২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে নিছক একটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং মেধা, সুবিচার, সম্মান ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার দাবিতে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জেগে ওঠা হিসেবে বর্ণনা করেছেন একজন শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা, যিনি পাঠাওয়ের সঙ্গে যুক্ত। তিনি তার ব্যক্তিগত যাত্রার সঙ্গে এই গণঅভ্যুত্থানের যোগসূত্র ব্যাখ্যা করেছেন।
এই উদ্যোক্তা তার উচ্চশিক্ষা ও কর্মজীবনের একটি বড় সময় যুক্তরাষ্ট্রে কাটানোর পর দেশের জন্য কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে দেশে ফিরে আসেন। বিনিয়োগ খাতে কাজ করতে গিয়ে তিনি পাঠাওয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে পরিচিত হন, যারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে মানুষের সমস্যার সমাধান করতে আগ্রহী ছিলেন। তার মতে, ব্যবসা শুধু লাভ-ক্ষতির অঙ্ক নয়, বরং মানুষের জন্য সুযোগ তৈরি করা। লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তার বিকাশের মধ্য দিয়ে তার এই বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় হয়েছে যে, প্রকৃত পরিবর্তন আসে মানুষকে সক্ষম করে তোলার মাধ্যমে।
তিনি জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় তিনি নিজেকে নিরপেক্ষ দর্শক হিসেবে ধরে রাখতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেখেছেন, দেশের অনেক মেধাবী তরুণ সুযোগের অভাবে নয়, বরং ন্যায়সংগত মূল্যায়নের অভাবে দেশ ছাড়ার স্বপ্ন দেখে। একজন উদ্যোক্তা হিসেবে, যিনি প্রতিদিন মেধাবী তরুণদের সঙ্গে কাজ করেন, এই বাস্তবতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছিল।
১৬ জুলাই আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে দেখে তিনি উপলব্ধি করেন যে, এটি আর কেবল কোটা সংস্কারের আন্দোলন নয়। এরপর ১৭ ও ১৮ জুলাই যখন একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে গেল, শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতা নেমে এলো, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হলো, আর বিগত সরকারের রাষ্ট্রীয় বয়ানের সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান ক্রমশ বাড়তে লাগল; তখন তিনি বুঝতে পারেন যে দেশ একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। দেশের ভেতরে মানুষ সত্য জানতে পারছিল না, আর দেশের বাইরেও নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছানো কঠিন হয়ে উঠছিল।
এই সংকটকালে কয়েকজন সাংবাদিকের মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের সঙ্গে তার যোগাযোগ সৃষ্টি হয়। আব্দুল হান্নান মাসউদ, আব্দুল কাদেরসহ কয়েকজন সমন্বয়ক তখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে আন্দোলনের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দিচ্ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 





















