মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ০৪:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকথা: রক্ত ও লাশের বাইরেও ছিল মানবিক গল্প

২০২৪ সালের জুলাই মাসের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলো স্মরণে একজন প্রত্যক্ষদর্শী তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের উত্তাল দিনগুলোতে শুধু গুলির শব্দ, মানুষের রক্ত আর আহতের আর্তনাদই ছিল না, ছিল অপ্রত্যাশিত মানবিক গল্প, অচেনা মানুষের আশ্রয় ও সহানুভূতির এক অন্যরকম চিত্র।

স্মৃতিকথায় লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী হিসেবে তার অংশগ্রহণের কথা বলেছেন। বিগত সরকারের আমলের কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বর্জন করে শামসুন নাহার হলের ছাত্রীরা ব্যানার নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন।

বাংলা ব্লকেড ঘোষণার দিন প্রথমবারের মতো তিনি মঞ্চে বক্তব্য রাখেন। তার অনানুষ্ঠানিক, তত্ত্বকথার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাষা তুলে ধরা বক্তব্যে তুমুল করতালি লাভ করে। তার বক্তব্য শুনে হলের এক শান্তশিষ্ট মেয়ে কেঁদে ফেলে, যে ডিম ও মাছ বিক্রি করে মায়ের পাঠানো টাকায় পড়াশোনা করত। মেয়েটি শপথ নেয়, আন্দোলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে রাজপথে থাকবে।

লেখক জানান, হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে এই শান্ত, পড়ুয়া মেয়েটির হুট করে কেঁদে ফেলা দেখে সেদিন তারা শপথ নিয়েছিলেন, আর ফিরে যাওয়া চলে না। পরবর্তীতে এই মেয়েটি প্রথম বিসিএসেই শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনই আনেনি, অসংখ্য মানুষের জীবনেও এনেছে গভীর পরিবর্তন ও অনুপ্রেরণা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সন্ত্রাস বরদাশত করা হবে না: মামুনুল হক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিকথা: রক্ত ও লাশের বাইরেও ছিল মানবিক গল্প

আপডেট সময় : ০২:২১:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

২০২৪ সালের জুলাই মাসের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের দিনগুলো স্মরণে একজন প্রত্যক্ষদর্শী তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। আন্দোলন-সংগ্রামের উত্তাল দিনগুলোতে শুধু গুলির শব্দ, মানুষের রক্ত আর আহতের আর্তনাদই ছিল না, ছিল অপ্রত্যাশিত মানবিক গল্প, অচেনা মানুষের আশ্রয় ও সহানুভূতির এক অন্যরকম চিত্র।

স্মৃতিকথায় লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্রী হিসেবে তার অংশগ্রহণের কথা বলেছেন। বিগত সরকারের আমলের কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বর্জন করে শামসুন নাহার হলের ছাত্রীরা ব্যানার নিয়ে আন্দোলনে যোগ দেন।

বাংলা ব্লকেড ঘোষণার দিন প্রথমবারের মতো তিনি মঞ্চে বক্তব্য রাখেন। তার অনানুষ্ঠানিক, তত্ত্বকথার বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাষা তুলে ধরা বক্তব্যে তুমুল করতালি লাভ করে। তার বক্তব্য শুনে হলের এক শান্তশিষ্ট মেয়ে কেঁদে ফেলে, যে ডিম ও মাছ বিক্রি করে মায়ের পাঠানো টাকায় পড়াশোনা করত। মেয়েটি শপথ নেয়, আন্দোলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত সে রাজপথে থাকবে।

লেখক জানান, হাজার হাজার মানুষের ভিড়ে এই শান্ত, পড়ুয়া মেয়েটির হুট করে কেঁদে ফেলা দেখে সেদিন তারা শপথ নিয়েছিলেন, আর ফিরে যাওয়া চলে না। পরবর্তীতে এই মেয়েটি প্রথম বিসিএসেই শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনই আনেনি, অসংখ্য মানুষের জীবনেও এনেছে গভীর পরিবর্তন ও অনুপ্রেরণা।