ঢাকা ০৮:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

সংসদ নির্বাচন ২০২৬: কখন বন্ধ হবে ভোটকেন্দ্র আর কোন পরিস্থিতিতে হবে পুনরায় ভোট?

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন প্রশ্নে বহুল প্রতীক্ষিত গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটগ্রহণ বন্ধ করা, স্থগিত করা এবং পুনরায় ভোট নেওয়ার বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জন্য বিস্তারিত বিধিবিধান ও পরিপত্র জারি করেছে। পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের এই নির্বাচনে অনিয়ম রোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ভোটকেন্দ্রে যদি প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেমন—ভোটে বাধা দেওয়া, কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স নষ্ট করা কিংবা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটে, তবে তৎক্ষণাৎ ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিতে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে ভোট পুনরায় শুরু করা সম্ভব না হয়, তবে সেই কেন্দ্রের ফলাফল গণনা করা হবে না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) অনুযায়ী, বন্ধ ঘোষিত কেন্দ্রের ফলাফল ছাড়া যদি পুরো নির্বাচনি এলাকার চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবেই কেবল নির্বাচন কমিশন ওই নির্দিষ্ট কেন্দ্রে নতুন করে ভোট নেওয়ার নির্দেশ দেবে। সেক্ষেত্রে ওই কেন্দ্রের সব ভোটার পুনরায় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।

এবার নির্বাচনের বিশেষ দিক হলো আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট। প্রবাসী এবং নির্ধারিত শ্রেণির ভোটাররা ডাকযোগের মাধ্যমে তাদের ভোট দিতে পারবেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোট গণনা শেষে বিবরণীর এক কপি সরাসরি বিশেষ খামে ডাকযোগে ইসিতে পাঠাবেন, যার জন্য নির্বাচনের দিন পোস্ট অফিসগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সম্বলিত পরিবেশবান্ধব ব্যানার প্রদর্শন এবং গণভোটের প্রস্তাবনা সম্বলিত ফেস্টুন টানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার রুখতে প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে জেলা ও মেট্রোপলিটন পর্যায়ে ‘ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’ এবং প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘মনিটরিং টিম’ গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলো প্রার্থীরা নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা লঙ্ঘন করছেন কি না বা আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন কি না, তা সরেজমিনে তদারকি করবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ সেল গঠন করে ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসা এবং নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে ইসি। যেকোনো পর্যায়ের অপকর্ম বা বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটলে কমিশন প্রয়োজনে পুরো নির্বাচনি এলাকার ভোট কার্যক্রম স্থগিত করার ক্ষমতা রাখে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

বিপিএল মহারণ: আজ সিলেট-রংপুর, ঢাকা-রাজশাহী; টিভিতে কখন দেখবেন?

সংসদ নির্বাচন ২০২৬: কখন বন্ধ হবে ভোটকেন্দ্র আর কোন পরিস্থিতিতে হবে পুনরায় ভোট?

আপডেট সময় : ০১:২৮:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একই দিনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন প্রশ্নে বহুল প্রতীক্ষিত গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভোটগ্রহণ বন্ধ করা, স্থগিত করা এবং পুনরায় ভোট নেওয়ার বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের জন্য বিস্তারিত বিধিবিধান ও পরিপত্র জারি করেছে। পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের এই নির্বাচনে অনিয়ম রোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ভোটকেন্দ্রে যদি প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়, যেমন—ভোটে বাধা দেওয়া, কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স নষ্ট করা কিংবা ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটে, তবে তৎক্ষণাৎ ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দিতে হবে। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে ভোট পুনরায় শুরু করা সম্ভব না হয়, তবে সেই কেন্দ্রের ফলাফল গণনা করা হবে না। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO) অনুযায়ী, বন্ধ ঘোষিত কেন্দ্রের ফলাফল ছাড়া যদি পুরো নির্বাচনি এলাকার চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবেই কেবল নির্বাচন কমিশন ওই নির্দিষ্ট কেন্দ্রে নতুন করে ভোট নেওয়ার নির্দেশ দেবে। সেক্ষেত্রে ওই কেন্দ্রের সব ভোটার পুনরায় ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।

এবার নির্বাচনের বিশেষ দিক হলো আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালট। প্রবাসী এবং নির্ধারিত শ্রেণির ভোটাররা ডাকযোগের মাধ্যমে তাদের ভোট দিতে পারবেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রিজাইডিং অফিসাররা ভোট গণনা শেষে বিবরণীর এক কপি সরাসরি বিশেষ খামে ডাকযোগে ইসিতে পাঠাবেন, যার জন্য নির্বাচনের দিন পোস্ট অফিসগুলো ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সম্বলিত পরিবেশবান্ধব ব্যানার প্রদর্শন এবং গণভোটের প্রস্তাবনা সম্বলিত ফেস্টুন টানানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার রুখতে প্রতিটি কেন্দ্রে কঠোর নজরদারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে জেলা ও মেট্রোপলিটন পর্যায়ে ‘ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম’ এবং প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ‘মনিটরিং টিম’ গঠন করা হয়েছে। এই দলগুলো প্রার্থীরা নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা লঙ্ঘন করছেন কি না বা আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন কি না, তা সরেজমিনে তদারকি করবে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ সেল গঠন করে ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসা এবং নিরাপদে বাড়ি ফেরা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে ইসি। যেকোনো পর্যায়ের অপকর্ম বা বলপ্রয়োগের ঘটনা ঘটলে কমিশন প্রয়োজনে পুরো নির্বাচনি এলাকার ভোট কার্যক্রম স্থগিত করার ক্ষমতা রাখে।