ঢাকা ০৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি: এক বছরে ৬২ হত্যাকাণ্ডে জনমনে গভীর আতঙ্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

যশোরে গত এক বছরে ৬২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি করেছে। প্রকাশ্যে দিনদুপুরে খুনসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি এবং পিস্তল, চাকু, ছুরি ও ধারালো অস্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ৬২টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও পরকীয়ার জেরে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। যদিও পুলিশ বলছে, অধিকাংশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে চারটি, ফেব্রুয়ারি মাসে তিনটি, মার্চ মাসে ছয়টি, এপ্রিল মাসে ছয়টি, মে মাসে সাতটি, জুন মাসে আটটি, জুলাই মাসে ছয়টি, আগস্ট মাসে ছয়টি, সেপ্টেম্বর মাসে দুটি, অক্টোবর মাসে সাতটি, নভেম্বর মাসে তিনটি, ডিসেম্বর মাসে দুটি এবং চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দুটি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করা হয়েছে।

এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কিছু ঘটনা বিশেষভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত ২২ মে অভয়নগরের ডহর মশিয়াহাটী গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন নওয়াপাড়া পৌর কৃষকদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম। এই হত্যাকাণ্ডের পর ওই এলাকায় মাতুয়া সম্প্রদায়ের প্রায় ২০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। তদন্তে মাছের ঘের নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি চরমপন্থিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।

৯ জুন সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মইন উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই রাতে চৌগাছার পুড়াহুদা গ্রামে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই রবিউল ইসলাম নিহত হন। ১৪ জুন অভয়নগরের নাউলি গ্রামে কুয়েত প্রবাসী হাসান শেখকে গলা কেটে হত্যা করা হয়, যার কারণ হিসেবে পূর্বশত্রুতার কথা জানান নিহতের ভাই। একই রাতে শার্শার দুর্গাপুর বাজারে রাজনৈতিক বিরোধে নিহত হন বিএনপি কর্মী লিটন হোসেন। এর মাত্র চার দিন আগে ঈদের দিন শার্শার ডুবপাড়া গ্রামে ককটেল বিস্ফোরণে প্রাণ হারান বিএনপি নেতা আব্দুল হাই। ওই দিনই ঝিকরগাছার হাড়িয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু সোহানার নিখোঁজ হওয়ার পর পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় নয়ন ওরফে নাজমুস সাকিব নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৯ জুলাই বাঘারপাড়ার ঘোষনগর গ্রামে লেপ-তোশকের স্টিলের বাক্স থেকে সুচিত্রা সেন দেবনাথ নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করে এবং তার স্বামী তপন দেবনাথকে গ্রেপ্তার করে। ১২ জুলাই রাতে যশোর শহরের ষষ্ঠিতলা এলাকায় আশরাফুল ইসলাম বিপ্লব নামের এক যুবককে কুপিয়ে খুন করা হয়। তদন্তে জানা যায়, বন্ধুর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বিয়ে করায় তার ওপর এই হামলা চালানো হয়।

৬ ডিসেম্বর যশোরে গভীর রাতে তানভীর হোসেন নামে এক যুবক খুন হন, যার প্যান্টের পকেট থেকে ৬১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। ১৩ ডিসেম্বর যশোর সদরে প্রকাশ্যে শহিদ নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়, যা পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটে বলে পুলিশ জানায়।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত আলমগীর যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ৫ জানুয়ারি মনিরামপুরে রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮) নামের এক বরফকল ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহত রানা নড়াইল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিডি খবর’ নামের একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও ছিলেন। পুলিশ জানায়, রানা অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার সাবেক শ্রমিকনেতা ওলিয়ার রহমান হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং চরমপন্থি দলের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একাধিক মামলা রয়েছে। নিহতের স্ত্রী সিমা মজুমদার ও মা মাধুবি লতা বিশ্বাস ব্যবসা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বকে এই হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বিচার দাবি করেছেন।

এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “অপরাধ কর্মকাণ্ড ও খুনোখুনি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। প্রকাশ্যে দিনদুপুরে খুনের ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে জেলার বাসিন্দারা আতঙ্কে আছি।”

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার বলেন, “৬২টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অধিকাংশ ঘটনার মোটিভ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং জড়িতদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি যারা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও জানান, “সর্বশেষ বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যার রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। জামাইয়ের পরিকল্পনা ও তার দেওয়া অস্ত্রেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। হত্যায় জড়িত শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুকের জবানবন্দিতে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে এবং তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তও চলছে। ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।” তিনি স্বীকার করেন যে অন্যান্য সময়ের চেয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড কিছুটা বেড়েছে, তবে সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলপিজি আমদানিতে বিশেষ ঋণসুবিধা: ২৭০ দিন পর্যন্ত বাকিতে আনার সুযোগ

যশোরে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি: এক বছরে ৬২ হত্যাকাণ্ডে জনমনে গভীর আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০৮:০৩:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

