সাফল্যের আকাঙ্ক্ষা প্রতিটি মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য। শৈশবের পড়াশোনা, যৌবনের ক্যারিয়ার গঠন, ধন-সম্পদ অর্জন কিংবা সামাজিক মর্যাদা অর্জনের মধ্য দিয়ে মানুষ পার্থিব উন্নতির শীর্ষে পৌঁছাতে চায়। তবে পার্থিব এই অর্জনের ভিড়ে পরকালের প্রস্তুতির বিষয়টি অনেক সময়ই আড়ালে পড়ে যায়।
ইসলাম ধর্মে সৎ উপায়ে জীবিকা নির্বাহ ও কঠোর পরিশ্রমের গুরুত্ব থাকলেও দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী প্রাপ্তিকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানাতে নিষেধ করা হয়েছে। পবিত্র কোরআনে এর স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে—’বরং তোমরা দুনিয়ার জীবনকে প্রাধান্য দাও, অথচ আখেরাতই উত্তম ও অধিক স্থায়ী।’ (সূরা আলা: ১৬-১৭)। অতএব, ক্ষণস্থায়ী জাগতিক সুবিধার জন্য অনন্তকালের শান্তি বিসর্জন দেওয়া কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না।
বাস্তবতায় দেখা যায়, অতিরিক্ত জাগতিক ব্যস্ততা মানুষকে নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব থেকে বিচ্যুত করে ফেলে। কিন্তু প্রকৃত সফলতা কেবল সম্পদের প্রাচুর্যে নয়, বরং হৃদয়ের আত্মতৃপ্তি ও আল্লাহর সন্তুষ্টিতে নিহিত। হাদিস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, ‘প্রকৃত ধনী সে নয় যার সম্পদ বেশি; বরং প্রকৃত ধনী সেই, যে অন্তরের ঐশ্বর্যে ধনী।’ (সহিহ বোখারি: ৬৪৪৬)।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানবজীবনের আসল সফলতা হলো ইমান, আমল, তাকওয়া এবং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য বজায় রেখে দুনিয়া ও আখেরাতের মাঝে সুন্দর ভারসাম্য রক্ষা করা। পার্থিব জীবনের সাফল্যকে পরকালের উন্নতির সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহার করাই একজন মুমিনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

























