রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে সম্প্রতি মাদক ব্যবসায়ীদের দুটি পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষের একটি ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে (ভাইরাল হয়), যেখানে এক যুবককে হাতে পিস্তল ও সামুরাই নিয়ে হামলা চালাতে দেখা যায়। অবশেষে পুলিশ সেই ভিডিওতে থাকা এসকে নাসিম নামের ওই যুবককে গ্রেফতার করেছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
মোহাম্মদপুর থানার অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “শুক্রবার সন্ধ্যায় এক অভিযানে এসকে নাসিমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জেনেভা ক্যাম্পের মাদক ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষের সময় তাকেই অস্ত্র হাতে হামলা চালাতে দেখা গিয়েছিল। এই ঘটনার ভিডিওটিই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আমরা এখন তার হাতে থাকা অস্ত্রটি উদ্ধারের চেষ্টা করছি এবং আশা করছি খুব দ্রুতই তা উদ্ধার করতে পারবো।”
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, জেনেভা ক্যাম্পের ভেতরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছে। মূলত শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত বুনিয়া সোহেল, চুয়া সেলিম, পিচ্চি রাজা, গালকাটা মনু ও ইমতিয়াজ গ্রুপের লোকজনের মধ্যেই আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে এই সংঘর্ষের মধ্যেই ককটেল বিস্ফোরণে জাহিদ নামে এক যুবক মারা যান। ঠিক ওই সময়ের একটি ভিডিওতেই দেখা যায়, জেনেভা ক্যাম্পের চেয়ারম্যান এসকে জিলানী (যিনি কানা জিলানী নামে পরিচিত)-এর ছেলে এসকে নাসিম ডান হাতে পিস্তল ও বাম হাতে সামুরাই নিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালাচ্ছে। এই ভিডিওটিই পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
এমনকি স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, এসকে নাসিমের কাছে থানা থেকে লুট হওয়া কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্রও থাকতে পারে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বুনিয়া সোহেল গ্রুপ মিরপুরের পল্লবী ক্যাম্প থেকে ‘বোম কাল্লু’ নামে এক সন্ত্রাসীকে ভাড়া করে এনে ককটেল তৈরি করাচ্ছিল। গত বুধবার (২২ অক্টোবর) সেই ককটেল বানানোর সময়ই বিস্ফোরণে ওই ব্যক্তি আহত হয়। সে বর্তমানে কোনো একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























