ঢাকা ১২:৫৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ইসিতে বাগেরহাটের ‍বিএনপি-জামায়াত নেতারা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:১৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

বাগেরহাটের আসন পুনর্বহাল নিয়ে আদালত যে রায় দিয়েছে, সেই রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বাগেরহাট জেলার বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন প্রতিনিধি।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে এ দাবি জানান তারা।

বৈঠকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ ওয়াদিজ্জুমান দিপু, বিএনপির জেলা উপদেষ্টা ও তাঁতি দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, জামায়াতের মনজুরুল ইসলাম রাহাতসহ বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ ওয়াদিজ্জুমান দিপু বলেন, রায়ের কপি আসেনি। আমরা তার পূর্বেই ইসি সচিব ও সিইসির সঙ্গে দেখা করেছি। আমরা বাগেরহাটের জনগণের আর্তি তাদেরকে জানিয়েছি। আইনি-বেআইনি যে প্রক্রিয়ায় হোক, ইসি যে কাজটি করেছে, তা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে অবৈধ ও বেআইনি ঘোষিত হয়েছে। আমরা ইসিকে অনুরোধ জানাবো, আপনারা আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবেন।

তিনি বলেন, আর এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাবেন না, যা ওই অঞ্চলের জনগণের প্রতি নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে কমিশনের শুনানিও হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্তে অটল থাকে। ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেটে চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে বাগেরহাটকে তিন আসন দেওয়া হয়। গাজীপুরের আসন ৫টি থেকে বেড়ে হয় ৬টি।

সে সময় সীমানা নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে ইসি জানায়, কমিশন সর্বোচ্চ সতর্কতা নিরপেক্ষতা এবং যৌক্তিক দাবি-আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে সীমানা নির্ধারণ করেছে। সীমানার চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে আদালতে অভিযোগ দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

পরে নির্বাচন কমিশনের গেজেট চ্যালেঞ্জ করে এর আগে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহালের আবেদন নিয়ে হাই কোর্টে দুটি আবেদন রিট করা হয়। বাংলাদেশ সরকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে সেখানে বিবাদী করা হয়।

এই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর চারটি সংসদীয় আসন বহাল করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না এবং চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করে নির্বাচন কমিশনের গেজেট কেন অবৈধ হবে না, তা জানাতে রুল জারি করা হয়। নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

সবশেষ সোমবার (১০ নভেম্বর) আগের চারটি আসন বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের হাই কোর্ট বেঞ্চ।

বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে কমিয়ে তিনটি করে নির্বাচন কমিশন যে গেজেট জারি করেছিল, তা অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজ্যসভার সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক

আদালতের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ইসিতে বাগেরহাটের ‍বিএনপি-জামায়াত নেতারা

আপডেট সময় : ০৪:১৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

বাগেরহাটের আসন পুনর্বহাল নিয়ে আদালত যে রায় দিয়েছে, সেই রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন বাগেরহাট জেলার বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন প্রতিনিধি।

মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে এ দাবি জানান তারা।

বৈঠকে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ ওয়াদিজ্জুমান দিপু, বিএনপির জেলা উপদেষ্টা ও তাঁতি দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মনিরুজ্জামান মনির, জামায়াতের মনজুরুল ইসলাম রাহাতসহ বেশ কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ ওয়াদিজ্জুমান দিপু বলেন, রায়ের কপি আসেনি। আমরা তার পূর্বেই ইসি সচিব ও সিইসির সঙ্গে দেখা করেছি। আমরা বাগেরহাটের জনগণের আর্তি তাদেরকে জানিয়েছি। আইনি-বেআইনি যে প্রক্রিয়ায় হোক, ইসি যে কাজটি করেছে, তা দেশের সর্বোচ্চ আদালতে অবৈধ ও বেআইনি ঘোষিত হয়েছে। আমরা ইসিকে অনুরোধ জানাবো, আপনারা আদালতের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাবেন।

তিনি বলেন, আর এমন কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাবেন না, যা ওই অঞ্চলের জনগণের প্রতি নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করার প্রস্তাব দেয়। ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। চারটি আসন বহাল রাখার দাবিতে কমিশনের শুনানিও হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্তে অটল থাকে। ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত গেজেটে চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে বাগেরহাটকে তিন আসন দেওয়া হয়। গাজীপুরের আসন ৫টি থেকে বেড়ে হয় ৬টি।

সে সময় সীমানা নিয়ে আন্দোলনের মধ্যে ইসি জানায়, কমিশন সর্বোচ্চ সতর্কতা নিরপেক্ষতা এবং যৌক্তিক দাবি-আপত্তি বিবেচনায় নিয়ে সীমানা নির্ধারণ করেছে। সীমানার চূড়ান্ত তালিকা নিয়ে আদালতে অভিযোগ দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

পরে নির্বাচন কমিশনের গেজেট চ্যালেঞ্জ করে এর আগে বাগেরহাটে চারটি সংসদীয় আসন বহালের আবেদন নিয়ে হাই কোর্টে দুটি আবেদন রিট করা হয়। বাংলাদেশ সরকার, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, নির্বাচন কমিশন সচিব ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে সেখানে বিবাদী করা হয়।

এই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত ১৬ সেপ্টেম্বর চারটি সংসদীয় আসন বহাল করতে কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না এবং চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করে নির্বাচন কমিশনের গেজেট কেন অবৈধ হবে না, তা জানাতে রুল জারি করা হয়। নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

সবশেষ সোমবার (১০ নভেম্বর) আগের চারটি আসন বহাল রাখার নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের হাই কোর্ট বেঞ্চ।

বাগেরহাটের চারটি সংসদীয় আসন থেকে কমিয়ে তিনটি করে নির্বাচন কমিশন যে গেজেট জারি করেছিল, তা অবৈধ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট।