ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬

বিক্রেতার ভিড়ে ক্রেতাশূন্য গাবতলী হাট, লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা বেপারীরা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাটে ঈদুল আজহার আগের রাতেও ছিল কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত জোগান। হাটের মূল অংশে জায়গা না পেয়ে অনেক ব্যবসায়ীকেই সড়কের পাশে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও হাটে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল নগণ্য। এমন পরিস্থিতিতে একদিকে ক্রেতারা কম দামে পশু কিনতে পেরে সন্তুষ্ট হলেও, অন্যদিকে বাড়তি লাভের আশায় অপেক্ষমাণ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।

রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রেতাদের হতাশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেকেই আফসোস করে বলছিলেন, আর কখনো গরু নিয়ে গাবতলী হাটে আসবেন না। সন্ধ্যায় কিছুটা চাঙা ভাব থাকলেও, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যায়। অনেক বিক্রেতাই কম দামে গরু বিক্রি করতে রাজি না হয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছেন, আবার অনেকে লোকসান মেনে নিয়েই দ্রুত পশুর বিক্রি শেষ করে হাট ছাড়তে ব্যতিব্যস্ত।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার পূর্ব ভাকুম গ্রাম থেকে আসা শেখ আরশাদ আলী জানান, রোজার এক মাস আগে তিনি দুই লাখ টাকায় একটি গরু কিনেছিলেন। কসাইয়ের হিসাবে এখন তার গরুর দাম দেড় লাখ টাকা হলেও, ক্রেতারা দাম বলছেন মাত্র এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। আরশাদ আলী বলেন, ‘বাজার ভালো থাকলে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় গরুটি বিক্রি করতে পারতাম। চার মাস ধরে গরুর পেছনে খেটেছি, আমার চার মাসের বেতন, গরুর পেছনে খরচ সব বৃথা গেল। বাজার পড়ে গেছে, আমি এই দামে গরু বিক্রি করবো না। রাতটা অপেক্ষা করে দেখি।’

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কৃষক মানুনও একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মাত্র দুই-চার হাজার টাকা লাভ পেলেই গরু বিক্রি করে দিতাম। কিন্তু বেশি লাভের আশায় সোমবার থেকে চেষ্টা করেও পারিনি। এখন গরুর দাম বলছে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অথচ দুদিন আগেও এই গরুর দাম উঠেছিল দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা। বিক্রি না করে খুব বড় ভুল করেছি। এখন মনে হচ্ছে, বাড়িতে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বাজার আরেকটু ভালো হলে অন্তত এক লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারতাম।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে টাস্কফোর্সের সাঁড়াশি অভিযান: দুই ভবন মালিককে জরিমানা

বিক্রেতার ভিড়ে ক্রেতাশূন্য গাবতলী হাট, লোকসানের আশঙ্কায় দিশেহারা বেপারীরা

আপডেট সময় : ০১:০৮:৫২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী গাবতলী পশুর হাটে ঈদুল আজহার আগের রাতেও ছিল কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত জোগান। হাটের মূল অংশে জায়গা না পেয়ে অনেক ব্যবসায়ীকেই সড়কের পাশে গরু নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে পশুর পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও হাটে ক্রেতার উপস্থিতি ছিল নগণ্য। এমন পরিস্থিতিতে একদিকে ক্রেতারা কম দামে পশু কিনতে পেরে সন্তুষ্ট হলেও, অন্যদিকে বাড়তি লাভের আশায় অপেক্ষমাণ ব্যবসায়ী ও কৃষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম হতাশা।

রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রেতাদের হতাশা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অনেকেই আফসোস করে বলছিলেন, আর কখনো গরু নিয়ে গাবতলী হাটে আসবেন না। সন্ধ্যায় কিছুটা চাঙা ভাব থাকলেও, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলে যায়। অনেক বিক্রেতাই কম দামে গরু বিক্রি করতে রাজি না হয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চাইছেন, আবার অনেকে লোকসান মেনে নিয়েই দ্রুত পশুর বিক্রি শেষ করে হাট ছাড়তে ব্যতিব্যস্ত।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার পূর্ব ভাকুম গ্রাম থেকে আসা শেখ আরশাদ আলী জানান, রোজার এক মাস আগে তিনি দুই লাখ টাকায় একটি গরু কিনেছিলেন। কসাইয়ের হিসাবে এখন তার গরুর দাম দেড় লাখ টাকা হলেও, ক্রেতারা দাম বলছেন মাত্র এক লাখ ৩০ হাজার টাকা। আরশাদ আলী বলেন, ‘বাজার ভালো থাকলে এক লাখ ৬০ হাজার টাকায় গরুটি বিক্রি করতে পারতাম। চার মাস ধরে গরুর পেছনে খেটেছি, আমার চার মাসের বেতন, গরুর পেছনে খরচ সব বৃথা গেল। বাজার পড়ে গেছে, আমি এই দামে গরু বিক্রি করবো না। রাতটা অপেক্ষা করে দেখি।’

কুষ্টিয়ার কুমারখালীর কৃষক মানুনও একই ধরনের হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘মাত্র দুই-চার হাজার টাকা লাভ পেলেই গরু বিক্রি করে দিতাম। কিন্তু বেশি লাভের আশায় সোমবার থেকে চেষ্টা করেও পারিনি। এখন গরুর দাম বলছে এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অথচ দুদিন আগেও এই গরুর দাম উঠেছিল দুই লাখ পাঁচ হাজার টাকা। বিক্রি না করে খুব বড় ভুল করেছি। এখন মনে হচ্ছে, বাড়িতে নিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। বাজার আরেকটু ভালো হলে অন্তত এক লাখ ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারতাম।’