ঢাকা ১২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

মেসের মিল নিয়ে বিতর্কের জেরে মধ্যরাতে ইবি শিক্ষার্থীদের মারামারি, আহত ৪

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে মধ্যরাতে মেসের খাবারের ফিক্সড-মিলের সংখ্যা (প্রতি মাসের আবশ্যকীয় মিল) নির্ধারণকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে মেস-মালিক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৪ জন আহত হন। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কুষ্টিয়া সদরের পিটিআই রোড এলাকায় অবস্থিত একটি মেসে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী সজীব, ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের হাসিবুজ্জামান নয়ন ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের মনিরুল ইসলাম রোহান। এ ছাড়া মারামারি ঠেকাতে গিয়ে আহত হন মেস মালিক তুহিন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে মেসের ফিক্সড মিল ৪০টা নাকি ৪৫টা নির্ধারণ করা হয়েছে তা নিয়ে সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রুপ নেয়। এর আগে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রত্যেকের জন্য ন্যূনতম ৪৫ টি মিল ধার্য করা ছিল। তবে গত মাসে ছুটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে যাওয়ায় নির্ধারিত মিলের সংখ্যা ৪৫টা থেকে কমিয়ে ৪০ করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থী সজীব ইসলামের অভিযোগ, মিলের বিষয়ে কথা বলার সময় সিনিয়র মনিরুল ইসলাম রোহান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করায় রোহান তার মুখে, মাথায় ঘুষি মারেন এবং মাটিতে ফেলে মাথা ও শরীরে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার চোখ এবং পায়ে আঘাত লাগে।

পরে সজীবকে গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী হাসিবুজ্জামান নয়নও একই অভিযোগ করে বলেন, রোহান তাদেরকে রুম থেকে জোর করে বের করে দেন এবং সজীবকে মারধর করেন।

তবে মনিরুল ইসলাম রোহানের দাবি, খাবারের বিল নিয়ে মতবিরোধ হওয়ায় সজীব ও নয়ন তাকে মারতে আসে। কিছুক্ষণ পর সজীব ও নয়ন কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি-সেক্রেটারিসহ ২৫-৩০ জন লোক নিয়ে এসে তাকে মারধর করে। রোহান অভিযোগ করেন, তাকে কুষ্টিয়া ছাড়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে।

আহত উভয় পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন। মেস মালিক তুহিন জানান, সজীব আর রোহানের ধস্তাধস্তির সময় তিনি ছিলেন না। পরে বাইরে দু’পক্ষের ঝামেলা থামাতে গিয়ে তিনিও হাতে ব্যথা পান।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত সজীব ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হাত, মুখমণ্ডল ও চোখে। সিটি স্ক্যান ও এক্সরে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে তাকে এবং রাখা হয়েছে পর্যবেক্ষণে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বৈত নাগরিকত্ব জটিলতা: চট্টগ্রাম-৯ আসনে জামায়াত প্রার্থীর প্রার্থিতা আপিলেও বাতিল

মেসের মিল নিয়ে বিতর্কের জেরে মধ্যরাতে ইবি শিক্ষার্থীদের মারামারি, আহত ৪

আপডেট সময় : ০১:২৯:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৫ অক্টোবর ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষার্থীদের মধ্যে মধ্যরাতে মেসের খাবারের ফিক্সড-মিলের সংখ্যা (প্রতি মাসের আবশ্যকীয় মিল) নির্ধারণকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে মেস-মালিক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৪ জন আহত হন। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে কুষ্টিয়া সদরের পিটিআই রোড এলাকায় অবস্থিত একটি মেসে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী সজীব, ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড জিওগ্রাফি বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের হাসিবুজ্জামান নয়ন ও ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের মনিরুল ইসলাম রোহান। এ ছাড়া মারামারি ঠেকাতে গিয়ে আহত হন মেস মালিক তুহিন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে মেসের ফিক্সড মিল ৪০টা নাকি ৪৫টা নির্ধারণ করা হয়েছে তা নিয়ে সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রুপ নেয়। এর আগে নিয়ম অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রত্যেকের জন্য ন্যূনতম ৪৫ টি মিল ধার্য করা ছিল। তবে গত মাসে ছুটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়িতে চলে যাওয়ায় নির্ধারিত মিলের সংখ্যা ৪৫টা থেকে কমিয়ে ৪০ করার প্রস্তাবনা দেয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থী সজীব ইসলামের অভিযোগ, মিলের বিষয়ে কথা বলার সময় সিনিয়র মনিরুল ইসলাম রোহান হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। প্রতিবাদ করায় রোহান তার মুখে, মাথায় ঘুষি মারেন এবং মাটিতে ফেলে মাথা ও শরীরে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এতে তার চোখ এবং পায়ে আঘাত লাগে।

পরে সজীবকে গুরুতর আহত অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী হাসিবুজ্জামান নয়নও একই অভিযোগ করে বলেন, রোহান তাদেরকে রুম থেকে জোর করে বের করে দেন এবং সজীবকে মারধর করেন।

তবে মনিরুল ইসলাম রোহানের দাবি, খাবারের বিল নিয়ে মতবিরোধ হওয়ায় সজীব ও নয়ন তাকে মারতে আসে। কিছুক্ষণ পর সজীব ও নয়ন কুষ্টিয়া ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি-সেক্রেটারিসহ ২৫-৩০ জন লোক নিয়ে এসে তাকে মারধর করে। রোহান অভিযোগ করেন, তাকে কুষ্টিয়া ছাড়ার হুমকিও দেয়া হয়েছে।

আহত উভয় পক্ষই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন। মেস মালিক তুহিন জানান, সজীব আর রোহানের ধস্তাধস্তির সময় তিনি ছিলেন না। পরে বাইরে দু’পক্ষের ঝামেলা থামাতে গিয়ে তিনিও হাতে ব্যথা পান।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত সজীব ইসলামের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হাত, মুখমণ্ডল ও চোখে। সিটি স্ক্যান ও এক্সরে করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে তাকে এবং রাখা হয়েছে পর্যবেক্ষণে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামানের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।