ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন ট্রেন: রেল পরিবহনে নতুন দিগন্ত

জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার বিশ্বজুড়ে পরিবহন খাতকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক অঙ্গীকার পূরণে বিভিন্ন দেশ তাদের পরিবহন ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব করতে উদ্যোগী হয়েছে। এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় উদ্ভাবন হলো হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন, যা ডিজেলচালিত ট্রেনের কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

হাইড্রোজেন ট্রেন মূলত এমন একটি আধুনিক রেলযান, যা চলার জন্য ডিজেল বা কয়লাভিত্তিক জ্বালানির পরিবর্তে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ব্যবহার করে। এই ফুয়েল সেলের ভেতরে হাইড্রোজেন ও বাতাসের অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। উৎপাদিত বিদ্যুৎ ট্রেনের বৈদ্যুতিক মোটর চালনা করে। এই প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড বা কালো ধোঁয়া প্রায় নির্গত হয় না, বরং উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হয় মূলত পানি ও জলীয় বাষ্প। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই রেল প্রযুক্তির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

এই প্রযুক্তির কার্যপ্রণালী বেশ সরল। হাইড্রোজেন ট্রেনে উচ্চচাপের বিশেষ ট্যাংকে হাইড্রোজেন গ্যাস সংরক্ষণ করা হয়। ট্রেন চলাচলের সময় এই গ্যাস ফুয়েল সেলে প্রবেশ করে এবং অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি ট্রেনের মোটরে সরবরাহ করা হয় এবং অতিরিক্ত শক্তি ব্যাটারিতে জমা থাকে। এমনকি ট্রেন ব্রেক করার সময়ও যে শক্তি উৎপন্ন হয়, সেটিও ব্যাটারিতে সংরক্ষিত হয়, যা শক্তির অপচয় কমিয়ে জ্বালানির ব্যবহারকে আরও দক্ষ করে তোলে। ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় এই প্রযুক্তি অনেক কম শব্দ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘ মেয়াদে এর পরিচালন ব্যয়ও কম হতে পারে।

পরিবেশবান্ধব রেল প্রযুক্তিতে জার্মানি পথিকৃতের ভূমিকা পালন করছে। ২০১৮ সালে দেশটি পরীক্ষামূলকভাবে বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর পর ২০২২ সালে বাণিজ্যিকভাবে এই প্রযুক্তি চালু করে। জার্মানির দেখানো পথে ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন এবং চীনের মতো দেশগুলোও হাইড্রোজেন ট্রেনের ব্যবহার ও উন্নয়নে এগিয়ে আসছে, যা ভবিষ্যতের রেল পরিবহনে একটি সবুজ বিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি: এক নারীর মৃত্যু, জুলাইয়ে আক্রান্ত সাড়ে চারশ ছাড়াল

পরিবেশবান্ধব হাইড্রোজেন ট্রেন: রেল পরিবহনে নতুন দিগন্ত

আপডেট সময় : ০৫:৫১:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার বিশ্বজুড়ে পরিবহন খাতকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর বৈশ্বিক অঙ্গীকার পূরণে বিভিন্ন দেশ তাদের পরিবহন ব্যবস্থাকে পরিবেশবান্ধব করতে উদ্যোগী হয়েছে। এই পরিবর্তনের অন্যতম বড় উদ্ভাবন হলো হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন, যা ডিজেলচালিত ট্রেনের কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করছে।

হাইড্রোজেন ট্রেন মূলত এমন একটি আধুনিক রেলযান, যা চলার জন্য ডিজেল বা কয়লাভিত্তিক জ্বালানির পরিবর্তে হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ব্যবহার করে। এই ফুয়েল সেলের ভেতরে হাইড্রোজেন ও বাতাসের অক্সিজেনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। উৎপাদিত বিদ্যুৎ ট্রেনের বৈদ্যুতিক মোটর চালনা করে। এই প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাই-অক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড বা কালো ধোঁয়া প্রায় নির্গত হয় না, বরং উপজাত হিসেবে উৎপন্ন হয় মূলত পানি ও জলীয় বাষ্প। ফলে এটি পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই রেল প্রযুক্তির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

এই প্রযুক্তির কার্যপ্রণালী বেশ সরল। হাইড্রোজেন ট্রেনে উচ্চচাপের বিশেষ ট্যাংকে হাইড্রোজেন গ্যাস সংরক্ষণ করা হয়। ট্রেন চলাচলের সময় এই গ্যাস ফুয়েল সেলে প্রবেশ করে এবং অক্সিজেনের সঙ্গে বিক্রিয়া করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি ট্রেনের মোটরে সরবরাহ করা হয় এবং অতিরিক্ত শক্তি ব্যাটারিতে জমা থাকে। এমনকি ট্রেন ব্রেক করার সময়ও যে শক্তি উৎপন্ন হয়, সেটিও ব্যাটারিতে সংরক্ষিত হয়, যা শক্তির অপচয় কমিয়ে জ্বালানির ব্যবহারকে আরও দক্ষ করে তোলে। ডিজেল ইঞ্জিনের তুলনায় এই প্রযুক্তি অনেক কম শব্দ সৃষ্টি করে এবং দীর্ঘ মেয়াদে এর পরিচালন ব্যয়ও কম হতে পারে।

পরিবেশবান্ধব রেল প্রযুক্তিতে জার্মানি পথিকৃতের ভূমিকা পালন করছে। ২০১৮ সালে দেশটি পরীক্ষামূলকভাবে বিশ্বের প্রথম হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর পর ২০২২ সালে বাণিজ্যিকভাবে এই প্রযুক্তি চালু করে। জার্মানির দেখানো পথে ফ্রান্স, ইতালি, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন এবং চীনের মতো দেশগুলোও হাইড্রোজেন ট্রেনের ব্যবহার ও উন্নয়নে এগিয়ে আসছে, যা ভবিষ্যতের রেল পরিবহনে একটি সবুজ বিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।