ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬

অব্যবহৃত বিমানবন্দর থাকতে নতুন প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে সংশয়

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সরকারের নতুন এভিয়েশন মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে আটটি স্টল পোর্টকে (শর্ট টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং) অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া, সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহী বিমানবন্দরকে ‘আন্তর্জাতিক গেইটওয়ে’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বেসরকারি এয়ারলাইন্স অপারেটর ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পনার বাণিজ্যিক বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, পদ্মা সেতু ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের সময় অনেক কমে এসেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীসংখ্যার ওপর।

নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, এসব বিমানবন্দরের পেছনে যে স্কেলে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, “যশোর ও রাজশাহীতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটই ঠিকমতো পরিচালিত হয় না, সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।” ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারাও একইভাবে সড়কপথের প্রতিযোগিতার মুখে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, ঢাকা থেকে সড়কপথে গন্তব্যে পৌঁছাতে যে সময় লাগে, বিমানবন্দর প্রটোকলসহ ফ্লাইটের যাত্রীদের তার চেয়ে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের উদাহরণ টেনে বলেন, বিপুল টাকা খরচ করে রানওয়ে সম্প্রসারণ করলেও সেখানে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কার্গো কমপ্লেক্স, সিকিউরিটি সিস্টেম ও পর্যাপ্ত ট্যাক্সিওয়ের মতো মৌলিক সুবিধার অভাব রয়েছে। এই বাস্তবতায় কক্সবাজার বা বগুড়ার মতো নতুন নতুন বিমানবন্দর তৈরি করে আঞ্চলিক হাব হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়া কতটা কঠিন হবে, তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “টাকা ঢেলে বিমানবন্দর তৈরি করে তারপর পরিকল্পনা করলে তা কখনোই সফল হবে না; বরং প্রয়োজন চাহিদার ভিত্তিতে পূর্বপরিকল্পিত বিনিয়োগ।”

সরকার অবশ্য এই বিমানবন্দরগুলোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, এই বিমানবন্দরগুলো চালু হলে দেশের বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগ বাড়বে এবং আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিতি পাবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই বিপুল বিনিয়োগের আগে প্রতিটি বিমানবন্দরের ‘কমার্শিয়াল ভায়াবিলিটি’ বা বাণিজ্যিক সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি। শুধুমাত্র বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে কিছু অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলা হলেও অন্য বিমানবন্দরগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাস্তবমুখী চিন্তা না করে কেবল নতুন নতুন বিমানবন্দর তৈরি করাটা এক ধরণের বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

চৌদ্দগ্রামে বিধবার সীমানা প্রাচীর গুঁড়িয়ে দিলো প্রভাবশালীরা, থানায় মামলা

অব্যবহৃত বিমানবন্দর থাকতে নতুন প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে সংশয়

আপডেট সময় : ১২:৫১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

সরকারের নতুন এভিয়েশন মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, বিদ্যমান বিমানবন্দরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন করে আটটি স্টল পোর্টকে (শর্ট টেকঅফ অ্যান্ড ল্যান্ডিং) অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বগুড়া, সৈয়দপুর, যশোর ও রাজশাহী বিমানবন্দরকে ‘আন্তর্জাতিক গেইটওয়ে’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বেসরকারি এয়ারলাইন্স অপারেটর ও এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা এই পরিকল্পনার বাণিজ্যিক বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের মতে, পদ্মা সেতু ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠায় ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াতের সময় অনেক কমে এসেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের যাত্রীসংখ্যার ওপর।

নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজুর রহমান স্পষ্টভাবেই জানিয়েছেন, এসব বিমানবন্দরের পেছনে যে স্কেলে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তা বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তিনি বলেন, “যশোর ও রাজশাহীতে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটই ঠিকমতো পরিচালিত হয় না, সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।” ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারাও একইভাবে সড়কপথের প্রতিযোগিতার মুখে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, ঢাকা থেকে সড়কপথে গন্তব্যে পৌঁছাতে যে সময় লাগে, বিমানবন্দর প্রটোকলসহ ফ্লাইটের যাত্রীদের তার চেয়ে বিশেষ কোনো সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহেদুল আলম কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের উদাহরণ টেনে বলেন, বিপুল টাকা খরচ করে রানওয়ে সম্প্রসারণ করলেও সেখানে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোকে আকৃষ্ট করা যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হওয়া সত্ত্বেও সেখানে কার্গো কমপ্লেক্স, সিকিউরিটি সিস্টেম ও পর্যাপ্ত ট্যাক্সিওয়ের মতো মৌলিক সুবিধার অভাব রয়েছে। এই বাস্তবতায় কক্সবাজার বা বগুড়ার মতো নতুন নতুন বিমানবন্দর তৈরি করে আঞ্চলিক হাব হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেওয়া কতটা কঠিন হবে, তা নিয়েও তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, “টাকা ঢেলে বিমানবন্দর তৈরি করে তারপর পরিকল্পনা করলে তা কখনোই সফল হবে না; বরং প্রয়োজন চাহিদার ভিত্তিতে পূর্বপরিকল্পিত বিনিয়োগ।”

সরকার অবশ্য এই বিমানবন্দরগুলোকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছে। বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, এই বিমানবন্দরগুলো চালু হলে দেশের বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগ বাড়বে এবং আঞ্চলিক এভিয়েশন হাব হিসেবে বাংলাদেশ পরিচিতি পাবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় এই বিপুল বিনিয়োগের আগে প্রতিটি বিমানবন্দরের ‘কমার্শিয়াল ভায়াবিলিটি’ বা বাণিজ্যিক সক্ষমতা যাচাই করা জরুরি। শুধুমাত্র বাগেরহাটের খানজাহান আলী বিমানবন্দরের ক্ষেত্রে কিছু অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা বলা হলেও অন্য বিমানবন্দরগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, বাস্তবমুখী চিন্তা না করে কেবল নতুন নতুন বিমানবন্দর তৈরি করাটা এক ধরণের বিলাসিতা ছাড়া আর কিছুই নয়।