সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলে তৈরি পোশাক কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মুস্তাফিজুর রহমান।
তিনি জানান, শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কারখানার নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। শিল্পাঞ্চলে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি নেই। তবে শ্রমিকের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে সাভারের হেমায়েতপুর পদ্মার মোড় এলাকায় আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান। পরে বেলা দুইটার পর তিনি আশুলিয়া ইপিজেড এলাকায় যান এবং সেখানেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন উপস্থিত ছিলেন।
হেমায়েতপুরে ডিআইজি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমানে শিল্পাঞ্চলে অত্যন্ত সন্তোষজনক পরিবেশ বিরাজ করছে। জেলা পুলিশ, শিল্প পুলিশ, এপিবিএন, আরআরএফ ও ইউনিফর্মধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। কারখানার নিরাপত্তা, শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সাভার এলাকার কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে।
তিন জেলায় গ্রেপ্তার ৪০
ডিআইজি বলেন, গত পরশু দিন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার শ্রমিক ভাই-বোনদের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। তাই এখন যারা বাইরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের আর শ্রমিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং তাদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী হিসেবে বিবেচনা করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, গতকাল ঢাকা জেলায় ১৫ জন, গাজীপুরে ৮ জন এবং নারায়ণগঞ্জে ১৭ জন বিশৃঙ্খলাকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর প্রয়োগ করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত সাভার এলাকায় এ-সংক্রান্ত একটি মামলা হয়েছে এবং অন্য মামলাগুলোর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিষয়ে ডিআইজি স্পষ্ট করে বলেন, ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের কেউই প্রকৃত শ্রমিক নন; তাঁরা সবাই বিশৃঙ্খলাকারী।
অর্থের জোগানদাতা ও উসকানিদাতাদের ওপর নজরদারি
বিশৃঙ্খলাকারীদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ডিআইজি বলেন, তারা কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা পুলিশ নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করছে। এ বিষয়ে পুলিশের কাছে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা প্রতিবেদন রয়েছে। পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
























