চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে অবস্থিত মনোরম ডিসি পার্কে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী বর্ণিল ফুল উৎসব। চন্দ্রমল্লিকা, ডালিয়া, ম্যাগনোলিয়া, শিউলি, হাসনাহেনা, অপরাজিতা, টিউলিপ ও উইস্টেরিয়াসহ প্রায় ১৪০ প্রজাতির লক্ষাধিক দেশি-বিদেশি ফুলের সমারোহে ১৯৪ একর বিস্তৃত পার্কটি যেন এক জীবন্ত চিত্রকলায় পরিণত হয়েছে। গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এই উৎসবের পর্দা উঠেছে, যা চলবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
ফুলের সুবাস আর রঙের ফোয়ারায় এখন মুখরিত ডিসি পার্ক। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকছে এই ফুলের রাজ্য। প্রবেশ টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে জনপ্রতি মাত্র ৫০ টাকা। ফুলের সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে একগুচ্ছ আকর্ষণীয় আয়োজন। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উপভোগ করা যাবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ফুল উৎসবকে ঘিরে আয়োজন করা হয়েছে গ্রামীণ মেলা, বই উৎসব, ঘুড়ি উৎসব, পিঠা উৎসব, লেজার শো, ভিআর গেম, মুভি শো, ভায়োলিন শো, পুতুল নাচ এবং মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যালসহ নানা বিনোদনের ব্যবস্থা। এবারের উৎসবে নতুন সংযোজন হিসেবে যুক্ত হয়েছে জিপ লাইন, ক্লাইম্বিং ট্রি, ট্রি হার্ট, বিগ ফ্লাওয়ার ট্রি, আমব্রেলা ট্রি ও ফ্লাওয়ার টি, যা দর্শনার্থীদের দেবে নতুনত্বের স্বাদ। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে একটি সচেতনতামূলক স্টল এবং জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান কর্নার স্থাপন করা হয়েছে।
উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এর উদ্বোধন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এহছানুল হক। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবীব পলাশ এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় উদ্বোধনী পর্ব।
সিনিয়র সচিব এহছানুল হক তার বক্তব্যে বলেন, “এই ফুল উৎসব শুধু চট্টগ্রামের জন্য নয়, এটি সমগ্র দেশের মানুষের জন্য এক আনন্দময় উপলক্ষ। দেশের অন্যান্য জেলার মানুষও ডিসি পার্কে এসে নির্মল বিনোদন উপভোগ করতে পারবেন।” তিনি জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে দেশের অন্য জেলার জন্য একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত বলেও উল্লেখ করেন।
১৯৪ একরের এই সুবিশাল পার্কে তিনটি বিশাল আয়তনের পুকুর ছাড়াও রয়েছে ফুডকোর্ট, পর্যটকদের বসার স্থান, সেলফি কর্নার, অনুষ্ঠানস্থল, ভাসমান ফুল বাগান, হাঁটাচলার উন্মুক্ত স্থান, অস্থায়ী খেলার মাঠ, স্থায়ী ফুলের বাগান, শিশুদের খেলার মাঠ, ভিআইপি জোন, কন্ট্রোল রুম, রেস্টুরেন্ট, ফুড কর্নার, সানসেট ভিউ পয়েন্ট, টিউলিপ গার্ডেন এবং জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান কর্নারসহ আধুনিক সকল সুবিধা। এটি সত্যিই একটি পূর্ণাঙ্গ বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে।
রিপোর্টারের নাম 
























