ঢাকা ০৫:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

দ্বিগুণ শ্রমিক মজুরিতে চাপে কৃষক, ধানের দাম না বাড়ায় লোকসানের শঙ্কা

দিনাজপুরের হিলিতে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই। তবে বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন মোটামুটি ভালো হলেও ধানের বাজারদর আশানুরূপ না থাকায় উৎপাদন খরচ তোলা নিয়েই উদ্বেগে পড়েছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হলেও ধানের দাম বাড়েনি। ফলে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে ধান পেকে গেলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ায় সময়মতো কাটতে পারছেন না কৃষকরা, এতে বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।

হিলির লোহাচড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গতবার এক বিঘা জমির ধান কাটতে খরচ হয়েছিল সাড়ে তিন হাজার টাকা, এবার লাগছে প্রায় সাত হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ধান মাড়াইয়েও খরচ হচ্ছে সাড়ে সাত হাজার টাকা। এরপরও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। একই এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন ও সাতকুড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, বাড়তি টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না এবং সব খরচ বাড়লেও ধানের দাম আগের মতোই রয়েছে। বর্তমানে চিকন জাতের ধান প্রতি মণ ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। অন্যদিকে শ্রমিক সিদ্দিক হোসেন বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারাও বাধ্য হয়ে বেশি মজুরি নিচ্ছেন। তিনি জানান, প্রতি বিঘা ধান কাটায় ছয় হাজার টাকা এবং মাঠ থেকে বাড়ি পৌঁছে দিতে আরও ৭০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ৭ হাজার ৬২৪ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও বাস্তবে আরও তিন হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, মাঠ পর্যায়ে এক বিঘায় ২৬ থেকে ২৭ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক আসতে শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে শ্রমিক সংকট কমবে। পাশাপাশি কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দ্রুত ধান কাটা ও নিরাপদ সংরক্ষণের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাজ্যে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, তদন্ত অব্যাহত

দ্বিগুণ শ্রমিক মজুরিতে চাপে কৃষক, ধানের দাম না বাড়ায় লোকসানের শঙ্কা

আপডেট সময় : ০৬:৫৯:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

দিনাজপুরের হিলিতে শুরু হয়েছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই। তবে বৈরী আবহাওয়া ও তীব্র শ্রমিক সংকটের কারণে ধান ঘরে তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন মোটামুটি ভালো হলেও ধানের বাজারদর আশানুরূপ না থাকায় উৎপাদন খরচ তোলা নিয়েই উদ্বেগে পড়েছেন তারা। কৃষকদের অভিযোগ, গত বছরের তুলনায় এবার ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হলেও ধানের দাম বাড়েনি। ফলে বাড়তি খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক জমিতে ধান পেকে গেলেও পর্যাপ্ত শ্রমিক না পাওয়ায় সময়মতো কাটতে পারছেন না কৃষকরা, এতে বৃষ্টিতে ক্ষতির আশঙ্কাও বাড়ছে।

হিলির লোহাচড়া গ্রামের কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, গতবার এক বিঘা জমির ধান কাটতে খরচ হয়েছিল সাড়ে তিন হাজার টাকা, এবার লাগছে প্রায় সাত হাজার টাকা। বিঘাপ্রতি ধান মাড়াইয়েও খরচ হচ্ছে সাড়ে সাত হাজার টাকা। এরপরও পর্যাপ্ত শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি জানান, হঠাৎ বৃষ্টিতে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। একই এলাকার কৃষক মকবুল হোসেন ও সাতকুড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল লতিফ বলেন, বাড়তি টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছে না এবং সব খরচ বাড়লেও ধানের দাম আগের মতোই রয়েছে। বর্তমানে চিকন জাতের ধান প্রতি মণ ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষকরা। অন্যদিকে শ্রমিক সিদ্দিক হোসেন বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারাও বাধ্য হয়ে বেশি মজুরি নিচ্ছেন। তিনি জানান, প্রতি বিঘা ধান কাটায় ছয় হাজার টাকা এবং মাঠ থেকে বাড়ি পৌঁছে দিতে আরও ৭০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে হাকিমপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি বোরো মৌসুমে উপজেলায় ৭ হাজার ৬২৪ হেক্টর জমিতে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও বাস্তবে আরও তিন হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, মাঠ পর্যায়ে এক বিঘায় ২৬ থেকে ২৭ মণ পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে শ্রমিক আসতে শুরু করেছে এবং ধীরে ধীরে শ্রমিক সংকট কমবে। পাশাপাশি কৃষকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে দ্রুত ধান কাটা ও নিরাপদ সংরক্ষণের বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।