ঢাকা ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস’ চালুর দাবিতে ঢাকার মগবাজারে রেলপথ অবরোধ

অনুমোদিত ‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস ট্রেন’ দ্রুত চালু করা সহ মোট আট দফা দাবিতে রাজধানীর মগবাজার রেলগেট এলাকায় রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকায় বসবাসরত বৃহত্তর সিলেটবাসী। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘অগ্নীবীণা এক্সপ্রেস ট্রেন’ আন্দোলনকারীরা প্রায় দশ মিনিটের জন্য থামিয়ে রাখেন। পরে রেল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবিগুলো দ্রুত বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সেলিম আহমেদ জানান, “আমরা দুপুর ১টার সময় কর্মসূচি শেষ করেছি। মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, আমাদের দাবিগুলো দ্রুত বিবেচনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ সিলেট বিভাগজুড়ে রেলপথ অবরোধের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা ঢাকায় প্রতীকীভাবে ট্রেন আটকে রেখেছিলাম। তবে যদি দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে আগামী ১৮ নভেম্বর রেল মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।”

আন্দোলনকারীদের আট দফা দাবি
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল আট দফা দাবিগুলো হলো:

১. ঢাকা-সিলেট রেলপথে অনুমোদিত টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস দ্রুত চালু করা। ২. সিলেট-ঢাকা রুটে দুটি এবং সিলেট-কক্সবাজার রুটে একটি বিশেষ ট্রেন চালু করা। ৩. আখাউড়া-সিলেট রেলপথ সংস্কার ও এটি ডাবল লাইনে উন্নীত করা। ৪. এই সেকশনে অন্তত দুটি লোকাল ট্রেন পুনরায় চালু করা। ৫. এই সেকশনের বন্ধ থাকা সব রেল স্টেশন পুনরায় চালু করা। ৬. সিলেটের সব স্টেশনে যাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত আসনসংখ্যা বৃদ্ধি করা। ৭. সিলেট-ঢাকাগামী কালনী ও পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের আযমপুরের পর ঢাকামুখী সব স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল করা। ৮. ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রোধে ত্রুটিমুক্ত ইঞ্জিন ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং যাত্রী অনুপাতে প্রতিটি ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা।

অবরোধ কর্মসূচিতে যারা উপস্থিত ছিলেন
এই অবরোধ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি আকবর হোসেন মঞ্জু।

হবিগঞ্জ সমিতি ঢাকার সভাপতি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার।

পল্টন থানা জামায়াতের শাহিন আহমেদ খান।

সিলেট বিভাগ সাংবাদিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম আহমেদ।

জগন্নাথপুর সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সায়েদুজ্জামান কামালী।

সংগঠক আবু বকর সিদ্দিক, সুজন মিয়া, সাংবাদিক এমদাদুল হক ও জামিল আহমদ।

ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএল মহারণ: আজ সিলেট-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী; টিভিতে কখন দেখবেন?

‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস’ চালুর দাবিতে ঢাকার মগবাজারে রেলপথ অবরোধ

আপডেট সময় : ০৫:১৮:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ নভেম্বর ২০২৫

অনুমোদিত ‘টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস ট্রেন’ দ্রুত চালু করা সহ মোট আট দফা দাবিতে রাজধানীর মগবাজার রেলগেট এলাকায় রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকায় বসবাসরত বৃহত্তর সিলেটবাসী। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে এই অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘অগ্নীবীণা এক্সপ্রেস ট্রেন’ আন্দোলনকারীরা প্রায় দশ মিনিটের জন্য থামিয়ে রাখেন। পরে রেল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবিগুলো দ্রুত বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হলে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন।

আন্দোলনকারীদের পক্ষে সেলিম আহমেদ জানান, “আমরা দুপুর ১টার সময় কর্মসূচি শেষ করেছি। মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, আমাদের দাবিগুলো দ্রুত বিবেচনা করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজ সিলেট বিভাগজুড়ে রেলপথ অবরোধের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আমরা ঢাকায় প্রতীকীভাবে ট্রেন আটকে রেখেছিলাম। তবে যদি দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে আগামী ১৮ নভেম্বর রেল মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে।”

আন্দোলনকারীদের আট দফা দাবি
আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে উত্থাপিত মূল আট দফা দাবিগুলো হলো:

১. ঢাকা-সিলেট রেলপথে অনুমোদিত টাঙ্গুয়ার এক্সপ্রেস দ্রুত চালু করা। ২. সিলেট-ঢাকা রুটে দুটি এবং সিলেট-কক্সবাজার রুটে একটি বিশেষ ট্রেন চালু করা। ৩. আখাউড়া-সিলেট রেলপথ সংস্কার ও এটি ডাবল লাইনে উন্নীত করা। ৪. এই সেকশনে অন্তত দুটি লোকাল ট্রেন পুনরায় চালু করা। ৫. এই সেকশনের বন্ধ থাকা সব রেল স্টেশন পুনরায় চালু করা। ৬. সিলেটের সব স্টেশনে যাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত আসনসংখ্যা বৃদ্ধি করা। ৭. সিলেট-ঢাকাগামী কালনী ও পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনের আযমপুরের পর ঢাকামুখী সব স্টেশনে যাত্রাবিরতি বাতিল করা। ৮. ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় রোধে ত্রুটিমুক্ত ইঞ্জিন ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং যাত্রী অনুপাতে প্রতিটি ট্রেনে অতিরিক্ত বগি সংযোজন করা।

অবরোধ কর্মসূচিতে যারা উপস্থিত ছিলেন
এই অবরোধ কর্মসূচিতে বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন:

জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি আকবর হোসেন মঞ্জু।

হবিগঞ্জ সমিতি ঢাকার সভাপতি অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার।

পল্টন থানা জামায়াতের শাহিন আহমেদ খান।

সিলেট বিভাগ সাংবাদিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম আহমেদ।

জগন্নাথপুর সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সায়েদুজ্জামান কামালী।

সংগঠক আবু বকর সিদ্দিক, সুজন মিয়া, সাংবাদিক এমদাদুল হক ও জামিল আহমদ।

ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ।