দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোলে দুদিনের টানা বৃষ্টিতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন শেড ও ইয়ার্ডে হাঁটুপানি জমে যাওয়ায় কোটি কোটি টাকার আমদানি পণ্য পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে শতাধিক আমদানিকারক চরম উদ্বেগ ও আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করলেও, বন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীরা স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বৃষ্টিতে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন পাঁচটি শেডে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য, যেমন—রাসায়নিক, খাদ্যদ্রব্য, মেশিনারিজ ইত্যাদি পানিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। কোথাও কোথাও পানি জমে যাওয়ায় পণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন ও খালাস কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বন্দর কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে পাওয়ার পাম্প ব্যবহার করে পানি সরানোর চেষ্টা করছে। ইতোমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীদের প্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন।
বন্দর ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, বেনাপোল বন্দরে নানা অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব রয়েছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে শত শত কোটি টাকার আমদানি পণ্য এভাবে ক্ষতির মুখে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য অতীতে একটি কমিটি গঠন করা হলেও তার কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। গত বর্ষায় কয়েকদিন তৎপরতা দেখা গেলেও পরে আর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এদিকে, অধিকাংশ আমদানি পণ্যের বীমা না থাকায় ক্ষতির সম্পূর্ণ দায় ব্যবসায়ীদেরই বহন করতে হচ্ছে। ফলে অনেক আমদানিকারক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বেনাপোলের ব্যবসায়ী বাবলুর রহমান বলেন, বন্দরে পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 






















