ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

অযত্নে বিলীন হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত হাটহাজারী বিমানবন্দর: পর্যটন সম্ভাবনার হাতছানি

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসদরের আলমপুর ও আদর্শগ্রাম এলাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর। ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই বিমানবন্দরটি এক সময় রণকৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও আজ তা দখলদারিত্ব আর চরম অবহেলার শিকার। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এখন কেবলই অতীতের স্মৃতি বহন করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিমানবন্দরের প্রশাসনিক ভবন ও সিগন্যাল ঘরগুলো এখন আগাছায় পরিপূর্ণ। রানওয়ের কিছু অংশ এখনো টিকে থাকলেও অধিকাংশ জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে, শেওলা জমেছে দেয়ালে। তেলের বিশাল রিজার্ভারগুলো এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে, যা দূর থেকে দেখলে অনেকটা কালভার্টের মতো মনে হয়। বিমানবন্দরের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় সাড়ে ৩৭ একর ভূমির একটি বড় অংশ এখন স্থানীয়দের দখলে। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাগুলোর পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে বসতবাড়ি, যার ফলে দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ব্রিটিশ আমলের এই প্রত্নসম্পদ।

ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মিত্রশক্তির প্রথম কমব্যাট কার্গো গ্রুপ এই এয়ারফিল্ডটি ব্যবহার করত। এখানে ছিল একটি শক্তিশালী রেডিও রিলে কেন্দ্র, যা তৎকালীন ‘১২৮তম আর্মি কমিউনিকেশন সিস্টেম স্কোয়াড’ নামে পরিচিত ছিল। মূলত ফেনী ও চকরিয়ার পাশাপাশি হাটহাজারীর এই বিমানবন্দরটি যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে তৎকালীন সদর ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে এই বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

বর্তমানে এই পরিত্যক্ত বিমানবন্দরের চারপাশ জুড়ে এক প্রাকৃতিক ও পর্যটন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরের পাশেই রয়েছে সুউচ্চ পাহাড় ও বর্ষার মৌসুমে জেগে ওঠা স্বচ্ছ পানির ছড়া। এছাড়া এই এলাকায় নির্মাণাধীন ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মবেইজড ক্যাম্পাস, সরকারি দুগ্ধ ও ছাগল খামার, কৃষি ইনস্টিটিউট এবং হর্টিকালচার সেন্টার পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে কাজ করছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পর্যটক এই ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ছুটে আসেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি উদ্ধার করে সরকারি উদ্যোগে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনস্থলে পরিণত হতে পারে। এতে একদিকে যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষিত হবে, অন্যদিকে সরকারের জন্য বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ের পথও সুগম হবে। তাই ইতিহাসের এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা ও পর্যটনের বিকাশে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জুলাই গণহত্যা: সালমান এফ রহমান ও আনিসুল হকের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

অযত্নে বিলীন হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত হাটহাজারী বিমানবন্দর: পর্যটন সম্ভাবনার হাতছানি

আপডেট সময় : ১১:০৪:৩১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামের হাটহাজারী পৌরসদরের আলমপুর ও আদর্শগ্রাম এলাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে একটি পরিত্যক্ত বিমানবন্দর। ১৯৪৩ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত এই বিমানবন্দরটি এক সময় রণকৌশলগত কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ থাকলেও আজ তা দখলদারিত্ব আর চরম অবহেলার শিকার। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এখন কেবলই অতীতের স্মৃতি বহন করছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিমানবন্দরের প্রশাসনিক ভবন ও সিগন্যাল ঘরগুলো এখন আগাছায় পরিপূর্ণ। রানওয়ের কিছু অংশ এখনো টিকে থাকলেও অধিকাংশ জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে, শেওলা জমেছে দেয়ালে। তেলের বিশাল রিজার্ভারগুলো এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে, যা দূর থেকে দেখলে অনেকটা কালভার্টের মতো মনে হয়। বিমানবন্দরের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় সাড়ে ৩৭ একর ভূমির একটি বড় অংশ এখন স্থানীয়দের দখলে। ঐতিহাসিক এই স্থাপনাগুলোর পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে বসতবাড়ি, যার ফলে দ্রুত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ব্রিটিশ আমলের এই প্রত্নসম্পদ।

ইতিহাস পর্যালোচনায় জানা যায়, ১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মিত্রশক্তির প্রথম কমব্যাট কার্গো গ্রুপ এই এয়ারফিল্ডটি ব্যবহার করত। এখানে ছিল একটি শক্তিশালী রেডিও রিলে কেন্দ্র, যা তৎকালীন ‘১২৮তম আর্মি কমিউনিকেশন সিস্টেম স্কোয়াড’ নামে পরিচিত ছিল। মূলত ফেনী ও চকরিয়ার পাশাপাশি হাটহাজারীর এই বিমানবন্দরটি যুদ্ধবিমানের জ্বালানি সংগ্রহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। চট্টগ্রাম শহর থেকে মাত্র ২২ কিলোমিটার দূরে তৎকালীন সদর ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে এই বিমানবন্দরটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

বর্তমানে এই পরিত্যক্ত বিমানবন্দরের চারপাশ জুড়ে এক প্রাকৃতিক ও পর্যটন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিমানবন্দরের পাশেই রয়েছে সুউচ্চ পাহাড় ও বর্ষার মৌসুমে জেগে ওঠা স্বচ্ছ পানির ছড়া। এছাড়া এই এলাকায় নির্মাণাধীন ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মবেইজড ক্যাম্পাস, সরকারি দুগ্ধ ও ছাগল খামার, কৃষি ইনস্টিটিউট এবং হর্টিকালচার সেন্টার পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে কাজ করছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত পর্যটক এই ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ছুটে আসেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গুরুত্বপূর্ণ এই ঐতিহাসিক নিদর্শনটি উদ্ধার করে সরকারি উদ্যোগে একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হলে এটি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনস্থলে পরিণত হতে পারে। এতে একদিকে যেমন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষিত হবে, অন্যদিকে সরকারের জন্য বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয়ের পথও সুগম হবে। তাই ইতিহাসের এই অমূল্য সম্পদ রক্ষা ও পর্যটনের বিকাশে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জোরালো হচ্ছে।