ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জ অংশে চলন্ত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের চেষ্টা এবং চালককে ছুরিকাঘাত করার চেষ্টার একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তবে ঘটনাটি ঠিক কবে এবং কোথায় ঘটেছে, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো পর্যন্ত কিছু জানাতে পারেনি।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নাজির উদ্দিন শাহ নামে কক্সবাজারগামী একটি গাড়ির এক যাত্রী নিজের ফেসবুক আইডিতে ভিডিওটি পোস্ট করেন। তিনি ক্যাপশনে উল্লেখ করেছেন, ঘটনাটি ঘটেছে রাত ১২টা ২০ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বন্দর উপজেলার মদনপুর এলাকায়। ভিডিওটি পোস্ট করার পর থেকেই সেটি ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ওই ভিডিওতে দেখা যায়, চলন্ত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার পেছনে এক যুবক ঝুলে আছেন। ঠিক সে সময় সিএনজির ডান পাশের দরজা খুলে ভেতরে থাকা একজন তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করছে। কিছুক্ষণ পর বাঁ পাশের দরজা খুলেও আরেকজন একইভাবে তাকে ছুরিকাঘাতের চেষ্টা করে। এ সময় সিএনজির পেছনে ঝুলে থাকা যুবকটি বারবার দিক পরিবর্তন করে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিলেন। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তিকে সিএনজির পেছন থেকে নামাতে ব্যর্থ হয়ে দুই ছিনতাইকারীর একজন তাকে মোবাইল ফোনের মতো দেখতে একটি বস্তু ফেরত দেয়। আর এই পুরো ঘটনাটি পেছনের গাড়ি থেকে ভিডিও করে কেউ একজন অনলাইনে ছড়িয়ে দেয়।
ঘটনাটি আসলেই ছিনতাই নাকি অন্য কিছু, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে ধারণা করা হচ্ছে, পেছনে ঝুলে থাকা ওই যুবকই সিএনজি অটোরিকশাটির চালক ছিলেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “ওই ভিডিওটি আমরা দেখেছি। তবে যিনি ভিডিওটি ধারণ করেছেন, সেই নাজির উদ্দিন নামে ওই ব্যক্তি মদনপুর পার হওয়ার পর সিএনজিটিকে আর দেখতে পাননি। এছাড়া ওই ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেননি। ফলে আমরা সিসি ক্যামেরা ধরে ঘটনাস্থল শনাক্ত করার এবং জড়িতদের খুঁজে বের করার কাজ করছি।”
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।”
নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, পুলিশ এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তবে ভিডিওটি দেখে ঠিক কোন স্থানের ঘটনা তা শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনাস্থল শনাক্ত করা এবং সংশ্লিষ্টদের খুঁজে বের করার কাজ চলছে।
রিপোর্টারের নাম 
























