ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের বিদ্যমান দাম জুলাই মাসেও বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের দাম প্রতি লিটারে চার টাকা ৪৪ পয়সা কমিয়ে ১১৩ টাকা ৫৪ পয়সা থেকে ১০৯ টাকা ১০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ ও বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে মঙ্গলবার জুলাই মাসের জন্য এই মূল্যহার ঘোষণা করেছে।
যুদ্ধ বন্ধে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর দ্রুত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪০ ডলারের বেশি বেড়ে যায়। যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশেও ভোক্তাদের জন্য জ্বালানি তেলের দাম দুদফা বাড়ানো হয়। প্রথম দফায় গত ১৮ এপ্রিল জ্বালানি বিভাগ প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা ও কেরোসিন ১৩০ টাকা করে নির্ধারণ করে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরবরাহ ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখার কথা বলে আগের দামের তুলনায় ডিজেল লিটারে ১৫ টাকা, কেরোসিন ১৮ টাকা, অকটেন ২০ টাকা আর পেট্রোল লিটারে ১৯ টাকা বাড়ানো হয়।
দ্বিতীয় দফায় জুন মাসের জন্য ডিজেলের দাম অপরিবর্তিত রেখে কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের দাম প্রতিলিটার পাঁচ টাকা বাড়িয়ে যথাক্রমে ১৩৫ টাকা, ১৪৫ টাকা এবং ১৪০ টাকা করা হয়। জুন মাসের জন্য নির্ধারিত এই মূল্যহার জুলাই মাসের জন্যও বহাল রাখা হয়েছে।
নতুন মূল্যহার নিয়ে জ্বালানি বিভাগের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ভোক্তা পর্যায়ে ডিজেলের বিক্রয়মূল্য প্রতিলিটার ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং কেরোসিন ১৩৫ টাকা বহাল থাকবে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান মূল্যহার ১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও বাংলাদেশে এর সুফল পেতে আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে? এমন প্রশ্ন ছিল জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে। জবাবে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে যেসব জাহাজ বাংলাদেশে আসছে, এগুলোর অর্ডার আরো আগে করা হয়েছে। তখন জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারেই সর্বোচ্চ ছিল। এখন যেসব অর্ডার দেওয়া হচ্ছে, সেগুলো খালাস হলেও দাম কমে আসবে।
তিনি বলেন, সাধারণত আন্তর্জাতিক বাজারে তিন মাসের দামের গড় করে দেশে প্রতি মাসে পরবর্তী মাসের জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়।
রিপোর্টারের নাম 


















