একদিকে অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা ভুলে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবল চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে স্বপ্নের গোলরঙা ঠিকানায় পা রাখার রোমাঞ্চ। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে গোল হজমের দুঃসহ স্মৃতি পেছনে ফেলে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলকে এখন সম্পূর্ণ নতুনভাবে গুছিয়ে নিতে চান অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মন। অন্যদিকে, শৈশবে যাঁকে টিভিতে খেলতে দেখে বড় হয়েছেন, সেই হামজা চৌধুরীর সঙ্গে একই ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন তরুণ ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ মাহি খান। আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতির প্রথম দিনেই বাংলাদেশ শিবিরে এমন নানা অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন দেখা গেছে।
আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপকে সামনে রেখে আজ রাজধানীর জাতীয় স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল দলের অনুশীলন ক্যাম্প। উদ্বোধনী দিনের অনুশীলনে স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিল আসিয়ান কাপে দলের চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্স, রক্ষণভাগের নাজুক দশা, দলের অন্যতম ভরসা হামজার অনুপস্থিতি এবং সম্ভাবনাময় তরুণ মুখ মাহির জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি।
ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের বেদনা আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মনকে। ইনজুরির কারণে ওই ম্যাচে মাঠে থাকতে না পারলেও বাইরে থেকে সতীর্থদের এমন বিপর্যয় দেখাটা তাঁর জন্য ছিল ভীষণ কষ্টের। তবে জাতীয় দলে ফিরে তাঁর প্রধান লক্ষ্য এখন রক্ষণভাগকে পুনরায় সুসংগঠিত করা। তবে এর সব দায় একা ডিফেন্ডার বা গোলরক্ষকদের কাঁধে চাপাতে রাজি নন তিনি।
আসিয়ান কাপের ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তপু বলেন, টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে তিন গোল খাওয়ার পর শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে হার অত্যন্ত হতাশাজনক। দীর্ঘ ফুটবল ক্যারিয়ারে জাতীয় দলের জার্সিতে এক ম্যাচে এত বড় ব্যবধানে হারার কোনো অভিজ্ঞতা তাঁর নেই। আধুনিক ফুটবলে রক্ষণ সামলানোর দায়িত্ব শুধু নির্দিষ্ট কোনো পজিশনের খেলোয়াড়দের নয়, বরং তা পুরো দলের সম্মিলিত দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।
তপু আরও বলেন, যখন দল গোল হজম করে, তখন সবার আগে গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। কিন্তু বর্তমান বিশ্ব ফুটবলে ‘টিম ডিফেন্ডিং’ বা দলগত রক্ষণই হলো সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। পুরো দল যদি সম্মিলিতভাবে নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দিতে পারে, তবে এমন বড় ব্যবধানে গোল খাওয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

























