ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬

ফরাসি সরকারের ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স মেডেল-গোল্ড’ পেলেন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজহারুল ইসলামকে সম্মানসূচক পদক ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স মেডেল দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লেট তার বাসভবনে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই পদক দেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানসূচক ন্যাশনাল ডিফেন্স মেডেল– গোল্ড লেভেল দেওয়া হয়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই সম্মানসূচক পদক গ্রহণ করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহার ২০২২-২০২৩ সময়কালে কর্নেল পদে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স হেডকোয়ার্টারে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ (সাপোর্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় তিনি বিভিন্ন দেশের ১৩ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষীর লজিস্টিকস ও সাপোর্ট কার্যক্রম দক্ষভাবে সমন্বয় করেন।

২০২২ সালে ফরাসি বাহিনীর ‘বারখান’ অভিযান মালি থেকে পার্শ্ববর্তী নাইজার ও চাদে পুনর্বিন্যাসের ফলে মালির উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি ক্যাম্পের দায়িত্ব জাতিসংঘ মিশনের ওপর ন্যস্ত হয়। এ জটিল এবং সংবেদনশীল পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহারের নেতৃত্বাধীন লজিস্টিকস টিম নিরলসভাবে কাজ করে ফরাসি কন্টিনজেন্টের নিরাপদ প্রস্থান এবং জাতিসংঘ সদস্যদের সুবিন্যস্ত মোতায়েন নিশ্চিত করে।

২০২৩ সালে মালি থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হলে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তার নেতৃত্বাধীন লজিস্টিকস টিমের পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা, দলগত সমন্বয় এবং সূক্ষ্ম পরিকল্পনার ফলে সব জাতিসংঘ সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র-সরঞ্জামাদি নিরাপদে প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়।

আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা অপারেশনে তার এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ফরাসি সরকার তাকে ওই সম্মাননা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহার একজন অভিজ্ঞ শান্তিরক্ষী হিসেবে সুদান, আইভরি কোস্ট, সোমালিয়া এবং সর্বশেষ মালিসহ বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাক্তন মন্ত্রীর হত্যাকাণ্ডের পর: ইরানে নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিয়োগ

ফরাসি সরকারের ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স মেডেল-গোল্ড’ পেলেন বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা

আপডেট সময় : ১২:৫৮:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বাংলাদেশি সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজহারুল ইসলামকে সম্মানসূচক পদক ‘ন্যাশনাল ডিফেন্স মেডেল দেওয়া হয়েছে। ঢাকায় নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূত জিন-মার্ক সেরে-শার্লেট তার বাসভবনে মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে এই পদক দেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) জানায়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে সম্মানসূচক ন্যাশনাল ডিফেন্স মেডেল– গোল্ড লেভেল দেওয়া হয়। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে এই সম্মানসূচক পদক গ্রহণ করেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহার ২০২২-২০২৩ সময়কালে কর্নেল পদে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ফোর্স হেডকোয়ার্টারে ডেপুটি চিফ অব স্টাফ (সাপোর্ট) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এই সময় তিনি বিভিন্ন দেশের ১৩ হাজারের বেশি শান্তিরক্ষীর লজিস্টিকস ও সাপোর্ট কার্যক্রম দক্ষভাবে সমন্বয় করেন।

২০২২ সালে ফরাসি বাহিনীর ‘বারখান’ অভিযান মালি থেকে পার্শ্ববর্তী নাইজার ও চাদে পুনর্বিন্যাসের ফলে মালির উত্তরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি ক্যাম্পের দায়িত্ব জাতিসংঘ মিশনের ওপর ন্যস্ত হয়। এ জটিল এবং সংবেদনশীল পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহারের নেতৃত্বাধীন লজিস্টিকস টিম নিরলসভাবে কাজ করে ফরাসি কন্টিনজেন্টের নিরাপদ প্রস্থান এবং জাতিসংঘ সদস্যদের সুবিন্যস্ত মোতায়েন নিশ্চিত করে।

২০২৩ সালে মালি থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হলে মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তার নেতৃত্বাধীন লজিস্টিকস টিমের পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা, দলগত সমন্বয় এবং সূক্ষ্ম পরিকল্পনার ফলে সব জাতিসংঘ সদস্য ও তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র-সরঞ্জামাদি নিরাপদে প্রত্যাহার করা সম্ভব হয়।

আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা অপারেশনে তার এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ফরাসি সরকার তাকে ওই সম্মাননা দিয়েছে।

উল্লেখ্য, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজহার একজন অভিজ্ঞ শান্তিরক্ষী হিসেবে সুদান, আইভরি কোস্ট, সোমালিয়া এবং সর্বশেষ মালিসহ বিভিন্ন দেশে দায়িত্ব পালন করেছেন।