ঢাকা ০১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ভিআইপিদের নিরাপত্তায় ‘আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট’ দেহরক্ষী

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৯:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) নিরাপত্তায় নিয়োজিত দেহরক্ষীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এক নজিরবিহীন ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে নিযুক্ত ১১১ জন দেহরক্ষীর একটি বড় অংশই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক সুপারিশে বা ‘ছাত্রলীগ কোটায়’ পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্ত। এমনকি তাঁদের অনেকে বিগত সরকারের মন্ত্রীদের গানম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এই বিতর্ক সামনে আসার পর এরই মধ্যে অন্তত ১২ জন দেহরক্ষীকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৩০ জনের বিষয়ে নিবিড় অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। এসবি প্রধান সরদার নুরুল আমিন নিশ্চিত করেছেন যে, দেহরক্ষী নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পরিবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রগুলো জানায়, নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আগেই নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে বিগত সরকারের আমলে দেহরক্ষী থাকা কাউকে রাখা হবে না। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসবি ও পুলিশ সদর দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার তদবির, সুপারিশ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎকোচের বিনিময়ে সেই সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে বিতর্কিতদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে খোদ পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, এ ধরনের নিয়োগ রাষ্ট্রের অত্যন্ত গোপনীয় ও স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমনকি অনেক ভিআইপিও তাঁদের দেহরক্ষীদের সাথে আলাপকালে তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শের কথা জানতে পেরে আইজিপি-কে অবহিত করেন।

প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে দেখা যায় যে সাবেক আওয়ামী লীগ মন্ত্রীদের দেহরক্ষীরাই বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। যেমন—সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর দেহরক্ষী কাউছার আহমেদ বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দেহরক্ষী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। একইভাবে সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকারের গানম্যানরা বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত হন। এ বিষয়ে অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুক এবং সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা মনে করেন, পুলিশ বাহিনী এখনো পুরোপুরি পেশাদার হয়ে না ওঠায় দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্তদের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এসবি বর্তমানে নিয়মিত ‘ভেটিং’ বা চারিত্রিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই বিতর্কিতদের সরানোর প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবলিক পরীক্ষায় দীর্ঘদিনের ‘নীরব বহিষ্কার’ প্রথা বাতিল

ভিআইপিদের নিরাপত্তায় ‘আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট’ দেহরক্ষী

আপডেট সময় : ১১:২৯:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং বর্তমান মন্ত্রিসভার সদস্যসহ সরকারের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) নিরাপত্তায় নিয়োজিত দেহরক্ষীদের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে এক নজিরবিহীন ও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বর্তমানে নিযুক্ত ১১১ জন দেহরক্ষীর একটি বড় অংশই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক সুপারিশে বা ‘ছাত্রলীগ কোটায়’ পুলিশে নিয়োগপ্রাপ্ত। এমনকি তাঁদের অনেকে বিগত সরকারের মন্ত্রীদের গানম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এই বিতর্ক সামনে আসার পর এরই মধ্যে অন্তত ১২ জন দেহরক্ষীকে তাঁদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং আরও ৩০ জনের বিষয়ে নিবিড় অনুসন্ধান চালাচ্ছে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি)। এসবি প্রধান সরদার নুরুল আমিন নিশ্চিত করেছেন যে, দেহরক্ষী নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ পাওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে পরিবর্তন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের সূত্রগুলো জানায়, নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আগেই নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে বিগত সরকারের আমলে দেহরক্ষী থাকা কাউকে রাখা হবে না। তবে অভিযোগ রয়েছে, এসবি ও পুলিশ সদর দপ্তরের কিছু কর্মকর্তার তদবির, সুপারিশ এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে উৎকোচের বিনিময়ে সেই সিদ্ধান্ত লঙ্ঘন করে বিতর্কিতদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে খোদ পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) কামরুল আহসান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয় যে, এ ধরনের নিয়োগ রাষ্ট্রের অত্যন্ত গোপনীয় ও স্পর্শকাতর তথ্য পাচারের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমনকি অনেক ভিআইপিও তাঁদের দেহরক্ষীদের সাথে আলাপকালে তাঁদের রাজনৈতিক মতাদর্শের কথা জানতে পেরে আইজিপি-কে অবহিত করেন।

প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যেখানে দেখা যায় যে সাবেক আওয়ামী লীগ মন্ত্রীদের দেহরক্ষীরাই বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন। যেমন—সাবেক বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটুর দেহরক্ষী কাউছার আহমেদ বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের দেহরক্ষী হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। একইভাবে সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী শহীদুজ্জামান সরকারের গানম্যানরা বর্তমান সরকারের আইনমন্ত্রী, ভূমিমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত হন। এ বিষয়ে অপরাধ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মুহাম্মদ ওমর ফারুক এবং সাবেক আইজিপি মুহাম্মদ নুরুল হুদা মনে করেন, পুলিশ বাহিনী এখনো পুরোপুরি পেশাদার হয়ে না ওঠায় দলীয় বিবেচনায় নিয়োগপ্রাপ্তদের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এসবি বর্তমানে নিয়মিত ‘ভেটিং’ বা চারিত্রিক অনুসন্ধানের মাধ্যমে এই বিতর্কিতদের সরানোর প্রক্রিয়া চলমান রেখেছে।