‘জনগণের রোষ যখন তৈরি হয় তখন পালানো ছাড়া আর কোনও পথ থাকে না’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
তিনি বলেছেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই আগস্ট এ তরুণ ও সব নাগরিক সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ রচনা করেছিলেন এবং একটি ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পরাস্ত করে তার প্রধানকে পলায়নে বাধ্য করেছিলেন। সে সময় শুধু একজন কথিত প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে যাননি, তার তৈরি করা পার্লামেন্টের সদস্যরাও পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। জনগণের রোষ যখন তৈরি হয় এখন পালানো ছাড়া আর কোনও পথ থাকে না।’
রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে বরিশালের বিভাগীয় প্রশাসন ও ইসলামীক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশে বিভাগীয় ইমাম সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে কম বেশি পরিচিত। বিশেষ করে গত ১৬ বছরের ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত। গত ১৬ বছর ধরে বিশেষ করে করে ২০০৯-২০২৪ পর্যন্ত যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকরা গেছে- গুম, খুন, হত্যা, লুণ্ঠন- এটা আমাদের এই শিক্ষা দিয়েছে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন ছাড়া অগ্রসর হতে পারবো না। সেই জায়গা থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। এই জায়গা থেকে আমরা এগিয়ে যেতে চাইবো। তার একটি সম্ভাবনা হচ্ছে গণভোট।’
এ সময় তিনি গণভোটের বিষয়বস্তু ও গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘গণভোটের উপকারিতা ইমামদের মাধ্যমে সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। এতে আগামীর বাংলাদেশ একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।’
তিনি বলেন ‘আপনাদের ভোটে যাদের নির্বাচিত করবেন তারা পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু দেশ পাঁচ বছরের জন্য না। আমরা সবাই দেশের মালিক, সবাই গণভোটের মাধ্যমে নির্দেশনা দেবো দেশ কীভাবে চলবে। আর যাতে কোনও মায়ের বুক খালি না হয় তার জন্যই গণভোট। জাতীয় সনদ কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে। আর সেটারই বাস্তবায়ন করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে ভিন্নমত, দল থাকবে কিন্তু ভবিষ্যতে দেশ কেমন হবে সেটা নির্ধারণ করবে জনগণ। জাতীয় সনদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও স্বাধীন পিএসসি বোর্ড গঠিত হবে- যাতে অযোগ্য ব্যক্তিরা ক্ষমতাসীনদের নাম ভাঙিয়ে কোনও চেয়ারে না বসতে পারে।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘৭১ সালে আমরা তো পিছিয়ে পড়ার জন্য যুদ্ধ করিনি। তাহলে কেন আমরা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবো। এর আগেও দেশে তিনবার গণভোট হয়েছিল। কিন্তু এবারের গণভোট ভিন্ন। অতীতে আমরা দেখেছি সংসদে যা ঠিক করা হয় আমরা তাতে সম্মতি দেই। এবারে গণভোট বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার নিয়ে সংসদে যেতে হবে জনপ্রতিনিধিদের।’
বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে এতদিন ছেলে খেলা হয়েছে উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, ‘১৭ মিনিটে এ দেশে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে দেশের সব মানুষের সমর্থন ছিল। যা বাতিল করা হয়েছে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে। এরপর থেকে সংবিধান সংশোধন করতে হলে জাতীয় উচ্চকক্ষের অনুমতি লাগবে- মানে ৫১টি ভোট লাগবে।’
‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমার নামে এতদিন যে তামাশা করা হয়েছে- জাতীয় সনদে তা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি আসলে নিজে ক্ষমা করেন না। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে তার নামে ক্ষমার চিঠি ইস্যু হয়। জাতীয় সনদে সংসদে এমন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যাতে নিজ দলের বেইনসাফি কথার বিরুদ্ধে দলের নেতারা কথা বলতে পারবে। যা সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।’
বরিশালে বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন- প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন, বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলম, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
রিপোর্টারের নাম 

























