ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

মাদকের সহজলভ্যতা ও আসক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি: রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব দায়ী

দেশে মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা আশঙ্কাজনক হারে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘যুব উন্নয়ন সংসদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বক্তারা জানান, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা সহজেই এর ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য এক ভয়াবহ বার্তা।

সেমিনারে অংশ নিয়ে বক্তারা মাদক নির্মূলের জন্য সীমান্ত পথে মাদকের প্রবেশ বন্ধ করার ওপর জোর দেন। তাদের অভিযোগ, সরকার এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং এর পেছনে অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাবে যেন কেউ মাদকে না জড়ায়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এজন্য একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেন বক্তারা।

রাওয়া ক্লাবের সভাপতি কর্নেল (অব.) আব্দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক।

যুব উন্নয়ন সংসদের সদস্য সচিব ড. মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ, যুব উন্নয়ন সংসদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি মো. কামাল হোসেন এমপি, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে কর্নেল (অব.) আব্দুল হক বলেন, মাদকের প্রাথমিক ধাপ হলো সিগারেট, যা সরকার আজও বন্ধ করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত, সেখানে মাদক নির্মূল অসম্ভব। তাই সবার আগে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া জরুরি, কারণ দুর্নীতিই সব অপরাধের মূল উৎস। সেমিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপির দায়ে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল: আপিল বিভাগের রায়ে নতুন মোড়

মাদকের সহজলভ্যতা ও আসক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি: রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব দায়ী

আপডেট সময় : ০২:১৩:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

দেশে মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা আশঙ্কাজনক হারে মাদকাসক্তের সংখ্যা বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বক্তারা। মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘যুব উন্নয়ন সংসদ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে তারা এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বক্তারা জানান, মাদকের সহজলভ্যতার কারণে শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণীরা সহজেই এর ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে, যা সমাজের জন্য এক ভয়াবহ বার্তা।

সেমিনারে অংশ নিয়ে বক্তারা মাদক নির্মূলের জন্য সীমান্ত পথে মাদকের প্রবেশ বন্ধ করার ওপর জোর দেন। তাদের অভিযোগ, সরকার এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং এর পেছনে অনেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া যুবসমাজকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয় বলেও তারা মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাবে যেন কেউ মাদকে না জড়ায়, সেদিকেও নজর দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এজন্য একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথা বলেন বক্তারা।

রাওয়া ক্লাবের সভাপতি কর্নেল (অব.) আব্দুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ডিআইজি আনোয়ার হোসেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক।

যুব উন্নয়ন সংসদের সদস্য সচিব ড. মোবারক হোসাইনের পরিচালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নকীব মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ, যুব উন্নয়ন সংসদের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি মো. কামাল হোসেন এমপি, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে কর্নেল (অব.) আব্দুল হক বলেন, মাদকের প্রাথমিক ধাপ হলো সিগারেট, যা সরকার আজও বন্ধ করতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যেখানে দুর্নীতিগ্রস্ত, সেখানে মাদক নির্মূল অসম্ভব। তাই সবার আগে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়া জরুরি, কারণ দুর্নীতিই সব অপরাধের মূল উৎস। সেমিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।