মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
১২:০৩ পূর্বাহ্ন | ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ | মঙ্গলবার, ১১ই কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি

হারাম এলাকার সীমানায় স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্কের বিধান

  • হালনাগাদ সময় : ১০:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র মক্কা ও মদিনার হারাম সীমানার ভেতর ঝগড়া-বিবাদ করা কিংবা শিকার করার মতো কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে ধর্মীয় বিধিনিষেধ রয়েছে। এ কারণে অনেকের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে, এই পবিত্র ও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ এলাকায় অবস্থানের কারণে কি স্বামী-স্ত্রীর বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কও নিষিদ্ধ হয়ে যায়?

বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও ফকিহদের মতে, ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কেবল হারাম সীমানার ভেতরে অবস্থানের কারণে স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সহবাস নিষিদ্ধ হয় না। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তারা বর্তমানে ‘ইহরাম’ অবস্থায় আছেন কি না। যদি তারা ইহরামমুক্ত থাকেন, তবে কোনো বাধা নেই।

হজ বা উমরার আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিয়মমাফিক হালাল হওয়ার পর মক্কা কিংবা মদিনার হারাম এলাকার ভেতরে হোটেল বা নিজস্ব বাসগৃহে অবস্থানকালেও স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা সম্পূর্ণ জায়েজ। ফতোয়ায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইহরাম গ্রহণের পূর্বে কিংবা উমরা সম্পন্ন করার পর হারাম এলাকায় অবস্থান করলেও দাম্পত্য সম্পর্কে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকে না। তবে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় এই বিধান সম্পূর্ণ ভিন্ন।

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, হজ বা উমরার জন্য ইহরাম গ্রহণের পর স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি যৌন সম্পর্কের প্ররোচনা জোগাতে পারে এমন সব আচরণ থেকেও এ সময় বিরত থাকা আবশ্যক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘অতঃপর যে ব্যক্তি এ মাসগুলোতে নিজের ওপর হজ অবধারিত করে নেয়, তার জন্য হজের মধ্যে স্ত্রী-সম্ভোগ, পাপাচার ও ঝগড়াবিবাদ বৈধ নয়।’ (সুরা আল বাকারা: ১৯৭)

যদি কেউ অজ্ঞতাবশত বা ভুলবশত ইহরাম অবস্থায় এই বিধান লঙ্ঘন করেন, তবে তা হজ বা উমরার ওপর প্রভাব ফেলে এবং পরিস্থিতির আলোকে ক্ষতিপূরণ বা দম ওয়াজিব হতে পারে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজে থেকে কোনো মনগড়া সিদ্ধান্ত না নিয়ে সবসময় অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিদায় হজের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ থেকেও ইহরাম ও হালাল হওয়ার সুনির্দিষ্ট বিধান প্রমাণিত রয়েছে।

Share this news as a Photo Card

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনসংলগ্ন গ্রামে বাঘের আতঙ্ক, ড্রোনে চলছে অনুসন্ধান

26 October 2026

শ্বশুর-শাশুড়িকে ‘আব্বা-আম্মা’ বলা কি শরিয়তসম্মত?

www.deshkhobor24.com |
fb/deshkhobor24bd

হারাম এলাকার সীমানায় স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য সম্পর্কের বিধান

হালনাগাদ সময় : ১০:৩৫:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পবিত্র মক্কা ও মদিনার হারাম সীমানার ভেতর ঝগড়া-বিবাদ করা কিংবা শিকার করার মতো কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে ধর্মীয় বিধিনিষেধ রয়েছে। এ কারণে অনেকের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে, এই পবিত্র ও বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ এলাকায় অবস্থানের কারণে কি স্বামী-স্ত্রীর বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কও নিষিদ্ধ হয়ে যায়?

বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার ও ফকিহদের মতে, ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী কেবল হারাম সীমানার ভেতরে অবস্থানের কারণে স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সহবাস নিষিদ্ধ হয় না। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তারা বর্তমানে ‘ইহরাম’ অবস্থায় আছেন কি না। যদি তারা ইহরামমুক্ত থাকেন, তবে কোনো বাধা নেই।

হজ বা উমরার আনুষ্ঠানিকতা শেষে নিয়মমাফিক হালাল হওয়ার পর মক্কা কিংবা মদিনার হারাম এলাকার ভেতরে হোটেল বা নিজস্ব বাসগৃহে অবস্থানকালেও স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা সম্পূর্ণ জায়েজ। ফতোয়ায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইহরাম গ্রহণের পূর্বে কিংবা উমরা সম্পন্ন করার পর হারাম এলাকায় অবস্থান করলেও দাম্পত্য সম্পর্কে কোনো নিষেধাজ্ঞা থাকে না। তবে ইহরাম বাঁধা অবস্থায় এই বিধান সম্পূর্ণ ভিন্ন।

শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, হজ বা উমরার জন্য ইহরাম গ্রহণের পর স্বামী-স্ত্রীর মেলামেশা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি যৌন সম্পর্কের প্ররোচনা জোগাতে পারে এমন সব আচরণ থেকেও এ সময় বিরত থাকা আবশ্যক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘অতঃপর যে ব্যক্তি এ মাসগুলোতে নিজের ওপর হজ অবধারিত করে নেয়, তার জন্য হজের মধ্যে স্ত্রী-সম্ভোগ, পাপাচার ও ঝগড়াবিবাদ বৈধ নয়।’ (সুরা আল বাকারা: ১৯৭)

যদি কেউ অজ্ঞতাবশত বা ভুলবশত ইহরাম অবস্থায় এই বিধান লঙ্ঘন করেন, তবে তা হজ বা উমরার ওপর প্রভাব ফেলে এবং পরিস্থিতির আলোকে ক্ষতিপূরণ বা দম ওয়াজিব হতে পারে। তাই এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিজে থেকে কোনো মনগড়া সিদ্ধান্ত না নিয়ে সবসময় অভিজ্ঞ ও নির্ভরযোগ্য মুফতির পরামর্শ নেওয়া উচিত। বিদায় হজের সময় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ থেকেও ইহরাম ও হালাল হওয়ার সুনির্দিষ্ট বিধান প্রমাণিত রয়েছে।

Share this news as a Photo Card