নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। কারাগারের বন্দিজীবন থেকে সাময়িক প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ঘরে ফিরে মায়ের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন ৩৭ বছর বয়সী আদিবাসী যুবক নরেশ পাহান। শেষবারের মতো মায়ের লাশের পাশে দাঁড়ানোর এই দৃশ্য পুরো এলাকায় গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার হাটনগর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নরেশ ওই এলাকার মৃত চৈত্যা পাহানের ছেলে। জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে মাদক মামলায় নরেশকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। এদিকে, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তার মা কুলাউ পাহান। পরিবারের শত চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
মায়ের মৃত্যুর খবর কারাগারে পৌঁছানোর পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মানবিক বিবেচনায় নরেশকে স্বল্প সময়ের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। বাড়িতে পৌঁছেই মায়ের মরদেহ দেখে নির্বাক হয়ে পড়েন তিনি। কিছুক্ষণ নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে থাকার পর হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। তার কান্নায় আশপাশের পরিবেশ ভারি হয়ে ওঠে এবং উপস্থিত স্বজন ও প্রতিবেশীদের অনেকেই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি।
স্থানীয়রা জানান, মা-ছেলের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর। কারাগারে থাকলেও মায়ের খোঁজখবর নিয়মিত নিতেন নরেশ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, শেষ দেখা হলো মায়ের লাশের পাশে দাঁড়িয়ে। পরে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের উপস্থিতিতে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
ধামইরহাট থানার ওসি মিন্টু রহমান জানান, নরেশকে ১০ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার পর তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























