তার সর্বময় কর্তার বিরুদ্ধে আছড়ে-পড়া জনসমুদ্রে রূপান্তরিত করে? কোন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ?