ঢাকা ০৫:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিন: মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো বার্তা

নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ফিরেছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে দিল্লির বাসভবন থেকে কলকাতার দমদম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এই প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

কলকাতায় রওনা হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি ছবি প্রকাশ করে তসলিমা লেখেন, ‘আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।’ তার এই বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তিনি ‘সেক্যুলার মিশন ট্রাস্ট’ আয়োজিত ‘ধর্মীয় মৌলবাদবিরোধী’ একটি সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছেন।

কলকাতায় পৌঁছে তসলিমা নাসরিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর কলকাতায় পা রাখা আমার কাছে কেবল অন্য কোনো শহরে আসা নয়, বরং নিজের ঘরে ফেরার মতো অনুভূতি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফতোয়া বা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একজন লেখককে হয়তো সাময়িকভাবে কোনো ভৌগোলিক স্থান থেকে দূরে রাখা যায়, কিন্তু তার চিন্তা ও লেখাকে কখনো রুদ্ধ করা যায় না। একজন লেখকের নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতা কোনো রাজনৈতিক দল বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর অনুকম্পার বিষয় হতে পারে না, এটি মৌলিক অধিকার।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর তসলিমা নাসরিন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। ২০০৪ সালে ভারতের ভিসা পেয়ে কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেও ২০০৭ সালে তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে তাকে শহর ছাড়তে হয়। এরপর থেকে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই পদযাত্রায় চোখ হারানো কিশোর আলিফকে দেখতে গেলেন জামায়াত আমির (সাবেক সরকারের আমলের ঘটনা)

১৯ বছর পর কলকাতায় তসলিমা নাসরিন: মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে জোরালো বার্তা

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ফিরেছেন। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে দিল্লির বাসভবন থেকে কলকাতার দমদম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এই প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতার পক্ষে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।

কলকাতায় রওনা হওয়ার আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি ছবি প্রকাশ করে তসলিমা লেখেন, ‘আজি এ প্রভাতে কলিকাতা অভিমুখে যাত্রা করিলাম।’ তার এই বার্তাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তিনি ‘সেক্যুলার মিশন ট্রাস্ট’ আয়োজিত ‘ধর্মীয় মৌলবাদবিরোধী’ একটি সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছেন।

কলকাতায় পৌঁছে তসলিমা নাসরিন বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর কলকাতায় পা রাখা আমার কাছে কেবল অন্য কোনো শহরে আসা নয়, বরং নিজের ঘরে ফেরার মতো অনুভূতি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ফতোয়া বা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একজন লেখককে হয়তো সাময়িকভাবে কোনো ভৌগোলিক স্থান থেকে দূরে রাখা যায়, কিন্তু তার চিন্তা ও লেখাকে কখনো রুদ্ধ করা যায় না। একজন লেখকের নিরাপত্তা ও বাকস্বাধীনতা কোনো রাজনৈতিক দল বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর অনুকম্পার বিষয় হতে পারে না, এটি মৌলিক অধিকার।’

উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর তসলিমা নাসরিন ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। ২০০৪ সালে ভারতের ভিসা পেয়ে কলকাতায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলেও ২০০৭ সালে তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’ ঘিরে তীব্র বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে তাকে শহর ছাড়তে হয়। এরপর থেকে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন।