পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয় মেনে নিতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই নির্বাচনী ফলাফলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন বলে জানা গেছে। ২০২৬ সালের এই নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটতে পারেন তিনি।
বুধবার কালীঘাটে নবনির্বাচিত দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মমতা এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। নির্বাচনে ২০০-এর বেশি আসন পেয়ে জয়ী হওয়া বিজেপি এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন তিনি। বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নির্বাচনী ম্যান্ডেটকে চ্যালেঞ্জ করার পাশাপাশি তিনি আবারও আইনি পেশায় ফিরছেন। তার সঙ্গে এবার হেরে যাওয়া বিদায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও আদালতে আইনি লড়াই শুরু করবেন। মমতা জোর দিয়ে বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচনে ধাক্কা খেলেও দিল্লির রাজনীতিতে বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য থেকে তিনি বিচ্যুত হননি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তার মতে, ‘ছিনতাই’ হওয়া ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে এটি তার এক ধরনের প্রতিবাদ। একই সুর শোনা গেছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠেও। তিনি দলীয় নেতাদের পদ না ছাড়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এই ম্যান্ডেটের বিরুদ্ধে নিজ নিজ পদে আসীন থাকাটাই হবে বড় প্রতিবাদ। ডায়মন্ড হারবারের এই সংসদ সদস্য আরও জানান, ভোট পরবর্তী সহিংসতার বিরুদ্ধেও দল আইনি সহায়তা নেবে।
বৈঠক শেষে মমতা বলেন, কেন্দ্র চাইলে রাজ্যে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করতে পারে। তবে তা যেন দাফতরিক নথিতে লিপিবদ্ধ থাকে। আগামী ৯ মে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যখন নতুন বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলবে, তখন তৃণমূলের প্রতিটি কার্যালয়ে রবীন্দ্রসংগীত বাজানোর নির্দেশ দিয়েছেন মমতা। দিনটিকে প্রতিবাদের অংশ হিসেবেই দেখছে তার দল। এ ছাড়া বিজয়ী প্রার্থীদের নিজ নিজ এলাকায় থেকে তৃণমূল স্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 



