যশোরে গত এক বছরে ৬২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি করেছে। প্রকাশ্যে দিনদুপুরে খুনসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি এবং পিস্তল, চাকু, ছুরি ও ধারালো অস্ত্রের যথেচ্ছ ব্যবহার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ৬২টি হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। পারিবারিক বিরোধ, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ও পরকীয়ার জেরে এসব হত্যাকাণ্ড ঘটে। যদিও পুলিশ বলছে, অধিকাংশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে এবং জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে চারটি, ফেব্রুয়ারি মাসে তিনটি, মার্চ মাসে ছয়টি, এপ্রিল মাসে ছয়টি, মে মাসে সাতটি, জুন মাসে আটটি, জুলাই মাসে ছয়টি, আগস্ট মাসে ছয়টি, সেপ্টেম্বর মাসে দুটি, অক্টোবর মাসে সাতটি, নভেম্বর মাসে তিনটি, ডিসেম্বর মাসে দুটি এবং চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দুটি হত্যাকাণ্ড রেকর্ড করা হয়েছে।

এসব হত্যাকাণ্ডের মধ্যে কিছু ঘটনা বিশেষভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। গত ২২ মে অভয়নগরের ডহর মশিয়াহাটী গ্রামে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন নওয়াপাড়া পৌর কৃষকদলের সভাপতি তরিকুল ইসলাম। এই হত্যাকাণ্ডের পর ওই এলাকায় মাতুয়া সম্প্রদায়ের প্রায় ২০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। তদন্তে মাছের ঘের নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি চরমপন্থিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে।

৯ জুন সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মইন উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। একই রাতে চৌগাছার পুড়াহুদা গ্রামে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড় ভাই রবিউল ইসলাম নিহত হন। ১৪ জুন অভয়নগরের নাউলি গ্রামে কুয়েত প্রবাসী হাসান শেখকে গলা কেটে হত্যা করা হয়, যার কারণ হিসেবে পূর্বশত্রুতার কথা জানান নিহতের ভাই। একই রাতে শার্শার দুর্গাপুর বাজারে রাজনৈতিক বিরোধে নিহত হন বিএনপি কর্মী লিটন হোসেন। এর মাত্র চার দিন আগে ঈদের দিন শার্শার ডুবপাড়া গ্রামে ককটেল বিস্ফোরণে প্রাণ হারান বিএনপি নেতা আব্দুল হাই। ওই দিনই ঝিকরগাছার হাড়িয়া গ্রামে ১০ বছরের শিশু সোহানার নিখোঁজ হওয়ার পর পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছিল এবং এ ঘটনায় নয়ন ওরফে নাজমুস সাকিব নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৯ জুলাই বাঘারপাড়ার ঘোষনগর গ্রামে লেপ-তোশকের স্টিলের বাক্স থেকে সুচিত্রা সেন দেবনাথ নামের এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ পরকীয়ার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করে এবং তার স্বামী তপন দেবনাথকে গ্রেপ্তার করে। ১২ জুলাই রাতে যশোর শহরের ষষ্ঠিতলা এলাকায় আশরাফুল ইসলাম বিপ্লব নামের এক যুবককে কুপিয়ে খুন করা হয়। তদন্তে জানা যায়, বন্ধুর তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীকে বিয়ে করায় তার ওপর এই হামলা চালানো হয়।

৬ ডিসেম্বর যশোরে গভীর রাতে তানভীর হোসেন নামে এক যুবক খুন হন, যার প্যান্টের পকেট থেকে ৬১ পিস ইয়াবা উদ্ধার করে পুলিশ। ১৩ ডিসেম্বর যশোর সদরে প্রকাশ্যে শহিদ নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়, যা পূর্বশত্রুতার জেরে ঘটে বলে পুলিশ জানায়।

চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে (৫৫) গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত আলমগীর যশোর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ৫ জানুয়ারি মনিরামপুরে রানা প্রতাপ বৈরাগী (৩৮) নামের এক বরফকল ব্যবসায়ীকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে গুলি করে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। নিহত রানা নড়াইল থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক বিডি খবর’ নামের একটি পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকও ছিলেন। পুলিশ জানায়, রানা অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়ার সাবেক শ্রমিকনেতা ওলিয়ার রহমান হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটভুক্ত আসামি এবং চরমপন্থি দলের সঙ্গেও জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, ধর্ষণ ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের একাধিক মামলা রয়েছে। নিহতের স্ত্রী সিমা মজুমদার ও মা মাধুবি লতা বিশ্বাস ব্যবসা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বকে এই হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বিচার দাবি করেছেন।

এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শহরের বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, “অপরাধ কর্মকাণ্ড ও খুনোখুনি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। প্রকাশ্যে দিনদুপুরে খুনের ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে জেলার বাসিন্দারা আতঙ্কে আছি।”

যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার বলেন, “৬২টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে অধিকাংশ ঘটনার মোটিভ চিহ্নিত করা হয়েছে এবং জড়িতদের অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি যারা এখনও গ্রেপ্তার হয়নি, তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।” তিনি আরও জানান, “সর্বশেষ বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যার রহস্য উন্মোচন করা হয়েছে। জামাইয়ের পরিকল্পনা ও তার দেওয়া অস্ত্রেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। হত্যায় জড়িত শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুকের জবানবন্দিতে এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে এবং তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রানা হত্যাকাণ্ডের তদন্তও চলছে। ঘটনায় জড়িতদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।” তিনি স্বীকার করেন যে অন্যান্য সময়ের চেয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড কিছুটা বেড়েছে, তবে সার্বিকভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে।