ঢাকা ১২:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

স্পেনের বিশ্ব ফুটবলে একচ্ছত্র আধিপত্য: সাফল্যের নেপথ্যে যে কারণগুলো

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ব ফুটবলে বর্তমানে স্পেনের জয়জয়কার। ‘আধিপত্য’ শব্দটির নতুন সংজ্ঞা তৈরি করছে তারা। জার্মানির বার্লিনে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের দুই বছর পরই নিউ জার্সির মাঠে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ‘লা রোজা’ খ্যাত স্প্যানিশরা আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তুলেছে। ২০১০ সালে ইউরো জয়ের পরপরই বিশ্বকাপ জেতার যে ঐতিহাসিক কীর্তি তারা গড়েছিল, বর্তমান দলটি ঠিক সেই রোমাঞ্চকর ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি করেছে।

বর্তমানে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের একক আধিপত্য বজায় রয়েছে। ২০২৩ সালে সিডনিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নারীরা বিশ্বকাপ জয় করার পর, এবার পুরুষ দলও বিশ্বসেরার শিরোপা অর্জন করেছে। এর ফলে, ইতিহাসের প্রথম দেশ হিসেবে একই সময়ে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এক অভাবনীয় নজির স্থাপন করেছে স্পেন।

গত পাঁচ বছরে স্প্যানিশ ফুটবলের জয়যাত্রা কেবল একটি বা দুটি ট্রফিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে শুরু করে বয়সভিত্তিক এবং সিনিয়র পর্যায় পর্যন্ত সব মিলিয়ে রেকর্ড ১৬টি বিশ্ব ও ইউরোপীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা। পুরুষ সিনিয়র দল জিতেছে নেশনস লিগ (২০২৩), ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৪), অলিম্পিক সোনা (২০২৪), এবং বিশ্বকাপ (২০২৬)। নারী সিনিয়র দল জিতেছে বিশ্বকাপ (২০২৩) এবং নেশনস লিগ (২০২৪ ও ২০২৫)। এছাড়া, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়েও তারা একাধিক মহাদেশীয় ও বৈশ্বিক ট্রফি জয় করেছে।

স্পেন দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুগভীর বোঝাপড়া। মূল স্কোয়াডের বেশিরভাগ ফুটবলারই বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দল অথবা ক্লাব পর্যায়ে একসঙ্গে খেলে আসছেন। এর ফলে, মাঠে তাদের মধ্যে বোঝাপড়া অত্যন্ত চমৎকার। কে কোথায় পাস বাড়াবে, কার মুভমেন্ট কেমন হবে—এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা আগে থেকেই ওয়াকিবহাল। এই দীর্ঘস্থায়ী সমন্বয় দলের পারফরম্যান্সে এক অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা এনে দিয়েছে। দারুণ প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যেই তারা বিশ্বমঞ্চে পা রেখেছিল এবং সেই মিশনে সফল হয়ে বীরের বেশে ঘরে ফিরেছেন লামিনে ইয়ামালরা, উনাই সিমোন-ফেরান তোরেসরা।

‘অ্যাটাক আপনাকে ম্যাচ জেতাতে পারে, কিন্তু ডিফেন্স জেটায় শিরোপা’—এই প্রবাদ বাক্যটি স্পেন দল অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে। তাদের রক্ষণভাগ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা। ডিফেন্ডারদের শারীরিক সক্ষমতা, ট্যাকল করার নিখুঁত সময়জ্ঞান এবং পজিশনাল সেন্স প্রতিপক্ষকে প্রায়শই Disable করে দেয়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের ১০ অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা জারি

স্পেনের বিশ্ব ফুটবলে একচ্ছত্র আধিপত্য: সাফল্যের নেপথ্যে যে কারণগুলো

আপডেট সময় : ১০:২৮:১৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলে বর্তমানে স্পেনের জয়জয়কার। ‘আধিপত্য’ শব্দটির নতুন সংজ্ঞা তৈরি করছে তারা। জার্মানির বার্লিনে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের দুই বছর পরই নিউ জার্সির মাঠে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে ‘লা রোজা’ খ্যাত স্প্যানিশরা আবারও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মুকুট মাথায় তুলেছে। ২০১০ সালে ইউরো জয়ের পরপরই বিশ্বকাপ জেতার যে ঐতিহাসিক কীর্তি তারা গড়েছিল, বর্তমান দলটি ঠিক সেই রোমাঞ্চকর ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি করেছে।

বর্তমানে পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে স্পেনের একক আধিপত্য বজায় রয়েছে। ২০২৩ সালে সিডনিতে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে নারীরা বিশ্বকাপ জয় করার পর, এবার পুরুষ দলও বিশ্বসেরার শিরোপা অর্জন করেছে। এর ফলে, ইতিহাসের প্রথম দেশ হিসেবে একই সময়ে পুরুষ ও নারী উভয় বিভাগে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এক অভাবনীয় নজির স্থাপন করেছে স্পেন।

গত পাঁচ বছরে স্প্যানিশ ফুটবলের জয়যাত্রা কেবল একটি বা দুটি ট্রফিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে শুরু করে বয়সভিত্তিক এবং সিনিয়র পর্যায় পর্যন্ত সব মিলিয়ে রেকর্ড ১৬টি বিশ্ব ও ইউরোপীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে তারা। পুরুষ সিনিয়র দল জিতেছে নেশনস লিগ (২০২৩), ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৪), অলিম্পিক সোনা (২০২৪), এবং বিশ্বকাপ (২০২৬)। নারী সিনিয়র দল জিতেছে বিশ্বকাপ (২০২৩) এবং নেশনস লিগ (২০২৪ ও ২০২৫)। এছাড়া, অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়েও তারা একাধিক মহাদেশীয় ও বৈশ্বিক ট্রফি জয় করেছে।

স্পেন দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো তাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে দীর্ঘদিনের সুগভীর বোঝাপড়া। মূল স্কোয়াডের বেশিরভাগ ফুটবলারই বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দল অথবা ক্লাব পর্যায়ে একসঙ্গে খেলে আসছেন। এর ফলে, মাঠে তাদের মধ্যে বোঝাপড়া অত্যন্ত চমৎকার। কে কোথায় পাস বাড়াবে, কার মুভমেন্ট কেমন হবে—এই বিষয়গুলো নিয়ে তারা আগে থেকেই ওয়াকিবহাল। এই দীর্ঘস্থায়ী সমন্বয় দলের পারফরম্যান্সে এক অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা এনে দিয়েছে। দারুণ প্রস্তুতি নিয়ে বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যেই তারা বিশ্বমঞ্চে পা রেখেছিল এবং সেই মিশনে সফল হয়ে বীরের বেশে ঘরে ফিরেছেন লামিনে ইয়ামালরা, উনাই সিমোন-ফেরান তোরেসরা।

‘অ্যাটাক আপনাকে ম্যাচ জেতাতে পারে, কিন্তু ডিফেন্স জেটায় শিরোপা’—এই প্রবাদ বাক্যটি স্পেন দল অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলে। তাদের রক্ষণভাগ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা। ডিফেন্ডারদের শারীরিক সক্ষমতা, ট্যাকল করার নিখুঁত সময়জ্ঞান এবং পজিশনাল সেন্স প্রতিপক্ষকে প্রায়শই Disable করে দেয়।