জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন যে, জুলাই শহীদ গাজী সালাউদ্দিন মৃত্যুর কয়েকদিন আগে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, এই ঘটনা থেকেই বোঝা যায় যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সবারই মারাত্মক নিরাপত্তা সংকট রয়েছে।
বুধবার (৫ নভেম্বর) বেলা ১১টায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল এলাকায় নিহত জুলাই যোদ্ধা সালাউদ্দিনের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি গণমাধ্যমের কাছে এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি জুলাই যোদ্ধাদের পাশে আছে। তবে কেবল এনসিপি নয়, সরকার ও দেশের সব রাজনৈতিক দলের উচিত এই যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব নেওয়া। কারণ এই মানুষগুলোর আত্মত্যাগ ও লড়াইয়ের ফলেই দেশে সফলতা এসেছে এবং ফ্যাসিবাদ বিতাড়িত হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী আহত জুলাই যোদ্ধাদের সুচিকিৎসার দায়িত্ব অন্তর্বর্তী সরকারের কাঁধে থাকা সত্ত্বেও তারা সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ফলস্বরূপ, “এখনও লাশের সারি বাড়ছে, মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে ও শহীদের সংখ্যাও বাড়ছে।” গাজী সালাউদ্দিনও তাদেরই একজন, যাকে আমরা হারালাম। সরকারের প্রতি তিনি দৃঢ়ভাবে দাবি জানান, যেসব আহত যোদ্ধা এখনও কাতরাচ্ছেন, তাদের যেন সর্বাত্মক চিকিৎসা দেওয়া হয়—তা শুধু সাময়িক নয়, দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসারও ব্যবস্থা করতে হবে।
নাহিদ ইসলাম সতর্ক করে বলেন, এখন যেহেতু নির্বাচনের ডামাডোল বাজছে, এই সময়ে যেন আমরা আমাদের আহত ও শহীদ ভাইদের ভুলে না যাই। যদি তাদের ভুলে যাওয়া হয়, তাহলে সালাউদ্দিন ভাইয়ের মতো আরও অনেকে অকালে মৃত্যুবরণ করবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার পক্ষ থেকে তাদের জন্য যে স্বাস্থ্য সুবিধার কথা বলা হয়েছিল, তা নিয়েও বহু অভিযোগ রয়েছে।
আসন্ন নির্বাচন সম্পর্কে তিনি বলেন, এনসিপি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা এককভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং তাদের লক্ষ্য হলো ৩০০ আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা। তবে, গণতন্ত্র রক্ষার লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখার প্রতি সম্মান জানিয়ে খালেদা জিয়ার সম্মানে কিছু নির্দিষ্ট আসনে তারা প্রার্থী দেবে না। এছাড়াও, তারা দেশের সব আসনেই তাদের দলীয় প্রতীক ‘শাপলা কলি’ মার্কার প্রার্থী দেবে।
তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যারা কেবল গডফাদারগিরি করে, তাদের নির্বাচনে দাঁড়ানোর এই সংস্কৃতিকে আমরা চ্যালেঞ্জ করতে চাই। আমরা চাই এলাকার সাধারণ মানুষ, গ্রহণযোগ্য মানুষ, যাকে মানুষ কাছে পাবে এবং শিক্ষকদের মতো ব্যক্তিত্বরা যেন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংসদে যান।
বক্তব্য শেষে নাহিদ ইসলাম নিহত গাজী সালাউদ্দিনের করব জিয়ারত করেন। এসময় তার সঙ্গে এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল-আমীন, কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, কেন্দ্রীয় সদস্য আহমেদুর রহমান তনু, জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি তুহিন খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলন চলাকালীন পুলিশের গুলিতে সালাউদ্দিন এক চোখের দৃষ্টি হারান। এছাড়াও গুলির আঘাতে অপর চোখে ঝাপসা দেখা এবং গলায় লাগা গুলিতে শ্বাসনালীর সমস্যা দেখা দেয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে চিকিৎসা নিলেও, সবশেষে ২৬ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জের ৩০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
রিপোর্টারের নাম 

























