ঢাকা ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণের পুনরাবৃত্তি: আতঙ্কে জনজীবন, কারণ অনুসন্ধানের দাবি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একের পর এক গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপের তারতম্য, অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহ এবং অসাবধানতার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

জানা গেছে, গত ১১ মে সকালে ফতুল্লার কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকায় শওকত হোসেন গাজীর ভাড়া বাড়িতে এক ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন, যাদের মধ্যে আব্দুল কাদের, তার ছেলে এবং পরিবারের আরও দুই সদস্য রয়েছেন। বাড়ির মালিক শওকত হোসেন জানান, সকাল ৬টার দিকে বিকট শব্দ শুনে তারা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখেন যে পরিবারের সদস্যরা আগুনে ঝলসে গেছেন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ও ফ্রিজ প্রায় অক্ষত থাকলেও বিস্ফোরণের তীব্রতায় দরজা-জানালা ছিটকে দূরে গিয়ে পড়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা গ্যাস থেকেই এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত।

এর মাত্র একদিন আগে, গত ১০ মে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ৯ তলা ভবনের নিচতলার বাসায় আরেকটি গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। ওই ঘটনায় দগ্ধ গৃহবধূ সালমা জানান, ভোরে তার স্বামী কালাম রান্নাঘরে চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করলে মুহূর্তেই বিকট শব্দে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে তারা কোনোমতে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুটি ঘটনায়ই বিস্ফোরণের আগে ঘরে গ্যাস জমেছিল এবং ভোরবেলায় চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। একই ধরনের ঘটনায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো এলাকায় এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানকার গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরেই চাপের তারতম্য রয়েছে। অনেক এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাস থাকে না, গভীর রাতে গ্যাস আসে। এতে অনেক সময় চুলার ত্রুটি বা অসাবধানতাবশত চুলা বন্ধ না থাকায় গ্যাস পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে, যা এমন দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাগুরায় স্ত্রী-সন্তানকে বাঁচাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের করুণ মৃত্যু

ফতুল্লায় গ্যাস বিস্ফোরণের পুনরাবৃত্তি: আতঙ্কে জনজীবন, কারণ অনুসন্ধানের দাবি

আপডেট সময় : ০২:১০:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একের পর এক গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে পৃথক দুটি ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ গ্যাস সংযোগ, শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপের তারতম্য, অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহ এবং অসাবধানতার কারণেই এ ধরনের দুর্ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

জানা গেছে, গত ১১ মে সকালে ফতুল্লার কুতুবপুর লাকিবাজার এলাকায় শওকত হোসেন গাজীর ভাড়া বাড়িতে এক ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন, যাদের মধ্যে আব্দুল কাদের, তার ছেলে এবং পরিবারের আরও দুই সদস্য রয়েছেন। বাড়ির মালিক শওকত হোসেন জানান, সকাল ৬টার দিকে বিকট শব্দ শুনে তারা ঘর থেকে বেরিয়ে এসে দেখেন যে পরিবারের সদস্যরা আগুনে ঝলসে গেছেন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখা যায়, ঘরের ভেতরের আসবাবপত্র ও ফ্রিজ প্রায় অক্ষত থাকলেও বিস্ফোরণের তীব্রতায় দরজা-জানালা ছিটকে দূরে গিয়ে পড়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, ঘরের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা গ্যাস থেকেই এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত।

এর মাত্র একদিন আগে, গত ১০ মে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ৯ তলা ভবনের নিচতলার বাসায় আরেকটি গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের পাঁচজন দগ্ধ হন। আহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল। ওই ঘটনায় দগ্ধ গৃহবধূ সালমা জানান, ভোরে তার স্বামী কালাম রান্নাঘরে চুলা জ্বালানোর চেষ্টা করলে মুহূর্তেই বিকট শব্দে পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রাণ বাঁচাতে তারা কোনোমতে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুটি ঘটনায়ই বিস্ফোরণের আগে ঘরে গ্যাস জমেছিল এবং ভোরবেলায় চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। একই ধরনের ঘটনায় অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পুরো এলাকায় এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ফতুল্লা শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এখানকার গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘদিন ধরেই চাপের তারতম্য রয়েছে। অনেক এলাকায় দিনের বেলায় গ্যাস থাকে না, গভীর রাতে গ্যাস আসে। এতে অনেক সময় চুলার ত্রুটি বা অসাবধানতাবশত চুলা বন্ধ না থাকায় গ্যাস পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে, যা এমন দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।