ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

শহীদ তাহমিদের বুকে গুলি ছুড়েছিল কে? দুই বছর পেরিয়েও মেলেনি উত্তর

নরসিংদীর শরীফ ইকবাল রাসেল জানাচ্ছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম শহীদ ১৫ বছর বয়সি তাহমিদ ভূঁইয়ার হত্যাকারী কে, তা দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই নরসিংদীতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারায় তাহমিদ।

সেদিন পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের উদ্দেশ্যে নরসিংদী জেলখানা মোড়ে জড়ো হন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে একটি মিছিল সেখানে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ নির্বিচারে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছোড়ে। মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও কিছু সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা আবার জেলখানা মোড়ে জড়ো হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন তাহমিদ ভূঁইয়া।

তাহমিদ ছিল নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর নন্দীপাড়া এলাকার পল্লি চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে শহরের নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস মালিহা বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়ে নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও গুলি করে। এতে তাহমিদসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাহমিদকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার দাবি, ওই দিনের ঘটনায় তাহমিদ ছাড়াও ইমন হোসেন, অনিকসহ আরও কয়েকজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন।

জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান জানান, ১৮ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে তাহমিদকে হাসপাতালে আনা হয়। তার বুক ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিল। বিকেল ৪টা থেকে পৌনে ৬টা পর্যন্ত আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সেই দিনের দৃশ্য এখনো মনে পড়লে চোখে পানি চলে আসে।

নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেদিন স্কুল বন্ধ ছিল। তাহমিদ কোটা আন্দোলনে গিয়ে জেলখানা মোড় এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়। সে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার স্মরণে প্রতি বছর বিদ্যালয়ে শোক পালন করা হয়।

তাহমিদের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, তিন ভাইবোনের মধ্যে তাহমিদ ছিল সবার বড় এবং পরিবারের একমাত্র ছেলে। লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেট ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। স্বপ্ন ছিল বিকেএসপিতে ভর্তি হয়ে একদিন জাতীয় দলের ক্রিকেটার হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জর্ডানের আকাশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: ৪টির মধ্যে ৩টি ভূপাতিত করার দাবি, ইসরাইলে সতর্কতা

শহীদ তাহমিদের বুকে গুলি ছুড়েছিল কে? দুই বছর পেরিয়েও মেলেনি উত্তর

আপডেট সময় : ১১:৪৭:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

নরসিংদীর শরীফ ইকবাল রাসেল জানাচ্ছেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম শহীদ ১৫ বছর বয়সি তাহমিদ ভূঁইয়ার হত্যাকারী কে, তা দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই নরসিংদীতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারায় তাহমিদ।

সেদিন পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধের উদ্দেশ্যে নরসিংদী জেলখানা মোড়ে জড়ো হন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে একটি মিছিল সেখানে পৌঁছালে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ নির্বিচারে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ও গুলি ছোড়ে। মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেও কিছু সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীরা আবার জেলখানা মোড়ে জড়ো হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলিবিদ্ধ হন তাহমিদ ভূঁইয়া।

তাহমিদ ছিল নরসিংদী সদর উপজেলার চিনিশপুর নন্দীপাড়া এলাকার পল্লি চিকিৎসক রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে শহরের নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী জান্নাতুল ফেরদৌস মালিহা বলেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়ে নির্বিচারে লাঠিচার্জ ও গুলি করে। এতে তাহমিদসহ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়। তাহমিদকে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার দাবি, ওই দিনের ঘটনায় তাহমিদ ছাড়াও ইমন হোসেন, অনিকসহ আরও কয়েকজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক আন্দোলনকারী আহত হন।

জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মিজানুর রহমান জানান, ১৮ জুলাই বিকেল ৪টার দিকে তাহমিদকে হাসপাতালে আনা হয়। তার বুক ঝাঁজরা হয়ে গিয়েছিল। বিকেল ৪টা থেকে পৌনে ৬টা পর্যন্ত আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, সেই দিনের দৃশ্য এখনো মনে পড়লে চোখে পানি চলে আসে।

নাছিমা কাদির মোল্লা হাইস্কুল অ্যান্ড হোমসের প্রধান শিক্ষক মো. ইমন হোসেন বলেন, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেদিন স্কুল বন্ধ ছিল। তাহমিদ কোটা আন্দোলনে গিয়ে জেলখানা মোড় এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হয়। সে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার স্মরণে প্রতি বছর বিদ্যালয়ে শোক পালন করা হয়।

তাহমিদের বাবা রফিকুল ইসলাম জানান, তিন ভাইবোনের মধ্যে তাহমিদ ছিল সবার বড় এবং পরিবারের একমাত্র ছেলে। লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেট ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। স্বপ্ন ছিল বিকেএসপিতে ভর্তি হয়ে একদিন জাতীয় দলের ক্রিকেটার হওয়ার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।