বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬-এর বহুল প্রতীক্ষিত ও হাইভোল্টেজ ফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে চলমান উন্মাদনায় এবার যুক্ত হতে যাচ্ছে এক সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা। ফুটবল মাঠের চিরন্তন পরাশক্তি স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার সোনালি শিরোপা লড়াইয়ের পাশাপাশি এবারই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ‘সুপার বোল’-এর আদলে এক জমজমাট ‘হাফটাইম শো’ (বিরতি কালীন অনুষ্ঠান)-এর আয়োজন করা হচ্ছে। ফুটবলের দীর্ঘ ইতিহাসে এই যুগান্তকারী ও অভূতপূর্ব নতুন সংযোজনকে ঘিরে বিশ্বজুড়ে ক্রীড়া ও বিনোদন প্রেমীদের মাঝে এক বাড়তি আগ্রহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।
আগামী রবিবার (বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী রাত ১টা) নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা ফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর বিরতির সময় স্টেডিয়ামের ঠিক মাঝখানে অনুষ্ঠিত হবে প্রায় ১১ মিনিটের এই বিশেষ ও তারকাখচিত সংগীতানুষ্ঠান। এই বিশাল অনুষ্ঠানের জন্য মাঠের ভেতর দ্রুত মঞ্চ তৈরি করা এবং পরিবেশনা শেষে তা আবার নিরাপদ ও অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হবে। আর এই বিশেষ কারিগরি কারণে ফাইনাল ম্যাচের হাফটাইমের বা বিরতির মোট সময় স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপের ইতিহাসের এই প্রথম হাফটাইম শো-কে চিরস্মরণীয় ও অনন্য করে তুলতে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় শীর্ষ সংগীত তারকাদের একই মঞ্চে নিয়ে এসেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA) এবং আন্তর্জাতিক সংস্থা গ্লোবাল সিটিজেন। ২০২৬ সালের এই ঐতিহাসিক আয়োজনে সরাসরি পারফর্ম করবেন বিশ্ব কাঁপানো পপ তারকা জাস্টিন বিবার, ল্যাটিন সম্রাজ্ঞী শাকিরা, পপ মেগাস্টার ম্যাডোনা, দক্ষিণ কোরিয়ার বিশ্বখ্যাত জনপ্রিয় বয় ব্যান্ড বিটিএস (BTS), আফ্রোবিট সংগীতের বৈশ্বিক তারকা বার্না বয়, বিশ্বখ্যাত অর্কেস্ট্রা কন্ডাক্টর গুস্তাভো দুদামেল এবং বিশ্বজুড়ে সমাদৃত পিএস২২ কোরাস দল। বিখ্যাত ব্রিটিশ রক ব্যান্ড কোল্ডপ্লে (Coldplay)-এর প্রধান গায়ক ক্রিস মার্টিন পুরো অনুষ্ঠানের সৃজনশীল তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনার (Creative Supervision) মূল দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাশাপাশি কোল্ডপ্লে ব্যান্ড দলটিও এই অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ পরিবেশনায় সরাসরি অংশ নেবে।
বিশ্বকাপের মতো এমন একটি ঐতিহাসিক ও বৈশ্বিক মহোৎসবের অংশ হতে পেরে নিজের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ প্রকাশ করেছেন পপ তারকা জাস্টিন বিবার। নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ ফুটবল পুরো পৃথিবীকে ও মানবজাতিকে এক সুতোয় বেঁধে রাখে। এই ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী আয়োজনের অংশ হতে পারা আমার জীবনের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি বিষয়। তবে আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের ও ইতিবাচক বিষয় হলো, এই মহৎ উদ্যোগটি থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করবে।’
একই সাথে এবারের বিশ্বকাপের অফিশিয়াল থিম সং বা গান ‘দাই দাই’-এর অন্যতম মূল কণ্ঠশিল্পী বার্না বয়-ও তাঁর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, বিশ্বকাপের ফাইনালের এই জমকালো মঞ্চে সমগ্র আফ্রিকার সংগীত ও সংস্কৃতিকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারা তাঁর জন্য চরম গর্বের। বিনোদন বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, শাকিরা ও বার্না বয়ের একসঙ্গে গাওয়া জনপ্রিয় গানটিও এই হাফটাইম শোতে লাইভ পরিবেশন করা হতে পারে।
এই মেগা অনুষ্ঠানে শুধু যে বিশ্বের নামিদামি সংগীতশিল্পীরাই সুরের মূর্ছনা ছড়াবেন তা নয়; বরং ছোট ছোট শিশুদের আনন্দের কথা বিবেচনা করেও রাখা হয়েছে বিশেষ ও আকর্ষণীয় আয়োজন। বিশ্বজুড়ে শিশুদের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শিশুতোষ টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘সিসেমি স্ট্রিট’ (Sesame Street)-এর অতি পরিচিত ও জনপ্রিয় পুতুল চরিত্রগুলোর পাশাপাশি বিশ্বখ্যাত ‘কারমিট দ্য ফ্রগ’ ও ‘মিস পিগি’-এর মতো অ্যানিমেটেড চরিত্রগুলোও এই জমকালো অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশ নিয়ে দর্শকদের বিনোদিত করবে।
ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই জমকালো আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য কেবল দর্শকদের সস্তা বিনোদন দেওয়া নয়। এই ঐতিহাসিক হাফটাইম শো থেকে সংগৃহীত ও উপার্জিত সমস্ত অর্থ সরাসরি ব্যয় করা হবে ‘ফিফা গ্লোবাল সিটিজেন এডুকেশন ফান্ড’ (তহবিল)-এর উন্নয়ন কাজে। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সুবিধাবঞ্চিত ও অবহেলিত শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের ফুটবলে অংশগ্রহণের সুযোগ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রাথমিক অবস্থায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বিশাল তহবিল গঠনের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এই বৈশ্বিক সংস্থাটি।
এই মহৎ প্রজেক্ট প্রসঙ্গে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাঁর বিশেষ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বর্তমান বিশ্বে এই মুহূর্তে মানুষের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় ও মৌলিক জিনিসের কথা যদি ওঠে, তবে শিক্ষার চেয়ে বড় ও মহৎ কিছু আর অন্য কোনো কিছু হতে পারে না। তাই বিশ্বের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষার আলো ছড়ানো এবং তাদের ফুটবলের মূলধারায় অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়িয়ে দেওয়ার এই মানবিক উদ্যোগে জাস্টিন বিবার, ম্যাডোনা, শাকিরা এবং বিটিএস-এর মতো বিশ্বখ্যাত তারকাদের সহযোগী হিসেবে পাশে পেয়ে আমরা অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত।’
রিপোর্টারের নাম 























