ঢাকা ০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

জুলাই অভ্যুত্থান ছাত্রদলের ১৭ বছরের আন্দোলনের ফল: রিজভী

আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের মানুষকে সবসময় অন্যায়, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা জোগাবে।

জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (১ জুলাই) প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শীর্ষক এক মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টা থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন।

রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্যে বলেন, “এই আলো কেবল সাময়িক অন্ধকার দূর করার জন্য নয়, এটি ভুবনভরা আলো। জুলাইয়ের স্মৃতি আমাদের আলোকিত করবে, প্রজ্বলিত করবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন সংগ্রামে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কোনো শুভ সময়ে জন্ম নেয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তারা দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথ চলেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই দীর্ঘ আন্দোলনেরই শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।”

শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রিজভী বলেন, “এই আলোর প্রজ্বালন শুধু এক দিনের জন্য নয়। প্রতিদিন সব কটি জানালা খুলে রাখতে হবে, যেন কোনো অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী শক্তির আর কখনও আগমন ঘটতে না পারে। শহীদদের স্মৃতি কেবল একটি দিনের জন্য নয়, একটি মাসের জন্যও নয়; তাদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রতিদিন জাগিয়ে রাখবে।”

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি। চীনের প্রাচীরের মতো বুক চিতিয়ে কীভাবে গুলি খেতে হয়, সেই দৃশ্য আমি দেখেছি। আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু ওয়াসিম আকরামকে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে তপ্ত বুলেট বরণ করতে দেখেছি। আমি প্রশান্ত মহাসাগর দেখিনি, কিন্তু আহাজাবের মায়ের চোখের জল দেখেছি। সেই অশ্রু প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়েও গভীর।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঋণখেলাপির দায়ে আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল: আপিল বিভাগের রায়ে নতুন মোড়

জুলাই অভ্যুত্থান ছাত্রদলের ১৭ বছরের আন্দোলনের ফল: রিজভী

আপডেট সময় : ০২:১২:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এই মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ দেশের মানুষকে সবসময় অন্যায়, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা জোগাবে।

জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বুধবার (১ জুলাই) প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শীর্ষক এক মোমবাতি প্রজ্বালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এই কর্মসূচির আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন করা হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টা থেকেই ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন।

রুহুল কবির রিজভী তার বক্তব্যে বলেন, “এই আলো কেবল সাময়িক অন্ধকার দূর করার জন্য নয়, এটি ভুবনভরা আলো। জুলাইয়ের স্মৃতি আমাদের আলোকিত করবে, প্রজ্বলিত করবে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে নতুন সংগ্রামে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেবে।”

তিনি আরও বলেন, “জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কোনো শুভ সময়ে জন্ম নেয়নি। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে তারা দমন-পীড়ন, নির্যাতন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে পথ চলেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান সেই দীর্ঘ আন্দোলনেরই শ্রেষ্ঠ প্রকাশ।”

শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে রিজভী বলেন, “এই আলোর প্রজ্বালন শুধু এক দিনের জন্য নয়। প্রতিদিন সব কটি জানালা খুলে রাখতে হবে, যেন কোনো অগণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারী শক্তির আর কখনও আগমন ঘটতে না পারে। শহীদদের স্মৃতি কেবল একটি দিনের জন্য নয়, একটি মাসের জন্যও নয়; তাদের আত্মত্যাগ আমাদের প্রতিদিন জাগিয়ে রাখবে।”

আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, “আমি চীনের প্রাচীর দেখিনি, আবু সাঈদের বুক দেখেছি। চীনের প্রাচীরের মতো বুক চিতিয়ে কীভাবে গুলি খেতে হয়, সেই দৃশ্য আমি দেখেছি। আমি হিমালয় দেখিনি, কিন্তু ওয়াসিম আকরামকে হিমালয়ের মতো দাঁড়িয়ে তপ্ত বুলেট বরণ করতে দেখেছি। আমি প্রশান্ত মহাসাগর দেখিনি, কিন্তু আহাজাবের মায়ের চোখের জল দেখেছি। সেই অশ্রু প্রশান্ত মহাসাগরের চেয়েও গভীর।”