ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

আলেপ্পো থেকে সরে গেল কুর্দি যোদ্ধারা

সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কয়েক দিনের লড়াইয়ের পর যুদ্ধবিরতির অধীনে আলেপ্পো শহর থেকে সরে যেতে সম্মত হয়েছে সিরিয়ার কুর্দি যোদ্ধারা। রোববার বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও কুর্দি বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে।

বিজ্ঞাপন

সিরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কুর্দি অধিষ্ঠিত শেখ মাকসুদ পাড়ায় অভিযান শেষ করেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, আত্মসমর্পণকারী কুর্দি যোদ্ধাদের বাসে করে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার দিকে সরানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই আলেপ্পোর অন্য কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত আশরাফিয়াহ এলাকা দখলের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

কুর্দি বাহিনী সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর কিছু এলাকা এবং দেশটির উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ অংশে স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন পরিচালনা করছে। এদের অধিকাংশ এলাকা ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় দখল করা হয়েছিল। নতুন সরকারে কুর্দিদের একীভূত করার আলোচনা স্থগিত হওয়ায় সর্বশেষ সংঘর্ষ শুরু হয়।

কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি, যার ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে এবং আশরাফিয়াহ ও শেখ মাকসুদ পাড়া থেকে শহীদ, আহত, আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”

সরকারি সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, “এসডিএফ সংগঠনের শেষ দলটিকে বহনকারী বাসগুলো আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ পাড়া থেকে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার দিকে রওনা দিয়েছে।” তবে প্রাথমিকভাবে এসডিএফ দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধাদের সরানো হয়নি; এটি বেসামরিক লোকদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা।

এএফপি প্রতিবেদক জানিয়েছে, গত শনিবার শেখ মাকসুদ থেকে অন্তত পাঁচটি বাস যোদ্ধাদের বহন করে চলে গেছে, যদিও তাদের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এসডিএফের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যাতে আলেপ্পোর জনগণের প্রতি আক্রমণ ও লঙ্ঘন বন্ধ করা যায়।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই সিরিয়ার সরকার ও কুর্দি কর্তৃপক্ষকে রাজনৈতিক সংলাপের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘকালীন শাসক বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে এই সংঘর্ষ সবচেয়ে তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে কমপক্ষে ২১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে এবং আলেপ্পোর গভর্নর জানিয়েছেন, ১,৫৫,০০০ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। মঙ্গলবার সংঘর্ষ শুরুর জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতকানিয়ায় পাহাড়খেকোদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান, জব্দকৃত এসকেভেটর অকেজো

আলেপ্পো থেকে সরে গেল কুর্দি যোদ্ধারা

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর সঙ্গে কয়েক দিনের লড়াইয়ের পর যুদ্ধবিরতির অধীনে আলেপ্পো শহর থেকে সরে যেতে সম্মত হয়েছে সিরিয়ার কুর্দি যোদ্ধারা। রোববার বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও কুর্দি বাহিনীর মধ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমেছে।

বিজ্ঞাপন

সিরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা কুর্দি অধিষ্ঠিত শেখ মাকসুদ পাড়ায় অভিযান শেষ করেছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে বলা হয়েছে, আত্মসমর্পণকারী কুর্দি যোদ্ধাদের বাসে করে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার দিকে সরানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই আলেপ্পোর অন্য কুর্দি-নিয়ন্ত্রিত আশরাফিয়াহ এলাকা দখলের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

কুর্দি বাহিনী সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোর কিছু এলাকা এবং দেশটির উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিস্তীর্ণ অংশে স্বায়ত্তশাসিত প্রশাসন পরিচালনা করছে। এদের অধিকাংশ এলাকা ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের সময় দখল করা হয়েছিল। নতুন সরকারে কুর্দিদের একীভূত করার আলোচনা স্থগিত হওয়ায় সর্বশেষ সংঘর্ষ শুরু হয়।

কুর্দি-নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) এক বিবৃতিতে জানায়, “আমরা একটি সমঝোতায় পৌঁছেছি, যার ফলে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে এবং আশরাফিয়াহ ও শেখ মাকসুদ পাড়া থেকে শহীদ, আহত, আটকে পড়া বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের উত্তর ও পূর্ব সিরিয়ায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”

সরকারি সংবাদ সংস্থা সানা জানিয়েছে, “এসডিএফ সংগঠনের শেষ দলটিকে বহনকারী বাসগুলো আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ পাড়া থেকে উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার দিকে রওনা দিয়েছে।” তবে প্রাথমিকভাবে এসডিএফ দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধাদের সরানো হয়নি; এটি বেসামরিক লোকদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা।

এএফপি প্রতিবেদক জানিয়েছে, গত শনিবার শেখ মাকসুদ থেকে অন্তত পাঁচটি বাস যোদ্ধাদের বহন করে চলে গেছে, যদিও তাদের পরিচয় যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এসডিএফের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোর মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যাতে আলেপ্পোর জনগণের প্রতি আক্রমণ ও লঙ্ঘন বন্ধ করা যায়।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই সিরিয়ার সরকার ও কুর্দি কর্তৃপক্ষকে রাজনৈতিক সংলাপের জন্য আহ্বান জানিয়েছে।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে দীর্ঘকালীন শাসক বাশার আল-আসাদের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে এই সংঘর্ষ সবচেয়ে তীব্র হয়ে উঠেছে। এতে কমপক্ষে ২১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছে এবং আলেপ্পোর গভর্নর জানিয়েছেন, ১,৫৫,০০০ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। মঙ্গলবার সংঘর্ষ শুরুর জন্য উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করেছে।