ঢাকা ০৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ব্যর্থতা: এডওয়ার্ড আর মারোর স্মরণে

এডওয়ার্ড আর মারো, আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্রডকাস্ট সাংবাদিক ও যুদ্ধ সংবাদদাতা, আধুনিক সাংবাদিকতার এক পথিকৃৎ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লন্ডনে বোমা হামলার মুখে তার সরাসরি রেডিও রিপোর্টিং ‘দিস ইজ লন্ডন’ তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়। পঞ্চাশের দশকে যখন আমেরিকার সিনেটর জোসেফ ম্যাককার্থি কমিউনিস্ট সন্দেহে বহু মানুষের জীবন ধ্বংস করছিলেন, তখন মারো তার টেলিভিশন শো ‘সি ইট নাও’-এ তথ্য-প্রমাণসহ ম্যাককার্থির ভয়ংকর রূপ জনসমক্ষে তুলে ধরেন। এটি আমেরিকার রাজনীতি ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

মারোর একটি উক্তি ছিল, ‘আমরা যদি নিজেদের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি লালন করি, তবে আমরা এমন একটি অসভ্য যুগে প্রবেশ করব, যেখানে সততা কোনো কাজে আসবে না।’ এই মন্তব্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমরা ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। এই অসভ্য শাসনকে কেবল ব্যক্তিগত ও পেশাগত সততা দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি; এর জন্য যে সম্মিলিত সাহসের প্রয়োজন ছিল, তা আমরা দেখাতে পারিনি। ভয়ের সংস্কৃতির পাশাপাশি লোভ, স্বার্থ এবং ‘কদমবুসি’ সংস্কৃতিও ফ্যাসিবাদকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করেছে। আমাদের এই নতজানুতার শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর। ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে সদ্যোজাত বাংলাদেশের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যখন লন্ডন হয়ে দেশে ফেরেন, তখন ঢাকায় বিমানবন্দরে এক জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক তাকে পা ছুঁয়ে সালাম করেন, যা ‘কদমবুসি সম্পাদক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তার এই আচরণ অন্যদের মধ্যেও সংক্রমিত হয় এবং নতুন শাসকদের মনে যে গরিমা সঞ্চারিত করে, তা অনিবার্যভাবে স্বৈরাশাসনের দিকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমরা দেখেছি কীভাবে আত্মমর্যাদাহীন এই বশংবদ সংস্কৃতি ফ্যাসিবাদের লালন ও বিকাশে ভূমিকা রেখেছে। ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভোগের আশায় আমাদের সহকর্মীরাই কীভাবে শয়তানের কাছে নিজেদের আত্মা বন্ধক রেখেছেন, তাও আমরা দেখেছি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

হত্যাকাণ্ডে ইন্ধনদাতাদের ছাড় নেই, অন্যদের আত্মশুদ্ধির সুযোগ আছে: মাহমুদুর রহমান

ফ্যাসিবাদ মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ব্যর্থতা: এডওয়ার্ড আর মারোর স্মরণে

আপডেট সময় : ০৬:৪৯:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

এডওয়ার্ড আর মারো, আমেরিকার ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী ব্রডকাস্ট সাংবাদিক ও যুদ্ধ সংবাদদাতা, আধুনিক সাংবাদিকতার এক পথিকৃৎ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লন্ডনে বোমা হামলার মুখে তার সরাসরি রেডিও রিপোর্টিং ‘দিস ইজ লন্ডন’ তাকে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি এনে দেয়। পঞ্চাশের দশকে যখন আমেরিকার সিনেটর জোসেফ ম্যাককার্থি কমিউনিস্ট সন্দেহে বহু মানুষের জীবন ধ্বংস করছিলেন, তখন মারো তার টেলিভিশন শো ‘সি ইট নাও’-এ তথ্য-প্রমাণসহ ম্যাককার্থির ভয়ংকর রূপ জনসমক্ষে তুলে ধরেন। এটি আমেরিকার রাজনীতি ও সাংবাদিকতার ইতিহাসে এক সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়।

মারোর একটি উক্তি ছিল, ‘আমরা যদি নিজেদের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি লালন করি, তবে আমরা এমন একটি অসভ্য যুগে প্রবেশ করব, যেখানে সততা কোনো কাজে আসবে না।’ এই মন্তব্য বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। আমরা ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। এই অসভ্য শাসনকে কেবল ব্যক্তিগত ও পেশাগত সততা দিয়ে মোকাবিলা করা সম্ভব হয়নি; এর জন্য যে সম্মিলিত সাহসের প্রয়োজন ছিল, তা আমরা দেখাতে পারিনি। ভয়ের সংস্কৃতির পাশাপাশি লোভ, স্বার্থ এবং ‘কদমবুসি’ সংস্কৃতিও ফ্যাসিবাদকে শক্তিশালী হতে সাহায্য করেছে। আমাদের এই নতজানুতার শুরু হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর। ১৯৭২ সালের জানুয়ারিতে সদ্যোজাত বাংলাদেশের নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যখন লন্ডন হয়ে দেশে ফেরেন, তখন ঢাকায় বিমানবন্দরে এক জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক তাকে পা ছুঁয়ে সালাম করেন, যা ‘কদমবুসি সম্পাদক’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। তার এই আচরণ অন্যদের মধ্যেও সংক্রমিত হয় এবং নতুন শাসকদের মনে যে গরিমা সঞ্চারিত করে, তা অনিবার্যভাবে স্বৈরাশাসনের দিকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আমরা দেখেছি কীভাবে আত্মমর্যাদাহীন এই বশংবদ সংস্কৃতি ফ্যাসিবাদের লালন ও বিকাশে ভূমিকা রেখেছে। ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট ভোগের আশায় আমাদের সহকর্মীরাই কীভাবে শয়তানের কাছে নিজেদের আত্মা বন্ধক রেখেছেন, তাও আমরা দেখেছি।