কক্সবাজার শহরতলীর পূর্ব কলাতলী ঝরঝরি পাড়া এলাকায় এক মর্মান্তিক পাহাড় ধসের ঘটনায় রোজিনা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূ প্রাণ হারিয়েছেন। শনিবার রাত ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ের একটি অংশ ধসে পড়ে রোজিনা বেগমের রান্নাঘরটি চাপা দেয়। তবে, তার স্বামী আব্দুল মজিদ অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচতে সক্ষম হন। এই ঘটনায় জেলায় পাহাড় ধস ও বন্যায় এ পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৫ জন উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী দলের সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন রাতে রোজিনা বেগম তার স্বামীর সাথে রাতের খাবার খাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি রান্নাঘরে গেলে হঠাৎ করেই ভারি বর্ষণের মধ্যে পাহাড়ের উপরের অংশ ধসে পড়ে। এতে তিনি রান্নাঘরের নিচে মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং স্থানীয়রা। প্রায় কয়েক ঘণ্টার উদ্ধার অভিযানের পর রোজিনা বেগমকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
রোজিনা বেগমের স্বামী আব্দুল মজিদ জানান, তিনি বারবার স্ত্রীকে পাহাড়ের পাশের রান্নাঘরে যেতে নিষেধ করেছিলেন, কারণ অতিবৃষ্টিতে পাহাড় ধসে পড়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু গ্যাসের সিলিন্ডার খুলতে গিয়ে তিনি রান্নাঘরে ঢুকতেই পাহাড় ধসে পড়ে। তিনি অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও তার স্ত্রী মর্মান্তিকভাবে নিহত হন। ঘটনার সময় তারা দুজনে পেছনের ঘরে এবং আব্দুল মজিদের বাবা ও ছোট মেয়ে সামনের ঘরে ছিলেন।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং দীর্ঘ চেষ্টার পর মৃত অবস্থায় রোজিনা বেগমকে উদ্ধার করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 






















