ইতালি যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে মানব পাচারকারী চক্রের নির্মম নির্যাতনে প্রাণ গেল মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার এক যুবকের। প্রায় ৪৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরও শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি রাজৈরের ঘোষালকান্দি গ্রামের তছির ফকিরকে। বুধবার তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।
নিহত তছির ফকির ছিলেন রাজৈর উপজেলার ঘোষালকান্দি গ্রামের কালু ফকিরের ছেলে। টেকেরহাট বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ছোট চায়ের দোকান চালিয়ে স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে কোনোমতে সংসার চালাতেন তিনি। পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় প্রায় আট মাস আগে ইতালি যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তছির।
স্বজনদের অভিযোগ, পার্শ্ববর্তী পূর্ব স্বরমঙ্গল গ্রামের রফিকুল ইসলাম বাঘা নামের এক দালাল ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তছিরকে লিবিয়ায় পাঠায়। এ জন্য প্রাথমিকভাবে প্রায় ২৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু লিবিয়ায় পৌঁছানোর পরই তিনি মাফিয়া চক্রের হাতে বন্দি হন এবং অমানবিক নির্যাতনের শিকার হন।
পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, নির্যাতনের ভিডিও ও ভয়ভীতি দেখিয়ে তছিরের পরিবারের কাছ থেকে আরও প্রায় ২০ লাখ টাকা আদায় করা হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লিবিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার কথা বলে দালালচক্র আরও ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাসপাতালের আইসিইউতেই মৃত্যুবরণ করেন তছির ফকির।
বুধবার লিবিয়ায় অবস্থানরত পরিচিতজনদের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছায়। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুর পর মানবপাচারকারী চক্র লাশ গুম করার চেষ্টাও করেছে। নিহতের স্ত্রী ইসমত আরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার স্বামীকে বিদেশে পাঠাতে গিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। এখন আমি শুধু আমার স্বামীর লাশ দেশে ফেরত চাই এবং জড়িতদের বিচার চাই।” নিহতের মেয়ে সুরাইয়া আক্তার সরকারের কাছে বাবার লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা এবং পরিবারের জন্য সহযোগিতা চেয়েছেন।
এদিকে, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত দালাল রফিকুল ইসলাম বাঘা ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় টেকেরহাটের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও শোক বিরাজ করছে।
রিপোর্টারের নাম 





















