ঢাকা ১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

পতিত জমিতে পানিফল চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পতিত জলমগ্ন জমিতে পানিফল চাষ করে কৃষকরা এখন ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন। নদী বেষ্টিত এই উপজেলায় প্রায় সব এলাকাতেই পানিফল চাষ হচ্ছে। চাষ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের পাশে পানিফলের হাট বসে, যেখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে পানিফল কিনে নিয়ে যান। হাটের ইজারাদারদের দাবি, প্রতিদিন এখানে ৮ থেকে ১০ টন পানিফল বিক্রি হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর দেওয়ানগঞ্জে ৩৯ হেক্টর পতিত জলমগ্ন জমিতে পানিফলের চাষ হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এ চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

পৌর এলাকার চাষি আলতাফ হোসেন জানান, “আমি চার বিঘা জমিতে পানিফল চাষ করেছি। খরচ হয়েছে সাত হাজার টাকা, বিক্রি করেছি ৩৫ হাজার টাকার পানিফল। আরও ২৫-২৬ মণ ফল ক্ষেতেই আছে, বিক্রি করলে আরও ৩৫ হাজার টাকা আয় হবে।”

বালুগ্রামের ফরহাদ হোসেন বলেন, “পানিফল চাষে সার ও কীটনাশক খুব কম লাগে। প্রতি বিঘায় মাত্র ২০ কেজি ইউরিয়া সার লাগে। পোকার আক্রমণ হলে সামান্য বিষ প্রয়োগেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তাই খরচ কম হলেও লাভ অনেক।”

চাষি বিশু ডিলার জানান, “বর্ষায় নিচু জমি, ঢোবা ও জলাশয়ে অল্প খরচে পানিফল চাষ করা যায়। আমার ১০ বিঘা জমিতে প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ১৬ মণ ফল উৎপাদন হয়। প্রায় ১৫ বছর ধরে চাষ করছি, কখনো ক্ষতির মুখ দেখিনি।”

বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “দেওয়ানগঞ্জ থেকে পানিফল সংগ্রহ করে জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও অন্যান্য জেলায় বিক্রি করি। এখন খুচরা বাজারে পাকা পানিফল কেজি প্রতি ৩০ টাকা ও কাঁচা পানিফল ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”

হাটের ইজারাদার মনির হোসেন জানান, “এই হাট অক্টোবরের শুরুতে বসে এবং ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত চলে। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম থেকে শতাধিক পাইকার প্রতিদিন এখানে আসেন।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া বলেন, “পতিত জলমগ্ন জমি, খাল, ডোবা ও পুকুরে সহজেই পানিফল চাষ করা যায়। আমাদের কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন পানিফল চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।”

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধ: সালমান ও আনিসুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ

পতিত জমিতে পানিফল চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

আপডেট সময় : ০১:১৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে পতিত জলমগ্ন জমিতে পানিফল চাষ করে কৃষকরা এখন ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছেন। নদী বেষ্টিত এই উপজেলায় প্রায় সব এলাকাতেই পানিফল চাষ হচ্ছে। চাষ বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিন দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের পাশে পানিফলের হাট বসে, যেখানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা এসে পানিফল কিনে নিয়ে যান। হাটের ইজারাদারদের দাবি, প্রতিদিন এখানে ৮ থেকে ১০ টন পানিফল বিক্রি হয়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর দেওয়ানগঞ্জে ৩৯ হেক্টর পতিত জলমগ্ন জমিতে পানিফলের চাষ হয়েছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় এ চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

পৌর এলাকার চাষি আলতাফ হোসেন জানান, “আমি চার বিঘা জমিতে পানিফল চাষ করেছি। খরচ হয়েছে সাত হাজার টাকা, বিক্রি করেছি ৩৫ হাজার টাকার পানিফল। আরও ২৫-২৬ মণ ফল ক্ষেতেই আছে, বিক্রি করলে আরও ৩৫ হাজার টাকা আয় হবে।”

বালুগ্রামের ফরহাদ হোসেন বলেন, “পানিফল চাষে সার ও কীটনাশক খুব কম লাগে। প্রতি বিঘায় মাত্র ২০ কেজি ইউরিয়া সার লাগে। পোকার আক্রমণ হলে সামান্য বিষ প্রয়োগেই নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তাই খরচ কম হলেও লাভ অনেক।”

চাষি বিশু ডিলার জানান, “বর্ষায় নিচু জমি, ঢোবা ও জলাশয়ে অল্প খরচে পানিফল চাষ করা যায়। আমার ১০ বিঘা জমিতে প্রতি বিঘায় ১৫ থেকে ১৬ মণ ফল উৎপাদন হয়। প্রায় ১৫ বছর ধরে চাষ করছি, কখনো ক্ষতির মুখ দেখিনি।”

বিক্রেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “দেওয়ানগঞ্জ থেকে পানিফল সংগ্রহ করে জামালপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও অন্যান্য জেলায় বিক্রি করি। এখন খুচরা বাজারে পাকা পানিফল কেজি প্রতি ৩০ টাকা ও কাঁচা পানিফল ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”

হাটের ইজারাদার মনির হোসেন জানান, “এই হাট অক্টোবরের শুরুতে বসে এবং ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত চলে। জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম থেকে শতাধিক পাইকার প্রতিদিন এখানে আসেন।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রতন মিয়া বলেন, “পতিত জলমগ্ন জমি, খাল, ডোবা ও পুকুরে সহজেই পানিফল চাষ করা যায়। আমাদের কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন পানিফল চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।”