ঢাকা ১০:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইতালির ফুটবলের পুনরুজ্জীবনে গার্দিওলা? তুঙ্গে জল্পনা

ইউরোপের শীর্ষ তিন ফুটবল লিগ—স্পেন, জার্মানি এবং ইংল্যান্ডে ট্যাকটিক্যাল বিপ্লব ঘটিয়ে সাফল্যের শিখর স্পর্শ করেছেন পেপ গার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটিতে এক দশকের দীর্ঘ ও সফল যাত্রা শেষে বর্তমানে বিশ্রামে থাকা এই প্রখ্যাত স্প্যানিশ কোচের পরবর্তী গন্তব্য কি তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল? তাকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ করার জন্য ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের জোর প্রচেষ্টার খবর এখন ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট জিওভানি মালাগো গার্দিওলার সঙ্গে বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই কোচকে দলে ভেড়ানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে। ‘স্কাই ইন ইতালি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেশনের নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনি এবং তার উপদেষ্টা লিওনার্দো সম্প্রতি বার্সেলোনায় পেপ গার্দিওলার সঙ্গে তিন দিন ধরে আলোচনা করেছেন। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে পুনর্গঠন করার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে তারা গার্দিওলাকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন।

৫৫ বছর বয়সী গার্দিওলা যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন, তবে তিনি হবেন ইতালি জাতীয় দলের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিদেশি কোচ এবং ১৯৬০-এর দশকের পর প্রথম। এই মর্যাদাপূর্ণ পদের জন্য সাবেক ইতালি তারকা রবার্তো মানচিনি এবং আন্দ্রেয়া পিরলোর নামও আলোচনায় রয়েছে।

ইতালিয়ান ফুটবলের পরিবেশ গার্দিওলার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত নয়। ২০০১ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ইতালির সিরি ‘এ’-তে ব্রেসিয়া ও রোমার হয়ে দুটি মৌসুম কাটিয়েছেন এবং সাবলীলভাবে ইতালিয়ান ভাষায় কথা বলতে পারেন।

অন্যদিকে, ইতালি ফুটবল দল বর্তমানে এক ঐতিহাসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলেও, তারা টানা তিনটি বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ইউরোপীয় প্লে-অফ সেমিফাইনালে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরে বাদ পড়ার পর গত এপ্রিলে হেড কোচ জেনারো গাত্তুসো পদত্যাগ করেন। ফুটবল পরাশক্তি হিসেবে ইতালির হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করা এবং ২০২৮ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দলকে প্রস্তুত করাই হবে নতুন কোচের প্রধান লক্ষ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

১৭ জেলায় ঘণ্টায় ৬০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা

ইতালির ফুটবলের পুনরুজ্জীবনে গার্দিওলা? তুঙ্গে জল্পনা

আপডেট সময় : ০৯:২৭:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ইউরোপের শীর্ষ তিন ফুটবল লিগ—স্পেন, জার্মানি এবং ইংল্যান্ডে ট্যাকটিক্যাল বিপ্লব ঘটিয়ে সাফল্যের শিখর স্পর্শ করেছেন পেপ গার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটিতে এক দশকের দীর্ঘ ও সফল যাত্রা শেষে বর্তমানে বিশ্রামে থাকা এই প্রখ্যাত স্প্যানিশ কোচের পরবর্তী গন্তব্য কি তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল? তাকে জাতীয় দলের প্রধান কোচ করার জন্য ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের জোর প্রচেষ্টার খবর এখন ফুটবল বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট জিওভানি মালাগো গার্দিওলার সঙ্গে বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন এবং নিশ্চিত করেছেন যে, বিশ্বের অন্যতম সেরা এই কোচকে দলে ভেড়ানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা তাদের রয়েছে। ‘স্কাই ইন ইতালি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেশনের নতুন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ও কিংবদন্তি ডিফেন্ডার পাওলো মালদিনি এবং তার উপদেষ্টা লিওনার্দো সম্প্রতি বার্সেলোনায় পেপ গার্দিওলার সঙ্গে তিন দিন ধরে আলোচনা করেছেন। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে পুনর্গঠন করার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে তারা গার্দিওলাকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন।

৫৫ বছর বয়সী গার্দিওলা যদি এই প্রস্তাব গ্রহণ করেন, তবে তিনি হবেন ইতালি জাতীয় দলের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিদেশি কোচ এবং ১৯৬০-এর দশকের পর প্রথম। এই মর্যাদাপূর্ণ পদের জন্য সাবেক ইতালি তারকা রবার্তো মানচিনি এবং আন্দ্রেয়া পিরলোর নামও আলোচনায় রয়েছে।

ইতালিয়ান ফুটবলের পরিবেশ গার্দিওলার কাছে সম্পূর্ণ অপরিচিত নয়। ২০০১ থেকে ২০০৩ সালের মধ্যে খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ইতালির সিরি ‘এ’-তে ব্রেসিয়া ও রোমার হয়ে দুটি মৌসুম কাটিয়েছেন এবং সাবলীলভাবে ইতালিয়ান ভাষায় কথা বলতে পারেন।

অন্যদিকে, ইতালি ফুটবল দল বর্তমানে এক ঐতিহাসিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২১ সালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জিতলেও, তারা টানা তিনটি বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) কোয়ালিফাই করতে ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ইউরোপীয় প্লে-অফ সেমিফাইনালে বসনিয়া-হার্জেগোভিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরে বাদ পড়ার পর গত এপ্রিলে হেড কোচ জেনারো গাত্তুসো পদত্যাগ করেন। ফুটবল পরাশক্তি হিসেবে ইতালির হৃতগৌরব পুনরুদ্ধার করা এবং ২০২৮ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য দলকে প্রস্তুত করাই হবে নতুন কোচের প্রধান লক্ষ্য।