ঢাকা ১২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

মেট্রোরেলের প্যাড পড়ে নিহত: কালামের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আইনি নোটিশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৪২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খসে পড়ে দুর্ঘটনায় নিহত আবুল কালাম আজাদের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব বা সিনিয়র সচিব এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আইনি নোটিশটি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে দশ কোটি টাকা এবং নিহত কালামের পরিবারের একজন সদস্যকে মেট্রোরেলে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী এনামুল হক নবীন ডাকযোগে এই লিগ্যাল নোটিশটি পাঠান।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘গত ২৬ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের এমআরটি লাইন-৬ এর ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন ৪৩৩ নম্বর পিয়ার থেকে দুটি বিয়ারিং প্যাড পড়ে যায়। এর মধ্যে একটি বিয়ারিং প্যাড পথচারী আবুল কালামের মাথায় পড়লে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত আবুল কালাম আজাদ তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি ছিলেন। তার স্ত্রী ও দুটি শিশু সন্তান রয়েছে। আবুল কালাম আজাদের অর্থায়নেই তার ছোট ভাই পড়াশোনা করেন। মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনার চরম গাফিলতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই আবুল কালাম নিহত হয়েছেন। এর ফলে, আবুল কালাম আজাদের নিহত হওয়ার দায় সম্পূর্ণভাবে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ তাদের স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি ঠিকমতো দেখভাল করেনি এবং কোথায় কখন কী ধরনের ত্রুটি আছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ না করেই ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় মেট্রোরেল পরিচালনা করে আসছে, যা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অধীনে পরিচালিত মেট্রোরেলে দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলা এবং ত্রুটি যুক্ত রেখে ও জননিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলেই আবুল কালাম আজাদ নিহত হন।’

নোটিশে আরও বলা হয়, ‘গত ২৭ অক্টোবর আবুল কালাম আজাদের নিহত হওয়ার ঘটনায় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণস্বরূপ পাঁচ লাখ টাকা সরকারি সহায়তা এবং তার পরিবারের একজনকে মেট্রোরেলে চাকরি দেওয়ার যে কথা বলেছে, তা খুবই সামান্য, বাস্তবতা বিবর্জিত, অস্পষ্ট ও অবমাননাকর। আবুল কালাম আজাদের নিহত হওয়ার ক্ষতিপূরণ ও তার পরিবারের জীবনযাপনের জন্য আর্থিক সহায়তা স্বরূপ নোটিশ গ্রহণকারীদের দশ কোটি টাকা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দিতে হবে এবং তার পরিবারের একজন সদস্যকে মেট্রোরেলে স্থায়ী চাকরি দিতে হবে। অন্যথায় আপনাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক নজির স্থাপন করবে।’

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতা: চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা আপিলেও বাতিল

মেট্রোরেলের প্যাড পড়ে নিহত: কালামের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আইনি নোটিশ

আপডেট সময় : ১১:৪২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খসে পড়ে দুর্ঘটনায় নিহত আবুল কালাম আজাদের পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব বা সিনিয়র সচিব এবং ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালককে এই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

আইনি নোটিশটি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে দশ কোটি টাকা এবং নিহত কালামের পরিবারের একজন সদস্যকে মেট্রোরেলে স্থায়ী চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা জজ কোর্টের আইনজীবী এনামুল হক নবীন ডাকযোগে এই লিগ্যাল নোটিশটি পাঠান।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘গত ২৬ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের এমআরটি লাইন-৬ এর ফার্মগেট মেট্রো স্টেশন সংলগ্ন ৪৩৩ নম্বর পিয়ার থেকে দুটি বিয়ারিং প্যাড পড়ে যায়। এর মধ্যে একটি বিয়ারিং প্যাড পথচারী আবুল কালামের মাথায় পড়লে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। নিহত আবুল কালাম আজাদ তার পরিবারের একমাত্র উপার্জনশীল ব্যক্তি ছিলেন। তার স্ত্রী ও দুটি শিশু সন্তান রয়েছে। আবুল কালাম আজাদের অর্থায়নেই তার ছোট ভাই পড়াশোনা করেন। মেট্রোরেল ব্যবস্থাপনার চরম গাফিলতি এবং অব্যবস্থাপনার কারণেই আবুল কালাম নিহত হয়েছেন। এর ফলে, আবুল কালাম আজাদের নিহত হওয়ার দায় সম্পূর্ণভাবে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ তাদের স্থাপনা ও সরঞ্জামাদি ঠিকমতো দেখভাল করেনি এবং কোথায় কখন কী ধরনের ত্রুটি আছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ না করেই ত্রুটিযুক্ত অবস্থায় মেট্রোরেল পরিচালনা করে আসছে, যা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অধীনে পরিচালিত মেট্রোরেলে দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলা এবং ত্রুটি যুক্ত রেখে ও জননিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলেই আবুল কালাম আজাদ নিহত হন।’

নোটিশে আরও বলা হয়, ‘গত ২৭ অক্টোবর আবুল কালাম আজাদের নিহত হওয়ার ঘটনায় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিপূরণস্বরূপ পাঁচ লাখ টাকা সরকারি সহায়তা এবং তার পরিবারের একজনকে মেট্রোরেলে চাকরি দেওয়ার যে কথা বলেছে, তা খুবই সামান্য, বাস্তবতা বিবর্জিত, অস্পষ্ট ও অবমাননাকর। আবুল কালাম আজাদের নিহত হওয়ার ক্ষতিপূরণ ও তার পরিবারের জীবনযাপনের জন্য আর্থিক সহায়তা স্বরূপ নোটিশ গ্রহণকারীদের দশ কোটি টাকা আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দিতে হবে এবং তার পরিবারের একজন সদস্যকে মেট্রোরেলে স্থায়ী চাকরি দিতে হবে। অন্যথায় আপনাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যা রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক নজির স্থাপন করবে।’